Dr.Liakat Ali

Published:
2023-01-16 08:46:47 BdST

বিএসএমএমইউ-তে সফল লিভার প্রতিস্থাপন


 

ডেস্ক
______________

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) “মুজিব শতবর্ষ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রাম” অংশ হিসেবে সফল লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। রবিবার বেলা সাড়ে এগারটায় (১৫ জানুয়ারি) শহীদ ডা. মিল্টন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে লিভার প্রতিস্থাপনে সেবাগ্রহীতা ও লিভার দাতা দুজনেই সুস্থ আছেন বলে রোগীরা জানান। গত ১লা জানুয়ারি ১২ ঘণ্টার বেশী সময় নিয়ে এ অপারেশন কাজ সম্পন্ন করা হয় । ১২ ঘন্টাব্যাপী লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন অপারেশনটিতে সহযোগীতা করেন এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ভারতের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন ও এ্যানেস্থেসিয়া টিম।

সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য ( প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন ) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার ডা. স্বপন কুমার তপাদার, হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরীসহ এই ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রমে নিযুক্ত বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নানাবিধ হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জনসংখ্যার মাত্র ৫-১০ শতাংশ এ ভাইরাসের জন্য টিকা নিয়েছে। যা অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলশ্রুতিতে হেপাটাইটিস ভাইরাস সংক্রান্ত রোগব্যাধী বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর বাংলাদেশে আনুমানিক ৪-৫ হাজার রোগী লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন চিকিৎসা প্রয়োজন। দেশে পূর্বে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর উপরোক্ত রোগীদের একটি বিশাল অংশ দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য চলে যাচ্ছে। পাশর্^বর্তী দেশসহ বহিঃবিশে^ লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। ফলে দেশের স্বল্প আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষিত বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে “মুজিব শতবর্ষ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রাম” চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমার সভাপতিত্বে এবং হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক ও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোহছেন চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে “মুজিব শতবর্ষ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি” গঠন করি। লিভার ট্রান্সপ্লান্টের মতো একটি জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের সহযোগীতা নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন বর্ষের সূচনালগ্নে জানুয়ারি ১, ২০২৩ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে একটি লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

উপাচার্য বলেন, দেশের স্বল্প আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে এই চিকিৎসা সুবিধা পেতে পারে এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিক-নির্দেশনাক্রমে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন কার্যক্রমের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নিয়েছে। লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন অপারেশনটি ছিল একটি লিভিং ডোনার লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন; এর অর্থ হলো রোগীর আত্মীয় সম্পর্কিত কোন ডোনার থেকে লিভারের একটি অংশ কেটে রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয় (রোগীর সিরোটিক লিভারের পুরোটিই কেটে ফেলা হয়)। জানুয়ারি ১, ২০২৩ এ অনুষ্ঠিত লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনে রোগী ছিলেন বগুরা জেলার মোঃ মন্তেজার রহমান (৫৩); তিনি নন-বি, নন-সি জনিত “এন্ড স্টেজ লিভার ডিজিজে” আক্রান্ত ছিলেন। জনাব মোঃ মন্তেজার রহমানকে লিভার দান করেন তার বোন মোসাঃ শামীমা আক্তার (৪৩)। মোসাঃ শামীমা আক্তারের দেহ থেকে সুস্থ লিভারের ৬০ শতাংশ কেটে ফেলা হয়। মোঃ মন্তেজার রহমান এর সিরোটিক লিভারের পুরোটাই কেটে বের করে ফেলা হয় এবং মোসাঃ শামীমা আক্তারের দেহ থেকে কেটে নেয়া সুস্থ লিভারের ৬০ শতাংশ জোড়া দেয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য, লিভার দাতা মোসাঃ শামীমা আক্তারের লিভারটি ধীরে ধীরে রি-জেনারেট করবে। এটি লিভার নামক অঙ্গটির একটি বিশেষত্ব।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৮০ লক্ষ রোগী লিভার সংক্রান্ত ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় (২০১৮ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী)। এর মধ্যে অন্যতম “এন্ড স্টেজ লিভার ডিজিজ” যা হলো ক্রনিক প্রদাহ জনিত লিভারের শেষ অবস্থা যেখানে লিভার তার কার্যক্ষমতা হারায়। সাধারণত হেপাটাইটিস এ,বি,সি,ডি এবং ই ভাইরাস সংক্রমণ অথবা লিভারে অতিরিক্ত চর্বিজনিত প্রদাহ থেকে লিভার টিস্যুর পরিবর্তন শুরু হয়, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক লিভার টিস্যুর পরিবর্তন হয়ে সিরোটিক লিভার টিস্যু তৈরী হয়। সিরোটিক লিভার টিস্যু স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে অক্ষম। যখন রোগীর লিভারের একটি বড় অংশ সিরোটিক হয়ে যায় তখন আমরা বলি রোগীটি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। এই লিভার সিরোসিসের শেষ পর্যায় হচ্ছে “এন্ড স্টেজ লিভার ডিজিজ”। “এন্ড স্টেজ লিভার ডিজিজ” এর একমাত্র চিকিৎসা লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন। এছাড়াও লিভারের আরও কিছু রোগ রয়েছে; যেমন লিভারের কোন একটি অংশে (লোবে) ক্যান্সার (হেপাটোসেলুলার ক্যান্সার), বাচ্চাদের ক্ষেত্রে লিভারের জন্মগত ত্রুটি (বিলিয়ারি এট্রেশিয়া, মেটাবোলিক ডিজিজ ইত্যাদি) এর চিকিৎসাও লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন।

উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আরও বলেন , প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে ভিশন ২০৪১ অর্থাৎ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা করেছে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় গড় আয়ু বৃদ্ধি, নন-কমিউনিকেবল এবং কমিউনিকেবল ডিজিজ হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনের মতো একটি সুপার স্পেশালাইজড কেয়ার চালু করার ফলে লিভার রোগ, লিভারের শল্য চিকিৎসা, লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন বিষয়ে শিক্ষা/প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন মানবসম্পদে উন্নয়ন ঘটবে তেমনি উক্ত বিশেষজ্ঞগণের মাধ্যমে উন্নততর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে। সুস্থ সবল জাতি গঠনের সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশের রোগীদের চিকিৎসা প্রয়োজনে বহিঃবিশ্বের উপর নির্ভরতা কমাতে। এবিষয়ে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতীজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয়ে উন্নততর চিকিৎসা সুবিধাবলি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সুলভ মূল্যে দেশের সকল জনগোষ্ঠী এ চিকিৎসা সেবার আওতায় উপকৃত হবে। “মুজিব শতবর্ষ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রামের” আওতায় জানুয়ারি ১, ২০২৩ এ অনুষ্ঠিত লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশনটি আমাদের এই পথ চলার একটি দীপ্তমান স্বারক।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সফলভাবে মোকাবেলা করেছে। করোনাভাইরাস পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল রোগের বিষয়ে আগের চেয়ে আরও বেশী যত্নবান হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় শুধু রোগীর চিকিৎসা নয় বরং রোগ প্রতিরোধের দিকে বেশী মনোনিবেশ করছে। এজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজকে আরও বেগবান করার জন্য এ খাতে বরাদ্দ পাঁচগুণ বৃদ্ধি করেছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে একসঙ্গে ২৪ চিকিৎসক গবেষককে পিএইচডি কোর্সে ইনরোলমেন্ট করেছে। তিনি আরও বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকে আরও বেগবান ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করার জন্য গবেষণায় অবদান রাখার জন্য ভাইস চ্যান্সেলার এ্যাওয়ার্ড পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ‘ এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেসিসট্যান্স’ বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। প্রতিমাসে নিয়মিতভাবে অধিকতর জনগুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বিষয় নিয়ে সেন্ট্রাল সেমিনার আয়োজন করছি। এতে করে দেশের আপামর জনসাধারণসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ চিকিৎসা গ্রহণে সচেতন হচ্ছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা দেশী বিদেশী চিকিৎসা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করছেন। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় জাতিসংঘের একটি সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। সেই অনুষ্ঠানের আলোকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘ বায়ো ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যালিয়েটিভ মিডিসিন বিভাগে হোম কেয়ার সার্ভিস, করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সি, ব্রেস্ট ক্যান্সারের জিনেটিক এনালাইসিস, হেপাটোলোজি বিভাগে লিভার সিরোসিস বিভাগের জন্য স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্টেশন, এন্ড্রোক্রাইন বিভাগে আধুনিক পরীক্ষা নিরীক্ষা কার্যক্রম, উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা গর্ভবতী মায়েদের স্ক্রিনিং, ট্রান্সফিউশন বিভাগের স্টেম সেল কালেকশন, বিলুরুবিন ডায়ালাইলিস কার্যক্রম, শিশুর জন্মগত ত্রুটি নির্ণয়, জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধীনে ব্রেস্ট কনাসার্ভিং সার্জারি, ব্রেস্ট রিকনসাট্রিক সার্জারি, ব্রারিয়ারটিক সার্জারি যার বিদেশে ১০০০ ডলার খরচ, বছরে এডভান্সড ল্যাপারোসকপি কোলারেক্টরাল সার্জারি, ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগে আরএফএ মেশিন দিয়ে কাটা ছেড়া ছাড়া বাকাশিরা সোজাকরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্সারের সর্বাধুনিক সকল ধরণের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি হৃদরোগ, স্নায়ু রোগের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

বিএসএমএমইউ
প্রেস রিলিজ

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়