Ameen Qudir

Published:
2019-05-10 11:02:50 BdST

সুচিকিৎসার জন্য নিয়ম মানতে বলায় নারী চিকিৎসককে ছুড়ি প্রদর্শন : হত্যা এবং ধর্ষণের হুমকি


 


সিলেট থেকে সংবাদদাতা ও ডেস্ক
__________________________

সুচিকিৎসার জন্য নিয়ম মেনে চলা এবং এক সঙ্গে কম মানুষ আসার সবিনয় অনুরোধ করায় সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন ডিউটি নারী চিকিৎসক এক রাজনৈতিক পতাকাধারী উগ্র মারমূর্তি যুবকের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ সংক্রান্ত প্রামান্য ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে ও ফেসবুকে। ডাক্তারের সঙ্গে সাথে নিরাপত্তা প্রহরী ও লিফটম্যান লাঞ্চিত হন ।

নির্মম ঘটনার শিকার চিকিৎসক নিশাত ফেসবুকে এবং নিজ টাইমলাইনে এই ঘটনা প্রকাশ করেন।


বৃহস্পতিবার দুপুরের এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা হাসপাতালের বাইরে এসে কর্মবিরতি পালন করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তারা কাজে যোগ দেন।

 

ভিডিও লিঙ্ক : দেখুন উগ্রতার চিত্র

https://youtu.be/1-AuP5BGGmI?t=5

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক এবং ঘটনার ভুক্তভোগী ডা: নাজিফা আনজুম নিশাত র লেখা পোস্ট এখানে তুলে ধরা হল।
"
সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের আজকে দুপুরের ঘটনা। ইউরোলজির এক প্যাশেন্ট আসলো। ডিউটি ডাক্তার এর অনুরোধে আমি গেলাম পেশেন্ট রিসিভ করতে। কারণ আমার এডমিশন ছিল। গিয়ে দেখি প্রায় ১৫/১৬ জন ছেলে সাথে আছে। পেশেন্ট এর হিস্ট্রি নিতে নিতে খুব বিনয়ের সাথে বললাম, আপনারা একজন থাকুন, বাকিরা বেরিয়ে যান। একজন বললেন, আমাদের সামনেই ট্রিটমেন্ট দেন। আমি বললাম, পেশেন্ট কে এক্সপোজ করতে হবে। আর হসপিটালের তো একটা প্রটোকল আছে। তারা বললেন তারা সবাই থাকবেন এবং সবার সামনেই আমাকে ট্রিটমেন্ট দিতে হবে। তারপর এদের মধ্যে একজন এর অনুরোধে বাকিরা বেরিয়ে গেলেন। তিনজন দাড়িয়ে থাকলেন। পেশেন্ট কে এক্সামিন করতে করতে আবার মানুষ ঢোকা শুরু করলো। আমি তখন বললাম, “দেখুন আপনাদের আমি বারবার বলেছি আপনারা একজন থাকুন, বাকিরা বেরিয়ে যান। ” যথেষ্ট বিনয়ের সাথে। তখন এদের মধ্যে সরোয়ার নামের একজন বললো, “তোমার এমডিকে আমি কান ধরে এনে দাড় করাবো। কর ট্রিটমেন্ট”। আমি তখন বললাম , কি বললেন আপনি? সে বললো, (আঙ্গুল উচিয়ে) “কিছু বলি নাই। পেশেন্ট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। ট্রিটমেন্ট দাও”। আমি বললাম, “দেখেন ক্ষমতাধর ব্যাক্তির জন্য যে ট্রিটমেন্ট , আপনার পেশেন্টের জন্যও একই ট্রিটমেন্ট। সবাইকে আমরা একই ভাবে চিকিৎসা দেই। এবং সবার জন্য একই নিয়ম। সুতরাং আপনাদের বের হতে হবে। “। এরমধ্যে আমি পেশেন্টের বিপি মাপা শুরু করে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে তুই তুকারি শুরু করলেন। আমি আর সহ্য করতে না পেরে কান্না করতে করতে CA, IMO রুমে গিয়ে ভাইয়া, আপুদের ঘটনা জানাই। তারপর সেই ছেলে আমার পিছন পিছন এসে কোমর থেকে ছুরি দেখিয়ে বলে ,” তোর সাহস কত। লাশ ফেলে দিবো। **, ***,**** ,বাইরে বের হ একবার। রেইপ করে ফেলবো। আমার পা ধরে তোকে মাফ চাওয়া লাগবো. ..” আরো অকথ্য ভাষায় গালাগালি। তারপর সি এ ভাইয়ার গায়ে হাত তোলার উপক্রম করে। তার গালাগালির ভিডিও ও আছে। এই হল একজন ডিউটি ডক্টর এর নিরাপত্তার অবস্থা। আমরাও রোজা রাখি। আমাদেরও ক্লান্তি হয়, ক্ষুধা লাগে। কিন্তু পেশেন্টের প্রতি এসবের কোন আঁচ পরতে দেইনা। এত ঘটনার মধ্যেও সেই পেশেন্টের কাগজপত্র শক্ত করে আমার হাতে ধরা ছিল। তার ট্রিটমেন্ট ও দেয়া হয়েছে। যদিও তারা পরে DORB নিয়ে চলে যায়। কোথায় আমাদের নিরাপত্তা? রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে আমরা কতকাল জিম্মি থাকব???"

আপনার মতামত দিন:


ক্যাম্পাস এর জনপ্রিয়