Ameen Qudir

Published:
2019-08-04 20:28:47 BdST

এপ্রন পরলেই ডাক্তার হওয়া যায়না তেমনি হাতে ক্যামেরা নিলেই সাংবাদিক হওয়া যায়না


 


ডা. ফাতেমা জোহরা
_____________________________

গায়ে এপ্রন দিলেই যেমন ডাক্তার হওয়া যায়না তেমনি হাতে ক্যামেরা নিলেই সাংবাদিক হওয়া যায়না।

গত মঙ্গলবার রাতে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পথশিশুর জ্বর ছিল। লোকজন তাকে নিয়ে এলো ভর্তি করানোর জন্যে। তার অবস্থা অতটা বিপদজনক না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়না।একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়।আর এতেই হলুদ সাংবাদিকতার ফলে তাকে এবং চিকিৎসকদের নিয়ে শুরু হয় নানা মন্তব্য।ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে শান্ত থাকা অবস্থায় কি কি বিষয়ে কথা হয়েছিলো তা সম্পূর্ণ অদৃশ্যই রেখে দিয়েছে ভিডিও রিপোর্টে।

মানুষ মাত্রই তার অনুভূতি থাকবে।হাসি,রাগ,দুঃখ এসব
মিলেই মানুষ। ডাক্তার বা অন্য যেকেউ রাগ-ক্রোধ, দুঃখ-কষ্টের উর্দ্ধে নয়। ডাক্তার রাগ দেখালেই যদি নিউজ করেন তাহলে সেই সাংবাদিকতার মানে কি? যিনি এই নিউজ করছেন তার কি রাগ হয়নি? তিনি কি রাগ দেখান নি??নিউজ একটা করতে পারলেই হল।এই যে উনি এমন করলেন, উনারও তো ডাক্তারের কাছে যাওয়া লাগতে পারে।উনি শুধু রাগটাই দেখালেন আর ডাক্তারদের অক্লান্ত পরিশ্রমটা দেখালেন না।

এই ঈদে সবার নয় দিন ছুটি। ডাক্তারদের কোনো ছুটি নেই। ডেঙ্গু সিজন পার হয়ে গেলে কি ডাক্তাররা ছুটি পাবে? ডাক্তারদেরও বিশ্রাম ও সুস্বাস্হ্য দরকার। তা না হলে রোগী সেবা করবে কি ভাবে?গত কয়েকদিন যাবত যে হারে ডেঙ্গু প্রোকপ বেড়েছে, সে হারে ডাক্তারদের চিকিৎসা দিতে ও হিমসিম খেতে হচ্ছে। এ ডাক্তার না থাকলে কিন্তু চিকিৎসা চলছেনা।অাবার ডাক্তাররাও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে৷

এসব চিন্তা করে একতরফা ডাক্তারদের দোষারোপ করা বন্ধ করুন।মরার আগে ডাক্তারই বাচাতে পারে।সাংবাদিক না।মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ আর ভীতু জাতি।গণপিটুনি দিয়ে মাকে মারে,ডাক্তারকে মারে কিন্তু কোন ধর্ষককে পিটাতে পারেনা।
__________________________
ডা. ফাতেমা জোহরা
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়