Desk

Published:
2023-01-12 18:00:17 BdST

রক্তের জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দাবি জানালেন বরেণ্য রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা.সালাহউদ্দীন শাহ


 

ডেস্ক
______________________

রক্তের জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার। বাংলাদেশের জাতীয় প্রেক্ষাপটে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের বরেণ্য
রক্ত ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ । বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান। রক্ত, রক্তরোগ, দেশে রক্তরোগের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে তিনি
১১ জানুয়ারি ২০২৩ দৈনিক প্রথম আলোকে এক সাক্ষাৎকারে   গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কথা বলেছেন। তাঁর সম্মতি সাপেক্ষে পাঠকদের সামনে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হল।

 


রক্তের পরিচয় কী? শরীরের অংশ হিসেবে রক্তকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: মানুষের শরীরের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ জলীয়। এর বড় একটি অংশ হচ্ছে রক্ত। সাধারণভাবে ৭৫ কেজি ওজনের একজন ব্যক্তির শরীরে ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে। ছোট-বড় নালির অর্থাৎ ধমনি ও শিরার মধ্য দিয়ে রক্ত সারা শরীরে প্রবাহিত হয়। রক্তপ্রবাহ হৃৎপিণ্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

রক্তে আছে লোহিত রক্তকণিকা (রেড ব্লাড সেল বা আরবিসি), শ্বেত রক্তকণিকা (হোয়াইট ব্লাড সেল বা ডব্লিউবিসি) ও অণুচক্রিকা (প্লাটিলেট)। রক্তের এই উপাদানগুলো কোষে ও টিস্যুতে অক্সিজেন ও অণুপুষ্টি কণা সরবরাহ করে। এটিই শক্তির উৎস। রক্ত একই সঙ্গে শরীরের বর্জ্য সংগ্রহ করে এবং নিঃসরণে সহায়তা করে।

রক্তের স্বয়ংক্রিয় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আছে। আবার শরীরে কোনো ক্যানসার কোষ তৈরি হলে এর বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে রক্তের উপাদানগুলো। অন্যদিকে অসুস্থ রক্তের কোষ মানব শরীরে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

 

আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত বাংলাদেশের বরেণ্য রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা.সালাহউদ্দীন শাহ-------------------------

 

 

রোগনির্ণয়ে রক্তের ভূমিকা কতটুকু?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্তে নির্দিষ্ট সংখ্যায় লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা থাকে। এই সংখ্যার পরিবর্তন হলে কোনো না কোনো রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। অথবা বলা যায়, রোগে আক্রান্ত হলে এসব রক্তকণিকার সংখ্যায় পরিবর্তন আসে।

রক্তস্বল্পতা একটি রোগ। অ্যানিমিয়া নামে রোগটি বেশি পরিচিত। লোহিত রক্তকণিকা কমে গেলে এই সমস্যা হয়। আবার লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায় থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগের কারণে। অন্যদিকে শ্বেত রক্তকণিকা বেড়ে গেলে কখনো কখনো তা ক্যানসারের কারণ হতে পারে। রক্তে কোনো সংক্রমণের কারণেও তা হতে পারে। আবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অণুচক্রিকা কমে যেতে থাকে। এ রকম বহু উদাহরণ দেওয়া সম্ভব। তাই উচিত প্রতি ছয় মাস পরপর রক্তের নমুনা পরীক্ষা করানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি জেনে নেওয়া।


ফুসফুস, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখার পরামর্শের কথা শোনা যায়। রক্তের কথা কম শোনা যায়। রক্ত ঠিক রাখতে কী করা উচিত?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: এটা সাধারণ জ্ঞানের ঘাটতি, সচেতনতার অভাব। রক্ত সম্পর্কে, রক্তের গুরুত্ব সম্পর্কে না জানা বা বোঝার কারণে আলোচনা কম হয়।

অস্থিমজ্জা থেকে রক্ত তৈরি হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। অস্থিমজ্জায় ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ এক বিশেষ পরিবেশে রক্ত তৈরি হয়। রক্তের গুণাগুণ ঠিক রাখতে হলে অস্থিমজ্জার এই পরিবেশ ঠিক রাখা দরকার। বিকিরণ ও রাসায়নিকের প্রভাবে এই পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। ওষুধের কারণেও নষ্ট হতে পারে। কোনো কারণে পরিবেশ ধ্বংস হলে রক্ত তৈরি ব্যাহত হবে, অথবা ত্রুটিযুক্ত রক্ত তৈরি হবে।

মনে রাখতে হবে, রক্ত ভালো না থাকলে বা শরীরে ভালো রক্ত তৈরি না হলে কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভালো থাকবে না। অস্থিমজ্জা ঠিক রাখার জন্য বিকিরণ, রাসায়নিক, ওষুধের ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সুষম খাদ্যের ওপর জোর দিতে হবে। খনিজসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেতে হবে। খাদ্যে ভেজাল থাকলে এই ক্ষতি হতে পারে। কীটনাশকও একই ক্ষতি করতে পারে।

