Ameen Qudir

Published:
2020-04-07 12:25:28 BdST

করোনা: ২৪ ঘন্টার ডাক্তার আমাদের সুব্রত ঘোষ"


প্রয়াত ভারত রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবুল কালামের সান্নিধ্যে ডা. সুব্রত ঘোষ । ফাইল ছবি



আরিফ মাহমুদ

প্রাণঘাতক করোনা ভাইরাসে টালমাটাল পুরো বিশ্ব। এর ছোঁয়া লাগতে শুরু করেছে বাংলাদেশেও।
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ও নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নানান পদক্ষেপ নিয়েছে। বসে নেই রাজনৈতিক-সামাজিক-পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ অনেক মানুষও। দেশব্যাপী অঘোষিত লকডাউনে প্রায় সবকিছুই বন্ধ। নাগরিকদের নিজ বাড়িতে থাকার সরকারি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এমনই পরিস্থিতিতে মহতী ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার সুব্রত ঘোষ। সাতক্ষীরার এই কৃতি সন্তান রাজধানী ঢাকায় চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থাকলেও একাধারে তিঁনি একজন সমাজসেবী ও উন্নয়নকর্মী। আর্তমানবতার সেবায় আগেও যেমন উদ্যোগী ছিলেন ঠিক তেমনি বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারলেন না। ঘোষণা দিলেন ঘরে থেকেই ২৪ ঘন্টা মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবেন। অনলাইনের বিশ্বায়নের এ যুগে ভিডিও কনফারেন্স, ভিডিও লাইভে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন প্রণয়নসহ চিকিৎসাসেবা দেয়ার চেষ্টা করবেন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে।

এ বিষয়ে ইতোমধ্যে তিঁনি তাঁর ফেসবুক পেজে স্টাটাসও দিয়েছেন। সেখানে তিঁনি লিখেছেন-
"আমি আমার ফোনটি খোলা রাখবো ২৪ ঘন্টা। কারো কোন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে আমাকে ফোন করতে পারেন বা মেসেজ লিখতে পারেন বা ম্যাসেঞ্জারে নক দিতে পারেন যেকোনো সময়। প্রয়োজনে আপনার সাথে ম্যাসেঞ্জারে ভিডিও কলে কথা বলে নেবো। আমি আপনাকে এসএমএস বা ম্যাসেঞ্জারে প্রসক্রিপশন লিখে পাঠাবো। আমরা সম্মিলিতভাবে করোনাকে রুখে দেবো। : ডাক্তার সুব্রত ঘোষ, 01711031984."

তাঁর এই উদ্যোগকে ইতোমধ্যে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন, দিয়েছেন অভিবাদন।

বাপ্পাদিত্য বসু নামে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী কমেন্টসে লিখেছেন-
"Dr. Subrato Ghosh, আমাদের ২৪ ঘণ্টার ডাক্তার।
রাত বারোটা, কোনো শারীরিক সমস্যা, ফোন: সুব্রত দা, এই সমস্যা, কী করবো? পেয়ে গেলাম সাজেশন।
সক্কালবেলা, ছেলের শরীর খারাপ, ফোন: দাদা, ওই সমস্যা, কী করবো? পেয়ে গেলাম সাজেশন।
আমার ছেলে প্রিয়মের জন্মের চারদিনের মাথায় জন্ডিস ধরা পড়ে হাসপাতালেই। প্রোপার ট্রিটমেন্ট আজিমপুর ম্যাটারনিটিতেই (সরকারে হাসপাতাল) হচ্ছিলো। তবু খবর পেয়ে ছুটে আসেন ডা. সুব্রত। নিজে চেক করেন ট্রিটমেন্ট ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা! তারপর তার স্বস্তি।
দেশের বাইরে যাচ্ছি। এদিকে ছেলে অসুস্থ। বিমান উড়বে, অন বোর্ড তাকে ফোন: দাদা, এই তো সমস্যা, কী করি? উত্তর: ও আপনার ভাবা লাগবে না। বৌদির নম্বর আমাকে দেন, বাকিটা আমার উপর ছাড়েন। বিদেশে আমি নিশ্চিন্ত, এখানে দায় তার।
ডাক্তারির বাইরেও বহু সামাজিক কাজে সারাদিন নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। আমাদের সংগঠন Youth for Democracy & Development (YDD) এর সহ সভাপতি।
আমার বন্ধু, আমার ব্যাচমেট, আমার ভাই ডা. সুব্রত এই দুঃসময়ে নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করে রোগিদের পাশে থাকছেন ২৪ ঘণ্টা।

