Dr.Liakat Ali

Published:
2022-11-20 17:13:21 BdST

নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনে ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা সম্ভব : বিএসএমএমইউ উপাচার্য


বিএসএমএমইউয়ে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিয়ে সেমিনার

 

বিএসএমএমইউ সংবাদ সংস্থা
______________

‘আগামীতে নিজেকে সুরক্ষায় ডায়াবেটিসকে জানুন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস-২০২২ উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডায়াবেটিস নিয়ে মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনার ও একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় (২০ নভেম্বর ২০২২) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটি। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ২ কোটি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ও ২ কোটি মানুষ প্রি-ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। প্রি ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যদি এ রোগ থেকে রক্ষা করা যায় তবে দেশে প্রতিবছর ১ লক্ষ কোটি টাকা সঞ্চয় হবে। এ টাকা দিয়ে আরো কয়েকটি পদ্মা সেতুর মত বড় প্রকল্প হাতে নেয়া যাবে।

অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শরীর চর্চা, খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শরীর চর্চার জন্য যতদ্রুত সম্ভব জিমনেসিয়াম নির্মাণ করা হবে। আমাদের জিহ্বায় যা ভাল লাগে তার অধিকাংশ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এক কথায় জীবনাচার নিয়ন্ত্রণ রাখলে ডায়াবেটিস প্রতিকারের পাশাপাশি প্রতিরোধও সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, ডায়াবেটিস নির্মুলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন কংগ্রেস আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল এম্বাসেডর অব ডায়াবেটিস হিসেবে ঘোষণা করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ডায়বেটিসের ব্যয়বহুল ওষুধ মেডফরমিন বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। যা সারা বিশ্বে প্রসংশিত হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, এনসিডি ঘটিত রোগে মানুষের কষ্ট। ডায়বেটিস, ক্যান্সার, হাইপারটেনশন, কার্ডিয়াক রোগ সম্পর্কে আমাদের সচেতন হতে হবে । সবচেয়ে বড় কথা ডায়বেটিসের কারণে অনেক অঙ্গ আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে প্যানক্রিয়াস, কিডনি, চক্ষু অন্যতম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন বিশেষজ্ঞ মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহাজাদা সেলিম, নেফ্রোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ ফজলুল সেলিম, অফথালমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী ।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথী স্ক্রীনিং ও তার চিকিৎসা সম্বন্ধে বলেন সহযোগী অধ্যাপক (ভিট্রিও-রেটিনা) ডা. তারিক রেজা আলী বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথী সারা বিশ্বে ২০-৭৪ বৎসর বয়সী মানুষের দৃষ্টি শক্তি হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। এই রোগের প্রকোপ ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের মধ্যে শতকরা ৩৪.৬ ভাগ। এদিকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের চোখে বিশেষ করে রেটিনায় কোন সমস্যা আছে কি না তা নির্ণয়ের কোন সঠিক দিকরেখা আমাদের দেশে তৈরি হয়নি। প্রতিটি ডায়াবেটিক রোগীকে বছরে অন্তত একবার চোখের রেটিনা পরীক্ষা করাতে হয়। একটি বিশেষ ড্রপ দিয়ে চোখের মনির আকার বড় করে এই পরীক্ষা সহজেই করা সম্ভব। বাংলদেশে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে সামগ্রিক অন্ধত্বের শতকরা ২.৫ ভাগ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথীর কারণে হয়ে থাকে। এ কারণে দেশে ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের রোগ বিশেষ করে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথী আছে কি না তা স্ক্রীনিং করা অত্যন্ত প্রয়োজন। চোখ পরীক্ষা করা ছাড়াও রেটিনার ছবি তোলা, প্রয়োজনে অন্যান্য বিশেষায়িত পরীক্ষা যেমন ফ্লুরেসিন এঞ্জিওগ্রাফি, অপ্টিকাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফী ইত্যাদি করা প্রয়োজন। এসবের জন্য পর্যাপ্ত স্ক্রীনিং সেন্টার ও রেফারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন। আমাদের দেশে যেহেতু চিকিৎসক ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ এর স্বল্পতা রয়েছে, তাই টেলি মেডিসিনকে জনপ্রিয় করা যায়। দেশে ১৮০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি সেন্টারে ন্যুনতম ৬০০০ রোগী দেখা হয়। তাই চোখের রেটিনার ছবি তুলে সেটা যদি কেন্দ্রে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয় তাহলে ছবি দেখে রোগ সনাক্ত করে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভব। মনে রাখতে হবে ডায়াবেটিস জনিত জটিলতায় মানুষ একেবারে অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করে অসংখ্য রোগীর দৃষ্টি রক্ষা করা সম্ভব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহজাদা সেলিম বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, প্রজনন বিষয়ক নানা সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ডায়াবেটিস রোগীর ৮০ শতাংশ মারা যায় হার্ট অ্যাটাকে। ডায়াবেটিস না থাকলে কিডনি রোগী অনেক কমে যেতো। ডায়াবেটিসের কারণে চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক বেড়ে যায়। ৬১% মানুষ যারা মনে করে তাদের ডায়াবেটিস নেই, কিন্তু টেস্ট করলে দেখা যায় তাদের ডায়াবেটিসের মাত্রা এতো বেশি যে ওষুধ বা ইনসুলিন শুরু করতে হয়। ডায়াবেটিস থেকে অন্য রোগ হওয়ার কারণে খরচ আরো বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসে ব্যক্তির পাশাপাশি সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতের মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যয় হয়।

সেমিনারে প্যানেল অব এক্সাপার্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসানাত, অধ্যাপক ডা. ফরিদ উদ্দিন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল সাব কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন রেসপেরেটরি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সম্প্রীতি ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।

#

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়