Ameen Qudir

Published:
2017-03-04 16:07:06 BdST

চিকিৎসকদের মর্যাদাহানিকর ও স্বার্থবিরোধী কোন আইন মানব না: বিএমএ মহাসচিব


 

আহির ফা হিয়ান বুবকা
_______________________________

 

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন-বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেছেন, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই চিকিৎসকদের মান মর্যাদাহানিকর ও স্বার্থবিরোধী কোন আইন আমরা মানব না।


কথায় কথায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অকারণ হুমকি ও মামলা মোকদ্দমায় আমরা বিব্রত। নেত্রকোনা, খুলনা, বগুড়া ও ফরিদপুরে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের উপর হামলায় যারা জড়িত তারা সকলেই কোন না কোন ভাবেই নীতি নির্ধারক কর্তৃপক্ষ মহলের সাথে সম্পর্কিত।

শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘International Scientific Conference LIVERCON-2017” -এ বিএমএ মহাসচিব চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন, এদেশে আর কোন পেশাজীবীদেরকে কি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই ?

 

তিনি বলেন,

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমরা আজ এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছি। আমাদের এত দিনের পরিশ্রমের ফসল- সফল আলোকিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সকল অর্জন নষ্টের পায়তারা চলছে। সমাজ, চিকিৎসা কর্মী ও সরকারী চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণ সংস্থায় আজ এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। জনগণ ও চিকিৎসকদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে কারা যেন ফায়দা লুটতে চায়।


চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমাতে অকারণে সুপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসকদের হেনস্থা, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং অতিরঞ্জিতভাবে তা ফলাও করে খবর প্রচারের মাধ্যমে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।


কথায় কথায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অকারণ হুমকি ও মামলা মোকদ্দমায় আমরা বিব্রত। নেত্রকোনা, খুলনা, বগুড়া ও ফরিদপুরে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসকদের উপর হামলায় যারা জড়িত তারা সকলেই কোন না কোন ভাবেই নীতি নির্ধারক কর্তৃপক্ষ মহলের সাথে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন ,
শজিমেক হাসপাতালে সংগঠিত ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তদন্ত না করে হঠাৎ করে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে অতিদ্রুত একটি তদন্ত কমিটির করিতকর্মা কর্মকর্তাগণের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যে শাস্তির বিষয়টি তদন্ত কমিটি গঠনের পূর্বেই চারদিকে বলা বলি হচ্ছিল। অথচ আজ পর্যন্ত সারা দেশে একটি জায়গায় ও চিকিৎসকের উপর ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলার কোন তদন্ত কিংবা বিচারের লক্ষণ দেখা যায় নাই। আমরা বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঘটনার অধিকতর তদন্ত দাবী করছি। এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো সহনশীল ও ধৈর্য্য-সতর্কতার সহিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান জানাচ্ছি, খেয়াল রাখবেন চক্রান্তকারী মহল যেন ফায়দা লুটতে না পারে।

তিনি বলেন ,

 

প্রিয় চিকিৎসকবৃন্দ,

আমরা যদি নিজেদেরকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক দাবী করি তবে আমাদের আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের সাথে নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন এদেশের প্রশংসিত স্বাস্থ্যসেবা অন্য কারো দয়া কিংবা নির্দেশে হয়নি। এটা সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আপনাদের পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায়। আমাদের রোগীরা আমাদেরই সম্পদ, তারা আমাদের “বোঝা” নয়। এই সকল রোগীদেরকে একটু হাসি ও আন্তরিকতা দিয়ে এবং প্রতিজন রোগীকে নিজের আত্নীয় ভেবে সেবা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

তিনি বলেন ,

প্রিয় বন্ধুগণ,

সাম্প্রতিক সময়ে “চিকিৎসা সেবা আইন-২০১৬” নামে একটি আইনের খসড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত হয়েছে । এবং এরই পাশাপাশি “স্বাস্থ্য সেবা আইন-২০১৬” নামে আরেকটি আইনের খসড়া আইন কমিশন কর্তৃক প্রণীত হয়েছে। চমৎকার- একই রেল লাইনে দুটি ট্রেন মুখোমুখি চলছে।

তিনি বলেন ,

আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন, এদেশে আর কোন পেশাজীবীদেরকে কি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই ? আমরা নিরাপদ কর্মস্থল দাবী করেছিলাম। আর কত চোখ রাঙানি, ভীতি প্রর্দশন, হামলা আর মামলা মোকাবিলা করব।

আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন, এদেশে আর কোন পেশাজীবীদেরকে কি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই ?

দয়া করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাদেরকে সমাজের মুখোমুখি দাড় করাবেন না। আমরা চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়ালেখা করেছি ফৌজদারি অপরাধ করার জন্য নয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের পূর্বসুরী প্রায় ৬৯ জন আত্নাহুতি দিয়েছিলেন আমাদেরকে হাজতবাসী করার জন্য নয়। আপনাদেরকে অনুরোধ করব শান্ত থাকুন, ভীত হবেন না।


তিনি বলেন,

আমরা ধৈর্য্যরে সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করব। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরো জানাচ্ছি যে, এই চিকিৎসাসেবা আইন ২০১৬ প্রণয়নের সাথে আমাদের পূর্বসুরীরা জড়িত ছিলেন এবং তারা আপনাদেরকে কতটুকু অবগত করেছিলেন আমরা জানিনা। তারা কাজটি প্রায় শেষ করেই ফেলেছিলেন। আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রণালয়কে বলেছি আমরা চিকিৎসকদের বিভিন্ন সোসাইটির নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বলে মতামত চেয়েছি, সারা দেশে বিএমএ’র ৬৭টি সাংগঠনিক শাখার সাথে কথা বলব এবং শেষ পর্যায়ে আমাদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল্ এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সভায় আলোচনা করে মন্ত্রণালয়কে মতামত দিব।

তিনি বলেন,
আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই চিকিৎসকদের মান মর্যাদাহানিকর ও স্বার্থবিরোধী কোন আইন আমরা মানব না। আমাদের ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙ্গে গেলে সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক এদেশের সকল মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা‘র সাথে কথা বলব, - যিনি এদেশের মানুষকে ভালোবাসেন, আমাদেরকেও ভালোবাসেন।’’

____________________________

 

আহির ফা হিয়ান বুবকা । নির্বাহী সম্পাদক , ডাক্তার প্রতিদিন।

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়