Ameen Qudir

Published:
2019-09-25 09:11:41 BdST

মাল্টিফ্যাকটোরিয়াল পরীক্ষায় তোমার অংশগ্রহণ নাকি অসহায় আত্মহনন :কোনটা যুক্তিযুক্ত?


ডা. আদিল রানা,

মেডিসিন কনসালট্যান্ট

_______________________________

 

পোষ্ট গ্রাজুয়েশন ফাইনাল পরীক্ষা। আমরা ০৪ জন দু' বছরের নিরন্তর চেষ্টার পর সেই মাহেন্দ্র দিনের সকালে রাজ্যের অস্থীরতা আর ধপাস ধপাস বুক কাপানি নিয়ে শেষ করলাম। বিকেলবেলা আমাদের রেজাল্ট বেরুলো। একজন পাশ আর আমরা বাকি তিনজন ফেল। দিশেহারা, বুকে চাপা কষ্ট। স্ত্রী, সন্তান, পরিবার নিয়ে অজানা ভয়, অসহায়ত্বের যন্তনায় কাতর আমার সারাদিন না খাওয়া শুকনো মুখ আর বিগত ক'দিনের নির্ঘুম, দূর্বল শরীরটাকে একটু ঘুমের আরাম দিতে চেয়েছিলাম। শত চেষ্টা করেও আনতে পারিনি। সন্ধেবেলা উদ্ভ্রান্ত আমি এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করতে করতে নিজের অজান্তেই ডিপার্টমেন্টের দিকে যাচ্ছিলাম প্রতিদিনকার অভ্যাসবশত। লিফটে উঠবো, দুরে দেখি আমার রুমমেট, readingmet হাত নাড়ছে। সেও ফেল করেছে। একএকটা হাতনাড়া, একেকরকম অর্থ বহন করে। ওরটা বোঝাচ্ছিল, যা হবার তা হয়ে গেছে, ভুলে যান আদিল ভাই, ভুলে যান। আমার কাছে মনে হচ্ছিল স্বর্গীয় হাত। এই প্রথম একটা ঠাণ্ডা অনুভূতি বয়ে গেলো আমার শরীরে বেয়ে । লাইব্রেরিতে গিয়ে একখানে বসলাম। একটু পর ও পাশে এসে বসলো। সাথে বই। যে বইয়ের কোনো সুচিপত্র আমাদের দেখতে হয় না। কোন রোগ সম্বন্ধে পড়তে চাইলে আমরা অনায়াসে ওই নিদৃষ্ট পাতায় যেতে পারি। যে বইয়ের প্রতিটি পাতা আমাদের ব্রেইনের Software'য়ে সুন্দর করে সাজানো। কেউ কোন প্রশ্ন করলে ওই পাতাটা আমাদের মনের চোখে ভেসে ওঠে।
কিন্তু তারপরও আমরা ফেল করি। আর সকালে পরীক্ষা দিয়ে ফেল করলে বিকেলে আবার ওটাই নিয়ে বসি। আবার ৬ মাস ওটাই পড়ি। আবার Morning session'য়ে যাই। আাবার রোগী দেখি।
স্যারেরা, নতুন আসা Junior'রা, Ward 'র CA, IMO, Registrar, nurse, ওয়ার্ডবয় কেউ আমাদের অবহেলা তো করেই না ; উল্টো তাঁদের চাহনিতে আমরা পাই সম্মান। তাঁরা বোঝে আমরা লড়াকু। হেরে যাবার জন্য মেডিকেল শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ BSMMU ( Ex- PG Hospital) তে আসিনি।
এগুলো আমার Post graduation দিনকথা। চলো এবার প্রসঙ্গে ফিরে যাই।
এই এতো বড় ভুমিকাটা আমি নিয়েছি তোমাদের ছোট্ট একটা কথা বোঝানোর জন্য।
পরীক্ষা হচ্ছে মাল্টিফ্যাকটোরিয়াল। যেদিন তোমার পরীক্ষা শুরু হবে, সেরাতে তোমার হঠাৎ করে টনসিল ফুলে যেতে পারে, তার একদিন আগে একটা আইসক্রিম খেয়েছ লোভ সামলাতে না পেরে। আইসক্রিম তো তোমাদেরই মানায়।
যে অটোরিক্সায় চড়ে স্কুলে যাচ্ছ, ওটা যদি একটা এক্সিডেন্ট করে বসে, হলে পৌছতে যদি দেরী হয়ে যায় তোমার। আমি জানি তুমি খুব পাংচুয়াল। তারপরও, ধরই না।
এগুলো তো পরীক্ষার দৃশ্যমান ফ্যাক্টর; অদৃশ্য ফ্যাক্টর কি কি আছে দেখ ;
১। শিটের পর শিট নিয়েছ, মামা যদি সেলাই দিতে ঢিল করে
২। যে ট্রাকে করে খাতাগুলো যাচ্ছে, ওটা যদি এক্সিডেন্ট করে,হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়ায় তোমার ঢিল করে লাগানো লুজশিট যদি উড়ে যায় ; যদি বৃষ্টি হলে ভিজে যায়
৩। পরীক্ষাবোর্ডের যে ঘরে তোমার খাতাগুলো রাখা হয়েছে, সেখানে যদি উইপোকা থাকে
৪। যে স্যার তোমার খাতাগুলো দেখতেছেন,সেদিন ওনার, ওনার পরীবারটা যদি কোনো কারনে অশান্ত থাকে।
৫। সবকিছু ঠিকঠাক হলো, রেজাল্ট প্রকাশের সময় অপারেটর অথবা কম্পিউটারেরই যদি কোন অসুবিধা হয়।
আত্নহননের আগে একবার ভাবিও, মাল্টিফ্যাক্টরিয়াল পরীক্ষার এগুলোও এক একটা ফ্যাক্টর।
তাহলে এতগুলো ফ্যাক্টরের মাঝে তোমার কাজ কি এখানে?
সোজা, খুবই সোজা। তোমার কাজ অংশগ্রহণ।
এরপর,
তুমি মানো,আর, না মানো:
বিক্ষাত সেই উক্তি
"It is what it is"
"এটা সেই যেটা হবার কথা "
শুভ কামনা, তোমাদের জন্য।

 

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়