DESK

Published:
2026-01-17 19:53:39 BdST

তিনি তার দুদিন পর আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন


 

বি এম আতিকুজ্জামান
লেখক ও চিকিৎসক
___________________________

·
আমি তো ক‍্যাপলানের লাইব্রেরীতে রতন ভাইকে দেখে অবাক। সেই হাসি ভরা ফর্সা মুখ। অল্প কথায় জানালেন আমেরিকার মেডিকেল লাইসেন্স পরীক্ষা পাশ করেছেন। পার্ট টাইম ট‍্যাক্সি চালান। তাতে খরচটা উঠে যায়। বললেন ভাইয়ের বাড়িতে আছেন। বাসার ঠিকানাটা দিলেন। রোববারে রাতে খাবার দাওয়াত দিলেন ।
রতন ভাইয়ের ভাইয়ের বাড়িতে যেয়ে দেখলাম তারা সবাই দেশে বেড়াতে গেছেন। তিনি নিজেই রান্না করেছেন। খিচুড়ি, ইলিশ ভাজা এবং খাসির মাংস। অবাক হলাম তার রান্নার হাত দেখে।
সময় নষ্ট না করেই আমাকে জানালেন কিভাবে তাড়াতাড়ি পরীক্ষা পাশ করতে হবে। ভেটেরান হাসপাতালের একজন অধ্যাপক, পিটার ফিন্চের খবর জানালেন তিনি। সেখানেই আমার ক্লিনিক্যাল এটাচমেন্ট শুরু হলো। রতন ভাইয়ের নিজ থেকে যেচে পড়ে পরোপকার করার একটা অসাধারণ গুন ছিল । আমি তার কাছে চির কৃতজ্ঞ।
সেদিন জানালেন তাঁর প্রেমিকার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে। রেসিডেন্সি পেলেই তিনি দেশে যাবেন।কিছু কিছু মানুষকে দেখলেই মনে হতো তিনি প্রেম করতে পারবেন না। সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক । তবে কারো সাথেই গভীরে কোন সম্পর্ক নেই । তেমন একজন মানুষ ছিলেন রতন ভাই ।
রতন ভাই কাজ পাগল মানুষ ছিলেন।যাকে বলে ম‍্যান ইন মিশন।লেখাপড়ার পাশাপাশি সন্ধানী করতেন এবং লিও ক্লাব করতেন। রাজনীতির ধার পাশ দিয়ে যেতেন না।তার কাজের জন‍্য লিডারশিপ পজিশনটা এমনি এমনিই চলে আসতো।
রতন ভাই খানিকটা নিঃশব্দে মেডিকেল কলেজের গন্ডি পেরিয়ে চলে গেলেন। আর দেখা হলো না। আমিও মেডিকেল কলেজের পাঠ চুকিয়ে আফ্রিকা ঘুরে নিউ ইয়র্কে এলাম। ভাগ্য আমাদের মিলিয়ে দিল ।
এরপর আরেকদিন ডাকলেন আমাকে তার বাড়িতে। বললেন, রেসিডেন্সির এপ্লিকেশন প‍্যাকেজ রেডি করতে হবে। বললেন এসে দেখে যাও প্রসেসটা। সেদিন মুড়িঘন্ট খেয়েছিলাম তার বাড়িতে। একই সাথে শিখেছিলাম কিভাবে এপ্লিকেশন করতে হবে।
আমাদের বিয়েতে দাওয়াত দিতে গেলাম তাকে। আসতে পারেননি। শুনলাম দেশে যাচ্ছেন। মৃদু হেসে বলেছিলাম বিয়ে করবেন তো? তিনি সেই পরিচিত হাসিটা দিলেন।সেটাই শেষ দেখা।
ব্রুকডেল হাসপাতালে রেসিডেন্সি পেয়েছিলেন। রেসিডেন্সি শুরু হবার কদিন আগেই হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন বাসায়।জানতাম না তার ব্রেনে কলয়েড সিষ্ট ছিল। সার্জারি করার কথা ছিল।ভেবেছিলেন রেসিডেন্সিতে ঢুকে তিনি অপারেশনটা করাবেন। তার আগেই আংকাল হার্নিয়েশন হয়ে গেল।বেশ কিছুদিন আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেটরে ছিলেন।
আই সি ইউ তে তার বেডের পাশে আমার নববধুকে নিয়ে গিয়েছিলাম। রতন ভাইকে বলেছিলাম, ভাই আপনাকে ধন‍্যবাদ। সিলভিকে দেখাতে নিয়ে এসেছিলাম।
তিনি তার দুদিন পর আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন। তার নববধুর কথাটা জানা হয়নি।
#

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়