Dr.Liakat Ali

Published:
2022-08-11 16:49:16 BdST

ডায়াবেটিস রোধ করা গেলে বছরে চারটি পদ্মাসেতু নির্মাণ করা সম্ভব: বিএসএমএমইউ উপাচার্য


উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ

বিএসএমএমইউ সংবাদ সংস্থা
_________________

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) প্রিভেনশন অফ ডায়াবেটিস মেলিটাস (ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ) নিয়ে সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর বারটায় (১১ আগস্ট ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ) বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকে এই সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। সিম্পোজিয়ামের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধুর পরিবারসহ সকল শহীদদের স্মরণ করা হয়।
সিম্পোজিয়ামে উঠে আসে, ডায়াবেটিস একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। প্রায় ৪৬ কোটির বেশি লোক এ রোগে ভুগেন। আরও প্রায় ৪৬ কোটি লোক প্রি ডাইবেটিস রোগে ভুগছেন। বিশ্বে ২০০ মিলিয়ন লোক অর্থাৎ ২০ কোটি লোক এখনো আনডায়াগনোসড হিসেবে রয়ে গেছেন। বাংলাদেশে এ রোগে আক্রান্ত ১ কোটি ৩১ লক্ষ লোক। প্রি ডায়বেটিসে ভুগছেন ১ কোটি ৭০ লক্ষ লোক রয়েছে। অর্থাৎ ৩ কোটি লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবার ডায়াবেটিসের পিছনে ৮৬২ ডলার খরচ করে। প্রতি বছর ১ কোটি ৩১ লক্ষ লোকের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি খরচ করে। ডায়াবেটিস রোধ করা গেলে এ টাকা দিয়ে প্রতি বছর দেশে ৪ টি পদ্মা সেতু তৈরি করা যাবে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রাণীর শরীরের আইপি এনজাইম কম হলে ডায়াবেটিস হয়। মানুষের এই আইপি এনজাইম স্টুল এলকালাইন ফসফেট পরীক্ষার মাধ্যমে বের করা যাবে বলে সেমিনারে উঠে আসে।
সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান প্রশাসন গবেষণায় আরো অগ্রগতি ও উন্নতি করে ইতিহাস হতে চায়। ইতিমধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয় করোনা ভাইরাসের জেনোম সিকোয়েন্সিং করেছে। করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে কি নাই এসব বিষয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। যৌথভাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট তৈরি করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় যদি স্টুল এলকালাইন ফসফেট টেস্টের মাধ্যমে দেশের মানুষের ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে পারে তবে দেশে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করতে পারবে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের ডায়াবেটিসের আগাম ও পরবর্তী পর্যায় যদি প্রকাশ করা যায় তবে ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। প্রতি বছর দেশে ১ কোটি ৩১ লক্ষ লোকের জন্য ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। ডায়াবেটিস রোধ করা গেলে এ টাকা দিয়ে প্রতি বছর দেশে ৪টি পদ্মা সেতু তৈরি করা যাবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের অনারারি প্রফেসর ডা. মধু এস মালো মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে তিনি বলেন, তখন আমি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছিলাম। আমি কিছু মাউস বা ইদুর মডেল নিয়ে কাজ করেছি। যে মাউস মডেলগুলোতে একটি এনজাইম কম ছিল। এর নাম ইন্টেসটিনাল এলকালাইল ফসফেটস। ইন্টেসটিনাল এলকালাইল ফসফেটসের কাজ হচ্ছে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াল টক্সিনকে ধ্বংস করা। এই টক্সিনগুলো যদি রক্তে যায় তবে প্রদাহ সৃষ্টি করে। প্রদাহ যদি প্যানক্রিয়াসের বিটাসেলে আক্রান্ত হয় এটি টাইপ ওয়ান ডায়বেটিস। আর প্রদাহ যদি ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় তবে তা হচ্ছে টাইপ টু ডায়াবেটিস।
তিনি আরো বলেন, আমি যে মাউসগুলোর কথা বলছিলাম তাদের ইন্টেসটিনাল এলকালাইল ফসফেটস ছিল না। তখন আমার থিউরি হলো এই মাউসগুলো টক্সিনকে ধ্বংস করতে পারবে না। এদের ডায়াবেটিস হওয়া উচিত। এদের পরীক্ষা করে দেখতে পেলাম এদের ডায়াবেটিস আছে। এদের কোলেস্টেরল লেভেল হাই, টাইগ্রিস লেভেল হাই, এসডিএল লো, এলডিএল লেভেল হাই। এদের লিবার ডেমেজও হয়ে গেছে।
অধ্যাপক ডা. মধু এস মালো আরো বলেন, এনিমাল স্টাডির পর হার্ভার্ড থেকে চলে আসি। এখানে হিউম্যান স্টাডি শুরু করি। হিউম্যান স্টাডিতে যাবার আগে আমার মনে হলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ইদুরে যদি ইনজামইম কম তবে ডায়বেটিস আক্রান্ত মানুষেরও এই এনজাইম কম থাকে। পরীক্ষা করে এর সত্যতা পেলাম। যারা ডায়াবেটিস আক্রান্ত তাদের ওই এনজাইমও প্রায় ৫০% কম। এ তথ্য পাবার পর আমার থিউরি হলো, যে এই আইপি এনজাইম ডিফিসিয়েন্সি সম্ভবত ডায়াবেটিস তৈরি করছে। এটিই ডায়াবেটিস রোগের কারণ। তখন আমি দুটো গ্রুপকে নিলাম। এক গ্রুপের আইপি এনজাইম বেশী এবং অন্য গ্রুপে আইপি এনজাইম কম। এদের আমি পাঁচ বছর পর্যবেক্ষণ করি। পর্যবেক্ষণে দেখলাম যাদের আইপি এনজাইম কম তাদের ১৪ গুণ বেশি ডায়াবেটিস হচ্ছে। তিনি বলেন, এই আবিষ্কারের ভিত্তিতে টেস্ট ডেভলভ করেছি। যার নাম স্টুল এলকালাইন ফসফেট টেস্ট। এই এনজাইমটা স্টুলে পাওয়া যায়। এই এনজাইম স্টুল এলকাইল ফসফেট এর পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস বের করতে পারি। যাদের স্টুলে স্টুল এলকালাইন ফসফেট কম থাকলে তাদের ডায়াবেটিস বেশী।
তিনি আরো বলেন, ৩০-৬০ বছর বয়সী মানুষদের ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং করতে হবে। তাদের মধ্যে আইপি এনজাইম কম থাকলে স্বাস্থ্য শিক্ষা দিতে হবে। এর মাধ্যমে আমার মতে বিশ্ব থেকে ডায়াবেটিস দূর হবে।
সিস্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালেকুল ইসলাম।
সিম্পোজিয়ামে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ হাসনাত । এ সিম্পোজিয়ামটি সঞ্চালনা করেন এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তাহনিয়া হক।

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়