ডাক্তার সুব্রত ঘোষ বলেন, 'আসুন আমরা করোনাভাইরাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে ঘরে থাকি! স্বাধীন দেশটাকে বাস্তবেই পরিণত করি করোনাভাইরাসমুক্ত সুখি কল্পনার এক রাজ্যে!'

তিঁনি আরো বলেন, 'আমরা একা কেউ চাইলেই ভালো থাকতে পারব না। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে, আর সবাইকেই সাবধান রাখতে হবে। এজন্য আমার এই ছোট্ট উদ্যোগ।'

ডাক্তার সুব্রত ঘোষের গর্বিত পিতা ও স্ত্রীও চিকিৎসক। তাঁরাও এ কাজে সহায়তা দিচ্ছেন পুরোদমে।

তিঁনি জানান-
"মানুষের জন্য নিয়ম মেনে চলুন"।
মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্ক বেশ ভালোভাবেই ছড়িয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই এরই মধ্যে নিজেদের ঘরবন্দি করেছে। স্বাধীনতা দিবসের সব সমাবেশ স্থগিত ঘোষণার পর ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগেই সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে এই ছুটি আরো বাড়ানো হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে ছুটি ঘোষণার পর এবার সড়কপথে গণপরিবহন, নৌপথে লঞ্চ এবং রেলপথে মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। লকডাউনের ঘোষণা না হলেও মানুষের চলাচল সীমিত করে একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করার পন্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় সিভিল প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে চায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও নিয়ম মানতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, ধৈর্য ধরে ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। কিন্তু এই অঘোষিত লকডাউনের প্রভাব পড়বে জনজীবনে। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় আয় কমে গেছে রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসচালকদের। দিনমজুরদের কাজও গেছে কমে। অনেক দিনমজুর ঢাকা ছেড়ে এরই মধ্যে বাড়িতে চলে গেছে। সব বিপণিবিতান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সামনের দিনগুলোতে অন্ধকার দেখছে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। পরিবহন শ্রমিক ও পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছোট পুঁজির উদ্যোক্তাদেরও আয় কমে গেছে। ওদিকে পর্যাপ্ত মজুদের পরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অভিযান, নজরদারি, জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এই অসাধু ব্যবসায়ীদের। করোনায় আতঙ্কিত মানুষ কেনাকাটা কিছু কমালেও কমছে না প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দাম। স্বস্তির খবর নেই নিত্যপণ্যের বাজারে।

গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধসহ আরো অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জনস্বার্থে। মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে সবার আগে। আবার সরকারকেও মনে রাখতে হবে স্বল্প আয়ের মানুষের কথা। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রমাণ করি ‘মানুষ মানুষের জন্য’।

আবেগ আপ্লুত কন্ঠে ডাক্তার সুব্রত ঘোষ বলেন,
বিশ্বের সব দেশের বড় কোম্পানিগুলো ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে দাঁড়ায় আর আমাদের দেশে সংকট তৈরি করে কিভাবে অর্থ লুট করা যায় এই ধান্দায় থাকে।
_____________________
লেখক: প্রভাষক, বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ, কলারোয়া, সাতক্ষীরা ও সম্পাদক, কলারোয়া নিউজ ডটকম

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়