Ameen Qudir

Published:
2019-03-24 20:32:18 BdST

১২ লাখ টাকার কিডনি স্থাপন বিএসএমএমইউতে মাত্র এক লাখ ৬০ হাজারে হচ্ছে


 
ডা. আমিনুল ইসলাম
________________________

বাংলাদেশে এখন সর্বাধুনিক কিডনি চিকিৎসা মিলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে : বিএসএমএমইউ-তে । সেখানে অতি অল্প খরচে সম্পূর্ণ চিকিৎসা মিলছে কিডনি রোগ ও কিডনি প্রতিস্থাপনের।

বাংলাদেশের মিডিয়ার একদেশদর্শিতার কারণে ভাল খবর ভুক্তভোগীরা পাচ্ছে না। এর কারণ করপোরেট কালচার।
অতি খরচের বিজ্ঞাপণ মিডিয়ায় সুলভ হলেও নাম মাত্র খরচে সরকারি বা বিএসএমএমইউএ হাসপাতালের ব্যাপক রোগী সেবার খবর আসছে না। এর কারণ বিএসএমএমইউ-র বিজ্ঞাপণ দিয়ে জানানোর সুযোগ নেই।
কিডনি প্রতিস্থাপন বিষয়ে বিএসএমএমইউ রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কার্তিক চন্দ্র ঘোষ মিডিয়াকে জানান, বাংলাদেশে ১৯৮২ সাল থেকে সর্ব প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়। সরকারি এই হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে। এখন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার এই চিকিৎসা করা যায়। এখানে কিডনি আইসিইউ আছে।
তিনি বলেন, ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা হচ্ছে যিনি কিডনি দেবে ও যিনি গ্রহণ করবেন তাদের জন্য একটি প্যাকেজ। এই পাকেজে রয়েছে দুই সপ্তাহের মেডিসিন ও সকল পরীক্ষা নিরীক্ষার খরচ।এছাড়া দুই সপ্তাহের পরেও যদি তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তবে তাকে থাকতে হবে কিডনি আইসিউইতে এ ক্ষেত্রে কোনো খরচ লাগবে না।
সূত্র জানায়, বিশাল
ভারতবর্ষে বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরনের চিকিৎসায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে । একই ভাবে সরকারি বা অল ইন্ডিয়া ইনিস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে ( এআইআইএমএস) খরচ বিএসএমএমইউর মতই অনেক কম। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া তার পূর্বসূরী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের ধারাবাহিকতায় কিডনি সহ নানা রোগের চিকিৎসা অল্প খরচে নিশ্চিত করছেন।

ডা. কার্তিক চন্দ্র ঘোষ বলেন, বিএসএমএমইউ কম খরচে কিডনি প্রতিস্থাপনের কারণ হচ্ছে বিএসএমএমইউ সরকার সহযোগিতা করে।এটি একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের মানুষের সেবা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের কোনো লাভেরর কথা চিন্তা করি না। আমাদের কাছে অর্থ নয় সেবাই প্রথম।

আমাদের শরীরের তলপেটের বিপরীত দিকে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে মুষ্টি আকৃতির দুটি কিডনি থাকে। কিডনি, হার্ট, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, লিভার প্রভৃতি অঙ্গের কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কিডনির সব চেয়ে ক্ষুদ্র অংশ হল নেফ্রোন।

প্রতিটি কিডনিতে প্রায় ১০ লাখ নেফ্রোন থাকে যার প্রতিটিই রক্ত পরিশোধনের ক্ষুদ্র ছাঁকুনি হিসেবে কাজ করে। শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের করে দেয়া, রক্ত পরিশোধন, পানি ও খনিজ লবণের ভারসাম্য রক্ষা, হরমোন উৎপাদন, এসিড এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কিডনির প্রধান কাজ।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, কিডনির সর্বোচ্চ শতকরা ৯০ ভাগ সঠিকভাবে কাজ না করলেও একজন মানুষ তেমন বড় কোনো সমস্যা ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারে; তবে এ সংখ্যা সবার ক্ষেত্রে একই রকম নাও হতে পারে।

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়