Ameen Qudir

Published:
2017-05-23 11:29:50 BdST

৮০জন মিলে একজন ডাক্তারকে মারলো, এটা তো হতে পারে না : জামিনকালে ডা. আব্দুল্লাহ


 

 

ডেস্ক রিপোর্ট
___________________

বাংলাদেশের কিংবদন্তি ডাক্তার অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ মানবসেবার অক্লান্ত মহাবীর । তাকে হয়রানি করছে একদল গনশত্রু। তারপরও তিনি মানবসেবার প্রশ্নে আপোষ হীন। সহজ সরলভাবে তার সত্য বয়ান রাখছেন নির্ভিক চিত্তে।
২২ মে অাদালতে পর্যন্ত দৌড়াতে বাধ্য করা হয় দেশের সেবাদর্শের মহান পুরুষকে।
সেখানেও তিনি সেবা ও ত্যাগের প্রশ্নে অবিচলতা প্রদর্শন করেন।

 

আদালতে ডাক্তার ও মিডিয়া কর্মিদের তিনি বলেন, ডাক্তারের কাজ সেবা করা। এটা আমি করবই। আমি কোন দিন ভাবি নাই এইরকম পরিস্থিতির মুখে পড়ব। , কারণ আমি তো আসলে কোন ক্রিমিনাল কাজ করিও না । করার চিন্তা ভাবনাও নাই। যে কেসটা আমার বিরুদ্ধে দেয়া হলো, এটা যে তারা দিবে আমি চিন্তাও করি নাই।

রোগী যখন আসলো দেখে তখন যা মনে করলাম সে হিসেবেই পরীক্ষা নিরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষার যখন রিপোর্ট আসলো তখন দেখলাম ব্লাড ক্যান্সার। এখানে আমার ডায়াগনোসিসও ভুল হয় নাই, তার প্রাথমিক যা চিকিৎসা সবগুলোই দিয়েছি। ডাক্তার হিসেবে আমি বিবেক সম্মত সঠিক কাজ করেছি। সেটাই আমার কাজ। মানুষকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত আমরা লড়াই করি। ঘরসংসারের নানা দায়িত্ব অবহেলা করে মানবতার জন্য কাজ করি।

এই রোগী এত ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিল আসলেই কিছু করার ছিল না। পৃথিবীর কোথাও কেউ কিছু করতে পারতনা।

তার অবস্থা খারাপ হবার পর সে আইসিইউতে যায়, আইসিইউতে যাওয়া মানেই রোগী ক্রিটিক্যালি ইল, সিরিয়াস, তখন কিছু করার থাকে না এবং আইসিইউতে যদি রোগী চব্বিশ ঘণ্টা না টিকে পৃথিবীর কোথাও কেউ কিছু করতে পারবে না। এতে আমাদের নেগলিগ্যান্সির কিছু নাই।

 


অথি ধৈর্য়্যের সাথে ডা. আবদুল্লাহ স্যার তার মত তুলে ধরছিলেন। বলেন,
একটা অল্প বয়স্ক মেয়ে,
কোন ডাক্তার কি তাকে মারতে যাবে? আমি কি ইচ্ছাকৃতভাবে মারব তাকে? যে অভিযোগ করা হলো ক্যান্সারের ভুল চিকিৎসা দিয়ে মারা হয়েছে, এটাওতো কোন ক্রমে ঠিক নয়। রোগী আসলো সিরিয়াস, আমরা ক্যান্সারের চিকিৎসা শুরুই করি নাই। আমরা ক্যান্সারের চিকিৎসা দিলাম কখন? ভুল চিকিৎসা কোথায় হলো?

এখন ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমি চাইবো এটার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। তদন্ত করে যদি শাস্তি হবার মত কিছু হয় তাহলে আমরা শাস্তি মাথায় পেতে নেব।

কিন্তু এই ঘটনাগুলো বারবার ঘটবে, বিশেষ করে ডাক্তার সমাজ বা জুনিয়র ডাক্তার তাদের জন্য সবসময় এটা বিব্রতকর। আমি হয়ত একটা রোগী দেখে আসলাম আমার যারা সাব অর্ডিনেট বা এসিস্ট্যান্ট তারা তো থাকে। সবসময় কিন্তু গোলমাল হলে ঐ ডাক্তারদের উপর মারটা আগে যায়। এটা কোন সময় কাম্য হতে পারে না।

ডাক্তারকে কেন মারবে? আইন আছে দেশে, দরকার পরলে কেস করতে পারে, কিন্তু মানুষ আইন হাতে তুলে নিয়ে একটা লংকাকাণ্ড ঘটায় দিবে এবং হসপিটালে মারামারি করাতে ৭০-৮০ মানুষ মিলে একজন জুনিয়র ডাক্তারকে মারলো, পরিচালক কে মারলো, এটা তো কাম্য হতে পারে না।

এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা আমাদের যে আইনজ্ঞ যারা আছে তাদের সাথে কথা বলে সে অনুযায়ী করব ।

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়