Ameen Qudir

Published:
2019-10-28 21:24:15 BdST

রোগীদের বসার স্থান না থাকলে ডাক্তারকে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা! কী হাস্যকর কথা! ডাক্তাররা কি হাসপাতাল বানায়!



ডা. জোবেদা খাতুন শম্পা
______________________

রোগীদের বসার স্থান না থাকলে ডাক্তারকে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা! স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের এরকম ধারায় বাংলাদেশের ডাক্তার সোসাইটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে দেশের বেশির ভাগ বড় হাসপাতালে ডাক্তাররাই বসার জায়গা পান না, সেখানে তারা রোগীদের পরম আদরে কোথায় বসাবেন।
আর বিএসএমএমইউ, ঢাকা মেডিকেল, মিটফোর্ড, সোরাহ ওয়ার্দী হাসপাতালে রোগীর ঢল। তাদের সঙ্গে আত্মীয়দের মহাসমাবেশ । সেই মহাসমাবেশকে কোথায় বসতে দেবেন ডাক্তাররাা। আর এটা কি ডাক্তারদের দায়িত্ব!! তারা হাসপাতাল বানান কি ! সরকার হাসপাতাল বানায়, তারারোগীদের বসার জন্য বিশাল বিশাল হল রুম বানায়, রোগীদের আত্মীয় স্বজনদের শোয়ার থাকার খাওয়ার জায়গা করে দেয়, ডাক্তারদের অসুবিধা কি। তবে সরকার বাহাদুর সেটা করার পাশাপাশি ডাক্তারদের বসার জন্য যেন জায়গা করে দেন।
অধ্যাপক ডা. একেএম রেজাউল করিম প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন,

একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেইন লবিতে রোগীর আত্মীয় স্বজন দিন দুপুরে যদি শুয়ে শুয়ে আড়মোড়া ভাংগে তবে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে কোন জরিমানার বিধান কি থাকবে!!!


অবাক হলাম স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন-২০১৯-এর খসড়া সম্পর্কে জেনে। শুনলাম, আইনটির মতামতের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, চিকিৎসা কেন্দ্রে যদি রোগীর বসার স্থান না থাকে তা হলে ডাক্তারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
সেবাগ্রহীতাকে টাকার রসিদ না দিলে বা সার্ভিস চার্জ মূল্য হাসপাতালে সংরক্ষণ করা না হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড হবে।
এবারে আইনের কথা পড়ুন।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো চিকিৎসক তার নির্ধারিত অফিস টাইমে ব্যক্তিগত কোনো চেম্বার করতে পারবেন না। একইভাবে বেসরকারি কোনো হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র সরকারি চাকরিতে কর্মরত কোনো ব্যক্তিকে অফিস সময়ে সেবা প্রদানের জন্য নিয়োগ করতে পারবে না। কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠান সরকারি ডাক্তারকে তার প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখার সুযোগ দিলে ওই প্রতিষ্ঠান বা মালিককে ৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড বা তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হবে।

এছাড়াও বলা হয়েছে, সরকারি হাসপাতাল প্রদত্ত সেবা এবং রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা মূল্য বা ফি পৃথকভাবে নির্ধারণ করবে। চিকিৎসকের ফি, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার চার্জ বা মূল্য বা ফি’র তালিকা হাসপাতালের বা চেম্বারের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। চিকিৎসাসেবা বাবদ আদায়কৃত চার্জ বা মূল্য বা ফি রসিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত আইনটির আগে নাম ছিল ‘রোগী সুরক্ষা আইন’। ওই খসড়ায় বলা ছিল, অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় মামলা করা যাবে। কিন্তু বর্তমান খসড়ায় এই অংশটুকু বাদ দেয়া হয়েছে।
এই আইনের যে কোনো ধারা লঙ্ঘন করলে বা লঙ্ঘনে প্ররোচনা দিলে বা সহযোগিতা করলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়