সুব্রত ঘোষ

Published:
2021-05-06 10:00:15 BdST

তালায় চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে যৌথ বিবৃতি


ডা. সুব্রত ঘোষ
_________________
তালায় চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে যৌথ বিবৃতি

অস্ত্রপচারের সময় অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ঢুকে ডা. অতনু ঘোষ ও ডা. ফারহা ফেরদৌসীসহ সেবিকা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর নির্মম হামলা এবং ওটিসহ সরকারী স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি ভাংচুরের প্রতিবাদে বিবৃতি প্রদান করেছেন সাতক্ষীরা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সুব্রত ঘোষ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পারিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার মহসচিব ডা. মো. মনোয়ার হোসেন।

২০ এপ্রিল মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর সরেজমিনে ঘটনা জানতে এবং লাঞ্ছিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মনোবল চাঙ্গা করতে ২৪ এপ্রিল শনিবার সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সুব্রত ঘোষ -এর নেতৃত্বে ও সমন্বয়ে সাতক্ষীরা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পারিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার মহসচিব সাজ্যিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মো. মনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইউরোলজিস্ট ডা. মো. রাশিদুজ্জামান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পারিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কার্ডিওলজিস্ট ডা. সুমন কুমার দাশ তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন। উল্লেখ্য সকল সংগঠনের ও সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসক নেতাদের এধরণের সমন্বয় পরিদর্শন বাংলাদেশে বেশ বিরল। এসময় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পারিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রাজীব সরদার, ডা. অতনু ঘোষ ও ডা. ফারহা ফেরদৌসী ঐ দিনের হৃদয় বিদারক নির্মম ঘটনা তুলে ধরেন। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এযাবতকাল ঘটে যাওয়া সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নির্যতন, লাঞ্ছনা ও হত্যার বিচার দাবী করেন। চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ পরবর্তীতে তালা উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তারিফ-উল-হাসান সহ উপজেলার সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে এইরূপ ঘটনা পূনরাবৃত্তি না ঘটার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণের আন্তরিক আহবান জানান। তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল চিকিৎসকবৃন্দ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও আলোকপাত করোন তারা।

চিকিৎসক নেতারা বলেন, হাজার রছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তীর বছরে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -এঁর সুযোগ্য, দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে চিকিৎসা খাতসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে আজ রোল মডেল। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্জনের একটা বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে স্বাস্থ্যখাত। এমনকি মহামারী করোনাকালেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এদেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যে ভূমিকা রেখে চলেছেন তা বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে পেশাজীবী হিসেবে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন চিকিৎসকবৃন্দ। বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের সকল প্রগতিশীল আন্দালনেই অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন চিকিৎসকরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে চিকিৎসকদের প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা দেন যা চিকিৎসকরা কৃতজ্ঞতাচিত্তে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। চিকিৎসকদের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ আন্তরিক। এমনই এক পরিস্থিতিতে কিছু দুষ্কৃতকারী কথায় কথায় ঠুনকো অজুহাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের লাঞ্ছিত করে যা এক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। চিকিৎসক লাঞ্ছনা বা হত্যার মত ঘটনায় বিচারহীনতা বা বিচারের দীর্ঘসূত্রতার জন্য জনগণও ভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী লাঞ্ছনা করে সহজেই পার পাওয়া যায় তাই পরোক্ষভাবে তারা হয়তবা উৎসাহই পায়। আমাদেরকে এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে নতুবা এই রকম ঘটনা কমবে না। আমরা চাই প্রতিটি রোগীই সর্বোচ্চ সেবা পাক আর সর্বস্তরের স্বাস্থ্যকর্মীরাও নিরাপদ থাক। চিকিৎসকরাও মানুষ বিধায় ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক, তাঁদের ভুল হলে আইন-আদালত আছে, আছে বিএমডিসি, আছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, আছে নিয়মতান্ত্রিক শাস্তির বিধান। বার বার লাঞ্ছনা বা নির্যাতন কেন? আমদের আছে জনবলের ঘাটতি, ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৪/৫ গুণ রোগী ভর্তি থাকে হাসপাতালে, প্রতিদিন প্রায় ৭/৮ গুণ বেশী রোগীর সেবা দিতে হয় প্রত্যেক চিকিৎসকের। এরপরও চিকিৎসকরা প্রতিনিয়তই হসিমুখে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন যে যার অবস্থান থেকে সাধ্যানুযায়ী। আপনারা যে যার জায়গা থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি সহযোগিতার হতে বাড়ান, সহমর্মিতার আর মমত্ববোধ নিয়ে পাশে দাঁড়ান দেখবেন আমরা আপনাদের সেবায় জীবন উৎসর্গ করে দিতেও কার্পণ্য করবো না। চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক ভাল থাকলেই ভাল থাকবে বাংলাদেশ। আমরা সকলেই প্রত্যাশা করি সুস্থ-সবল-নীরোগ সাতক্ষীরা আর বাংলাদেশ। সাথে থাকুন, আস্থা রাখুন।

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়