SAHA ANTAR

Published:
2020-10-08 11:18:49 BdST

জরুরী, খুব জরুরী ৮টি বিষয়


 

ডেস্ক / জনসচেতনতা জ্ঞাপন
___________________

ধরা যাক এক সকালে আপনি ভয়ঙ্কর কাশি, একটু জ্বর এবং সারা গায়ে ব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে উঠলেন । দেরি না করে তক্ষুনি , আপনি চিকিৎসকের কাছে ছুটে গেলেন এবং দুর্ভাগ্যক্রমে, পরীক্ষা করার পর দেখা গেল আপনি COVID-19 আক্রান্ত হয়েছেন ।
মুশকিলটা হলো কয়েকদিন আগেই আপনি সংক্রামিত হয়েছিলেন এবং আপনি সেটা জানতেনও না তাই কোভিড সংক্রান্ত নিয়মগুলি নির্দ্বিধায় উপেক্ষা করেছেন!
যেমন,
১.
আপনি কখনোই মাস্ক পরা পছন্দ করেন না, বড্ড অস্বস্তি হয় !

২.
আপনি স্মোক করেন , ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে একসঙ্গে চায়ের দোকানে বসে আড্ডাও মারেন , এবং হ্যাঁ মাস্কটা মুখ থেকে গলায় নামিয়েই !
অফিসে একসঙ্গে বসে সহকর্মীদের সঙ্গে পিৎজা খেয়েছেন, বন্ধুদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়েছেন, স্বাভাবিক ভাবেই মাস্ক ছাড়াই, কারণ খাওয়ার সময় তো আর মাস্ক পরা যায় না !
৩.
আপনি ভেবেছিলেন, "আমি অসুস্থ বোধ করছি না। অতএব স্বাভাবিক জীবনযাপন করার অধিকার আমার আছে। আমাকে কী করতে হবে তা কেউ বলতে পারে না। "
৪.
কোভিড হয়েছে এটা জানার পর আপনি ফেসবুকে স্টেটাস আপডেট করে কয়েকশো লাইক, স্যাড ফেস ইত্যাদি পেলেন, নিয়ম মেনে পরের কিছু দিন বাড়িতে একটা আলাদা ঘরে বিছানায় শুয়ে দিন কাটালেন , অনেক গুলো ওয়েব সিরিজ দেখে ফেললেন, আপনার ঘরের সঙ্গে টয়লেট আছে, বাইরে যেতেও হলো না ।আপনার খাবার দরজার বাইরে রেখে দেওয়া হচ্ছে, আপনি নিজের জামাকাপড় নিজেই কেচে নিলেন, সেটাও ফেসবুকে লিখে লাইক পেলেন এবং অবশেষে আপনি আবার সুস্থ হয়ে উঠলেন ! কারণ আপনি যুবক, স্বাস্থ্যবান এবং শক্তিশালী।

৫.
আপনি ভাগ্যবান, তবে আপনার বান্ধবী ততটা ভাগ্যবান নন যিনি আপনার বাড়িতে যাওয়ার সময় অসুখটি আপনার কাছ থেকে পেয়েছিললেন এবং তিনিও জানতেন না যে তিনি সংক্রামক, তাই তিনি তাঁর ৮২ বছর বয়সী দাদুর সাথে দেখা করেছিলেন , যাঁর আবার সিওপিডি রয়েছে এবং যাঁর হৃদযন্ত্র দুর্বল। সেই বৃদ্ধ, তার ছোঁয়াচে অসুস্থ হন এবং মারা যান ।
আপনার সহকর্মী, যাঁর হাঁপানি আছে, অফিসে আপনার কাছ থেকে একটুকরো পিৎজা নিয়েছিলেন, একসঙ্গে বসে খেয়েছিলেন তিনি আপনার মত ভাগ্যবান নন, তিনি আইসিইউতে রয়েছেন, এবং তিনি এটি তার পরিবারের কয়েকজনকেও ছড়িয়ে দিয়েছেন, তবে তাঁরাও আরও কয়েক দিন হয়ত সেটা জানতে পারবেন না।
৬.
আপনি যে রেস্টুরেন্টে খেয়েছিলেন, সেখানকার ক্যাশিয়ার আপনার কাছ থেকে পাওয়া সংক্রমণটি তার স্ত্রীর কাছে নিয়ে যান, যিনি আবার ক্যান্সার সার্ভাইভার ! তিনি আপনার মতো ভাগ্যবান নন, তাই তাঁকে শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল । এই মুহুর্তে তিনি ভেন্টিলেশনে এবং তিনি মেশিনে ঘেরা অবস্থাতেই মারা যেতে পারেন, তার পরিবার তাঁর রোগশয্যার পাশে থাকা দূরে থাক মৃতদেহ সৎকারের অনুমতিও পাবেন না !
৭.
এই সবগুলির কারণ আপনি !
কারণ আপনি কখনোই মাস্ক পরা পছন্দ করেন নি , আপনার মাস্ক পরতে বড্ড অস্বস্তি হয় !
আপনি আপনার পরিচিত রুটিনগুলি পরিবর্তন করার প্রয়োজন অনুভব করেন নি ।
কারণ, আপনি অসুস্থ বোধ করছিলেন না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করার অধিকার আপনার আছে। এবং আপনাকে কী করতে হবে তা কেউ বলতে পারে না!
৮.
একবার ভেবে দেখুন !
#সোশ্যালডিস্ট্যানসিং -শুধু নিজের সুরক্ষার জন্যই নয় !
#মাস্কপরুন-শুধু নিজের সুরক্ষার জন্যই নয় !
#খুবপ্রয়োজনছাড়াবাড়িতেইথাকুন-শুধু নিজের সুরক্ষার জন্যই নয় !
#পরীক্ষাকরান- শুধু নিজের সুরক্ষার জন্যই নয় !

 

লেখাটি যার সৌজন্যে পাওয়া গেছে ---
ডা. সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়
সুলেখক । কবি।
Diabetes & Endocrinology Consultant
M.D. at University of Madras । প্রাক্তন :
Calcutta National Medical College and Madras Medical College (MMC

___________________

 

ADD.

সৌজন্যে
ডা. সুলতানা এলগিন


সহযোগী অধ্যাপক
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় , ঢাকা

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়