Ameen Qudir

Published:
2019-11-19 11:16:09 BdST

চট্টগ্রাম মেডিকেলে আবারও লিফট ছিঁড়ে পড়ল: বড় ট্রাজেডি না ঘটলে কি টনক নড়বে না!


ডা. রেজা হোসেন রাজু
__________________________

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আবারও লিফট ছিঁড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বড় ধরণের দূর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেলেন লিফট যাত্রীরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডা. মো. মনোয়ারুল হক বলেন ,
এটা হাসপাতালের মেইন লবির বড় লিফটটা। বহু বছরের পুরাতন ব্যারাম। ওভারলোড হলে নামার সময় নীচে বসে যায়। তখন লাঠি দিয়ে বিশেষ ম্যাকানিজমে লিফটম্যানরা উদ্ধার করে। অনেক পুরাতন ব্যারাম।
প্রশ্ন হল , এই লিফট সারানো হচ্ছে না কেন! বা নতুন লিফট লাগানো হচ্ছে না কেন! বড় ধরণের ট্রাজেডি না ঘটলে আমাদের টনক নড়ে না। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ঘটনার পর বলতেই হয় , আমরা কি কোন বড় ট্রাজেডির অপেক্ষায় আছি। এটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দেশের শীর্ষ হাসপাতাল। হাজার হাজার রোগী, ডাক্তার প্রতিদিন লিফট ব্যবহার করেন। এরকম শীর্ষতম জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এই অবহেলা , অযত্ন কোন ভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয়। প্রথম আলোয় পড়লাম, ""হাসপাতালের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম বলেন,লিফট ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা আমাকে কেউ বলেনি। আমি খোঁজ নিচ্ছি।"'
আশ্চর্য হতে হয় এই কর্মকর্তাদের কথাবার্তায়। ওনাকে কেউ বলে নাই। বললে তবে জানবেন। হাসব না কাঁদবো!

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডা. মো. শাহেদিন নাসরুল্লাহ শহীদ বলেন ,
খবরের কাগজে পড়লাম , আমাদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনা ঘটেছে । তাতে আমাদের দুজন ডাক্তার ভাই ( ডা: খুরশিদ জামিল , ডা: শাহাদাত হোসেন ) ছিলেন । এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন । বিপদ তো বলে কয়ে আসেনা ।

ওদিকে মিডিয়া সাংবাদিকদের দেয়া খবরে জানান যায়, লিফটে এসময় বিএনপির নেতারা ছিলেন।

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় বিস্ফোরণের পর দেয়ালধসে আহতদের দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দোতলা থেকে লিফট ছিঁড়ে পড়ে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা। ১৮ অক্টোবর ২০১৯সোমবার দুপুরের এই ঘটনায় অবশ্য কেউ তেমন আহত হননি।

দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের মাঝখানের একটি লিফটে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় লিফটে আমীর খসরুর সঙ্গে নগর বিএনপির সভাপতি শাহদাত হোসেন, বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি খুরশিদ জামিল চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, ‘আহতদের দেখে পাঁচতলার অর্থোপেডিক বিভাগ থেকে আমরা লিফটে নামছিলাম। দোতলায় এসে লিফট ছিঁড়ে দ্রুত নেমে যায়। নিচতলায় বিকট শব্দে পড়ে যায়। লিফটটি নিচের ফ্লোরের আরও এক হাত নিচে চলে যায়। পরে দরজা আটকে যায়। অনেক কষ্টে আমাদের বের করা হয়। ’

ডা.শাহদাত হোসেন বলেন, যদি আরও ওপর থেকে ছিঁড়ে যেত তাহলে ভয়াবহ বিপর্যয় হতো। আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছি। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম বলেন, লিফট ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা আমাকে কেউ বলেনি। আমি খোঁজ নিচ্ছি।

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়