অনেকে রক্তস্বল্পতায় ভোগে, অনেকের হঠাৎ রক্তের দরকার হয়। অন্য ব্যক্তির রক্ত নিয়ে সেই প্রয়োজন মেটানো হয়। রক্ত দেওয়ার বিষয়টি আসলে কী? কেউ চাইলেই কি রক্ত দিতে পারে?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: অনেকে রক্তস্বল্পতায় ভোগে, অনেকের হঠাৎ করে শরীর থেকে অনেক রক্ত চলে যেতে পারে, যেমন দুর্ঘটনায় আহত অনেক ব্যক্তির রক্ত ঝরে যায়। আবার অস্ত্রোপচারের সময় রক্তের প্রয়োজনের কথা বলা হয়।

এসব ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির রক্তই দিতে হয়। তবে রক্ত দিলেই হবে না, রক্ত হতে হবে নিরাপদ। নিরাপদ রক্ত বলতে রোগ বা সংক্রমণমুক্ত রক্ত। সাধারণভাবে রক্তে যদি এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ম্যালেরিয়া ও সিফিলিস—এই পাঁচটি রোগের জীবাণু থাকে, তাহলে তাকে নিরাপদ রক্ত বলা যাবে না। রক্ত দেওয়ার বা রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে এই পরীক্ষা করে নিতে হয়। এটা সারা বিশ্বেই করা হয়।

রক্ত দেওয়া-নেওয়ার সময় আরও একটি বিষয় দেখা হয়। রক্ত মেলানো বা ক্রস ম্যাস করা। রক্তের একাধিক গ্রুপ বা শ্রেণি আছে। রক্তদাতা ও গ্রহীতার রক্ত একই শ্রেণিভুক্ত হতে হয়। একই শ্রেণির রক্ত হওয়ার পরও রক্ত দেওয়ার পর রি-অ্যাকশন বা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এই প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে কি না, তা রক্ত সঞ্চালনের আগেই দেখে নেওয়া যায়, দেখে নেওয়া হয়। এটাই রীতি।

সপরিবারে
অধ্যাপক ডা.সালাহউদ্দীন শাহ---------------


রক্তচাপ ও রক্তপ্রবাহকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? কোনটির গুরুত্ব কী?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: হৃৎপিণ্ড হচ্ছে শরীরের সেই অঙ্গ, যে পাম্প করে সারা শরীরে রক্ত ছড়িয়ে দেয়, আবার সারা শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে। কোনো কারণে হৃৎপিণ্ড কাজ না করলে বা বন্ধ হয়ে গেলে রক্তপ্রবাহও বন্ধ হয়ে যায়।

রক্ত আপনা-আপনি সারা শরীরে প্রবাহিত হয় না। যেকোনো তরল পদার্থের মতো রক্তপ্রবাহের জন্য চাপের (বল) প্রয়োজন হয়। শরীরের মধ্যে এই চাপ তৈরিতে ভূমিকা রাখে কিছু হরমোন, হৃৎপিণ্ডসহ কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, রক্তনালি (রক্তনালির স্থিতিস্থাপক বৈশিষ্ট্য আছে), রক্তের বিভিন্ন উপাদান, রক্তে থাকা প্রোটিন-খনিজ—সবাই মিলে রক্ত চাপে ভূমিকা রাখে।

নানা কারণে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। প্রয়োজনের চেয়ে রক্তচাপ বেশি হলে স্ট্রোক হতে পারে, কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার রক্তচাপ কম হলে, সারা শরীরে পরিমাণমতো অক্সিজেন ও অণুপুষ্টি কণার সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রক্তবিজ্ঞান কী? রক্তবিজ্ঞানের পরিধি কতটা?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: রক্ত-সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় রক্তবিজ্ঞানের অন্তর্গত। রক্ত তৈরি, রক্তের গঠন, রক্তের উপাদান—এসব মৌলিক বিষয় তো আছেই। এ ছাড়া রক্তের কাজ বা ভূমিকার বিষয়গুলো এই বিজ্ঞানের অন্তর্গত। বাংলাদেশে যত ধরনের ক্যানসারে মানুষ আক্রান্ত হয়, তার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মূলত রক্তের ক্যানসার। রক্তের মাধ্যমে রোগনির্ণয়ের বিষয়টিও রক্তবিজ্ঞানের বিষয়।


এমবিবিএস পাঠক্রমে রক্ত কতটা গুরুত্ব পায়? স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ-সুবিধা দেশে কতটা আছে?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: রক্তে রোগের যে প্রকোপ, রোগনির্ণয়ে রক্তের যে ভূমিকা, সেই তুলনায় এমবিবিএস পাঠক্রমে বিষয় হিসেবে রক্ত কিছুটা অবহেলিত। আমি মনে করি, স্নাতক পর্যায়ে রক্তের বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে দুটি কোর্স বাংলাদেশে আছে। একটি এফসিপিএস, অন্যটি এমডি কোর্স। দেশে এর ওপরে কোনো ডিগ্রি নেই। দেশে এখনো পিএইচডি ডিগ্রিধারী কোনো রক্তবিশেষজ্ঞ নেই। রক্তবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্য বিএসএমএমইউ থেকে নেওয়া হচ্ছে।

