Ameen Qudir

Published:
2019-10-16 11:35:58 BdST

যে কারণে এফসিপিএস ট্রেনিং ৫ বছর করলো বিসিপিএস



ডেস্ক
______________________

এফসিপিএস শিক্ষার্থীদের সকল বিষয়ের ট্রেনিং পাঁচ বছর করেছে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস)। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে ট্রেনিং পিরিয়ড বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ। কেন এই ৫ বছর, তা নিয়ে সব শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। তা নিরসনেই এই প্রতিবেদন।


১৪ অক্টোবর ২০১৯ বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জন্স-এর অনারারী সচিব অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেনিং বাড়ানোর কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি বা তার পরে এফসিপিএস পার্ট-১ পরীক্ষায় পাসকৃত এফসিপিএস ট্রেইনিদের ফেলোশিপ প্রোগ্রামের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক পাঁচ বছর করা হলো। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য বিসিপিএস কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বা তাদের ওয়েব সাইটে ভিজিট করতে বলা হয়েছে।
এফসিপিএস বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ান্স (বিসিপিএস) কর্তৃক প্রদত্ত ফেলোশিপ ডিগ্রী। ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর একজন চিকিৎসক এফসিপিএস পার্ট ওয়ান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। পার্ট-১ পাশ করার পর নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণের পর দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হতো। এতদিন এই প্রশিক্ষণ অধিকাংশ বিষয়ের জন্য চার বছর করে বাধ্যতামূলক ছিলো। শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে (কার্ডিওলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, অর্থোপেডিক্স, কোলোরেক্টাল সার্জারিসহ ব্রাঞ্চের বিষয়গুলোতে) প্রশিক্ষণ পাঁচ বছর বাধ্যতামূলক ছিলো। এই নোটিশের মাধ্যমে সব বিষয়ে এখন থেকে প্রশিক্ষণ পাঁচ বছর করে চালু হলো।


কেন এই ৫ বছর তা নিয়ে বিসিপিএস আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, এফসিপিএস অত্যন্ত সম্মানজনক একটি ডিগ্রি। এর মান উপমহাদেশের মধ্যে অন্যতম সেরা। ভারতের সেরা মেডিকেল ডিগ্রির তুলনায় কোন অংশে কম নয়। এক সুশৃংখল পদ্ধতি এবং সুনিয়ন্ত্রিত শিক্ষণ ও পরীক্ষণ পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে এই ডিগ্রি দেয়া হয়। বাস্তবে এটি বিশ্বমানের যে কোন সেরা ডিগ্রির চেয়ে কোন অংশে কম নয়। এই ডিগ্রি অর্জন করলে একজন ডাক্তার প্রকৃত বিশেষজ্ঞতে পরিনত হন, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই কারও। প্রচন্ড কষ্ট হলেও ডিগ্রিটি নিতে সবাই তাই সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। অনেকে বেশী সময় ব্যয় করে হলেও এটা হাসিল করেন।
উল্টো পিঠে অন্য বাস্তবতাও আছে। বিসিপিএস পাকিস্তান জমানায় প্রতিষ্ঠিত। এখন শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এই ডিগ্রি প্রচল আছে। তাই বৈশ্বিক পর্যায়ে এটা বেশ পরিচিত নয়।
ভারতবর্ষে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমডি , এমএস ডিগ্রি চালু। বাংলাদেশেও তা চালু আছে। সেটির সময় কাল ৫ বছর। তাই বিশ্ব মান সমন্বয়ের জন্য এফসিপিএস সময়কাল ৫ বছর করা হয়েছে। এতে করে মর্যাদাপূর্ণ ডিগ্রিটির সম্মান আরও বাড়বে। সর্বত্র গৃহীতও হবে।


এ বিষয়ে  অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী জানান, যেহেতু এর আগে বেশ কয়েকটি বিষয়ে পাঁচ বছর ছিলো, এখন বাকিগুলোও পাঁচ বছর করে সমান করে দিয়েছে। কিছু সাবজেক্টে চার বছর থাকবে, আবার কিছুতে পাঁচ বছর থাকবে এটা এটা একটু অন্যরকম দেখায়, এটা ছাত্রদের জন্য খুব বেশি সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।

মিশ্র প্রতিক্রিয়া
_______________

শজিমেক-১৩ ডা. জুবায়ের হাসান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
আসুন একবারের জন্য হলেও ডাক্তাররা...এক হন।
এবার FCPS Part-1 এর form fillup করা +ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
( ৪ বছর করার দাবিতে)
১০০% না হোক...৭০% - ৮০% এক হলেই..
বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ আবার চিন্তা করবে।
ডা. লিয়াকত আলী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এম বি বি এস ডা.দের কাজ সারাজীবন পড়াশুনা করা আর degree নেয়া।কারন রুগী দেখার দায়িত্ব ডিএম এফ আর কোয়াকদের।
ডা. লুৎফুল কবির বলেন, , আমার ধারনা পাঁচ বছর ট্রেনিং করা হয়েছে এমডির সমমান দেখানোর জন্য। কিন্তু এম ডিতে থিসিস করতে হয়, সেটাতে ৩ বছরের আলাদা ফেজ করা। এখানে এরকম ব্যবস্থা থাকবে কি না? নাকি গতানুগতিক ট্রেনিং চলবে তা স্পষ্ট নয়।

 

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়