ডেস্ক

Published:
2021-04-24 11:04:46 BdST

সবার প্রিয় ডাক্তার অধ্যাপক শামসুজ্জামান তুষার নেই



ডেস্ক
--------------------------
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরী মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান তুষার আর নেই।

 

ডাক্তার প্রতিদিন সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিদ্যার প্রফেসর ডা সুলতানা আলগিন এক শ্রদ্ধা এপিটাফ এ গভীর শোক প্রকাশ করেন।
বলেন, এ বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। চিকিৎসক সমাজের জন্য শোকাবহ দিন। তিনি লোকসেবা করতেন অক্লান্ত ।
সেবাকে তিনি পরম ধর্ম মানতেন। এমন সেবাধর্ম পালনকারী সমকালে দেশে বিরল। তিনি বিরল প্রজ।
তার মহাপ্রয়াণ গভীর শূণ্যতা সৃষ্টি করবে।

 

বাংলা দেশের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ডা সুকুমার সুর রায় বলেন,অধ্যাপক ডাক্তার একেএম শামসুজ্জামান তুষার ছিলেন পরিচালক ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার।
তিনি শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাই ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন কবি, একজন ধর্ম পরায়ন, অমায়িক, মানবিক মানুষ।
কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পরে কেমন করে যেন বুঝে ফেলেছিলেন যে তিনি আর ফিরবেন না। নিজের সন্তানদের কাছে চিঠিতে কীভাবে কোথায় তার কবর দেওয়া হবে তার দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
আজ সকালেই তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
গভীর শোক প্রকাশ করছি। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

শোকাভিভূত সহকর্মী রা জানান,
করোনায় বাংলাদেশে যে ল্যাবে সর্বোচ্চ পরিমান টেস্ট হত এবং একদম শুরু থেকে যে প্রতিষ্ঠানটি সব থেকে বেশি সহযোগিতা করে আসছিল এমনকি যার পরিচালনায় এই পুরো কাজটি সম্পন্ন হত, তিনিও আজ করোনার কাছে হেরে গিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে ।

ডা ফারুক মোহসীন শোক এপিটাফ এ জানান,
বলতেন" ফারুক পাঠাই দাও।আমিতো আছি"

এখনও কানে বাজে কথাটা।

ঢাকার বেশিরভাগ মানুষের করোনা টেষ্ট বোধ করি স্যারের ল্যাবই হয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরী মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান তুষার স্যার করোনায় আক্রান্ত হয়ে আজ দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন।


করোনা কালীন সময়ে ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে কাজ করার সময় স্যারের সাথে পরিচয়।কি অমায়িক ব্যাক্তিত্ববান মানুষ।

তখন একাই মনে হয় করোনার সব টেষ্ট উনার ল্যাব এ করিয়ে দিতেন।রাত নাই,দিন নাই স্যারকে অনেক বিরক্ত করতাম।স্যার,রিপোর্ট পাইনি স্যার, স্যার,ভি আইপি রোগী বাসায় পাঠাতে হবে টেকনিশিয়ান,এমনকি ডাঃদের পরিবারের জন্য বিএমএ আয়োজিত বুদের দায়িত্ব পালনের সময় সেই তুষার স্যারই হেল্প করেছিলেন।
ঢাকা শহরের করোনা টেষ্টের দায়িত্ব একাই নিজের কাধে নিয়েছিলেন।

পরবর্তিতে,ডিএনসিসিতে বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা টেষ্টের দায়িত্ব পালনের সময় একই অবস্থা, সেই তুষার স্যার। Dr.moinul Ahsan Bappi স্যার, আপনি বলতেন ফারুক,তুষার স্যার আছেন,উনি সব সামলে নিবেন। কি একটা আস্থার জায়গা ছিলেন স্যার।
ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, কি বলব! স্যার,কোন দিন না করেন নাই।
দেশ একজন হিরো, দেশপ্রেমিক, অসাধারণ মানুষকে হারালো। এই ক্ষতি পোষাবার নয়।
স্যার নিজের জীবনটাই দিয়ে দিলেন সেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে।

ডা ফয়সাল রাহাত লিখেছেন,

অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান তুষার একজন চিকিৎসক, জনপ্রিয় শিক্ষক, মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং দক্ষ প্রশাসক। তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ কোভিড পরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান "ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার"-এর পরিচালক। গতবছর যখন বিভিন্ন কারণে দেশে পর্যাপ্ত কোভিড টেস্ট করা যাচ্ছিল না, তখন তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানে দেশের প্রায় অর্ধেক কোভিড টেস্ট করান! নিজে প্রতিষ্ঠান-প্রধান হয়েও প্রায়ই ল্যাবে উপস্থিত হয়ে সবাইকে উৎসাহিত করতেন।

উল্লেখ্য, তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে IPGMR হতে 'মাইক্রোবায়োলজি' বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে 'স্বাস্থ্য প্রশাসন' বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার পূর্বে তিনি বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এছাড়া, তিনি IEDCR এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবেও বেশ কিছু দিন দায়িত্ব পালন করেন।


ডা মইনুল আলম সাবেরী শুভ জানান,সবার প্রিয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরী মেডিসিন এন্ড রেফারেল সেন্টার এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান তুষার স্যার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। । ব্যাক্তিগত কোন পরিচয় নেই উনার সাথে আমার বা কখনো আমার শিক্ষক ও ছিলেন না। বিভিন্ন গনমাধ্যমে উনার কথা শুনে শুনে দেখতে দেখতে উনার ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম। আর করোনা প্যান্ডেমিক শুরু থেকে বাংলাদেশের জন্য উনার অবদান মুখে বলা শেষ করা যাবে না। ভালো থাকবেন স্যার।

 

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়