কোনো কোনো রোগ শুধু রক্তরোগ বলেই পরিচিত। এসব রোগের প্রকোপ কেমন? অর্থাৎ মোটা দাগে কত মানুষ রক্তরোগে ভুগছে? এসব রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা বা সুযোগ-সুবিধা দেশে কি আছে?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: রক্তের যেকোনো সমস্যাই রক্তরোগ। লাল রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকার—এই তিনটির যেকোনো একটির সমস্যা হলে তা রক্তরোগ হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশে বহু মানুষ, বিশেষ করে নারীদের একটি বড় অংশ রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া মূলত রক্তরোগ।

রক্তের ক্যানসার লিউকোমিয়া, লিম্ফোমা, মাল্টিপল মাইলোমা নামে পরিচিত। আমরা থ্যালাসেমিয়ার কথা শুনি বা বলি, এটি একটি জন্মগত রক্তের সমস্যা। জন্মগত আরেকটি রক্তরোগের নাম হিমোফিলিয়া। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে কোথাও কেটে গেলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না। নারীরা এই রোগের বাহক, কিন্তু এতে আক্রান্ত হয় পুরুষ।

কিছু রক্তরোগের জন্য সমন্বিত চিকিৎসা দরকার। এর অর্থ পরিপূর্ণ রোগনির্ণয়, পরিপূর্ণ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধের ব্যবস্থা। কিন্তু দেশে এর ঘাটতি আছে। আদর্শ সমন্বিত চিকিৎসাকেন্দ্র দেশে একটিও নেই।

দেশে রক্তরোগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাত্র দেড় শ। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য শয্যাসংখ্যা খুবই কম। বিএসএমএমইউতে শয্যা মাত্র ২৩টি।

লিউকোমিয়ার আধুনিক চিকিৎসা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন। তবে দেশে এই চিকিৎসার সুযোগ খুবই সীমিত। বিএসএমএমইউতে এই আধুনিক চিকিৎসা পূর্ণাঙ্গ রূপে চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সক্ষমতাও দেশে অপরিপূর্ণ। এর জন্য অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেশের বাইরে থেকে করানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত বাংলাদেশের বরেণ্য রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা.সালাহউদ্দীন শাহ-------------------------

 


রক্ত নিয়ে দেশে গবেষণা কি হচ্ছে? রক্তের মৌলিক গবেষণার সুযোগ কতটা আছে?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: রক্ত নিয়ে দেশে মৌলিক গবেষণার ঘাটতি আছে। এফসিপিএস বা এমডি শিক্ষার্থীরা কিছু থিসিস করছেন পরীক্ষার প্রয়োজনে বা তাঁদের কোর্সের অংশ হিসেবে। এ ছাড়া শিক্ষকেরা কিছু কিছু গবেষণাধর্মী কাজ করছেন।

রক্ত নিয়ে মৌলিক গবেষণার জন্য পরিকল্পনা, অ্যানিমেল হাউস (পরীক্ষার জন্য প্রাণী), নিয়মিত অর্থায়ন ও সমর্থন বা সহায়তা প্রয়োজন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘাটতি আছে। আধুনিক প্রযুক্তিও দরকার। এসব না থাকলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না।

রক্তবিদ্যা চর্চা, গবেষণা ও রক্তরোগের বিশেষায়িত চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে কি তাল মিলিয়ে চলতে পারছে, নাকি পিছিয়ে আছে?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: রক্তরোগ চিকিৎসা ও রক্ত নিয়ে গবেষণায় প্রতিবেশী দেশ ভারত অনেক ভালো করছে। আমরা এ বিষয়ে ভারতের থেকে অনেক পিছিয়ে। বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ভারতের থেকে এ বিষয়ে অনেক এগিয়ে আছে। সেই অর্থে আধুনিক চিকিৎসা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও গবেষণার ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।


আপনার আলোচনায় বেশ কিছু সমস্যা উঠে এসেছে। এর সমাধান আপনি কীভাবে দেখেন?

মো. সালাহউদ্দীন শাহ: বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রথমে দরকার কর্মপরিকল্পনা। এই কর্মপরিকল্পনা সারা দেশের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারে তার নিজের জন্য। পর্যাপ্ত জনবল, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ অতি জরুরি।

আমি বলব, রক্তের জন্য জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার। যেভাবে হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ, ক্যানসার, চক্ষু ইত্যাদি বিষয় নিয়ে জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, ঠিক তেমনি রক্তবিষয়ক একটি পৃথক জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠান রক্ত বিষয়ে শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা দেবে। একই সঙ্গে রক্ত বিষয়ে জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করবে। প্রতিষ্ঠানটি হবে দেশের রক্তরোগের রেফারেল সেন্টার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে পারে। নাগরিক উদ্যোগেও এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। আবার সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বেও এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।
সৌজন্যে দৈনিক প্রথম আলো

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়