ডেস্ক

Published:
2021-04-30 12:35:30 BdST

বিএসএমএমইউ র জন্মদিন আজ


 

বিএসএমএমইউ ও বর্তমান উপাচার্য 


ডেস্ক
----------------------

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের প্রথম চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলা দেশের এই শীর্ষ স্বাস্থ্য সেবালয়ের জন্মদিন আজ।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও ভার্চুয়্যাল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বি’ ব্লকের সামনে গোলচত্ত্বরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। পরে উপাচার্য়ের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে শহীদ ডা. মিল্টন হলে ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় মন্ত্রী বিএসএমএমইউয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন।

জাহিদ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাসেবায় মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। করোনাকালীন এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা টেস্ট, রোগীর সেবা ও টিকাদানে ভূমিকা রেখে চলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় লকডাউন একমাত্র সমাধান নয়। এটা স্বল্পতম সময়ের জন্য প্রযোজ্য। লকডাউনে মানুষের নানা সমস্যা হয়। করোনা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি উপায়সমূহ নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাসহ সকল ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে করোনা থেকে মুক্তির দীর্ঘতম সমাধানের উপায়সমূহ খুঁজে বের করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও অগ্রগতি ছাড়া কোনো কিছুরই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নে আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। উদ্বোধকের বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে উঠেছে। আগামী দিনে শুধু দেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণায় সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই এ দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন হয়। ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান।


তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম প্রতিষ্ঠা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার, যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করব। বিশ্ব দরবারে চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণার মানদণ্ডে রোল মডেলে পরিণত করতে এখানে কর্মরত সবাইকে প্রস্তুতি নিতে হবে। চিকিৎসার জন্য রোগীদের যাতে দেশের বাইরে যেতে না হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার সব ধরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সভায় ভার্চুয়ালি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম. ইকবাল আর্সলান, মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোগীদের জন্য উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় পিজি হাসপাতাল নামেই বেশি পরিচিত বাংলাদেশের প্রথম চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার আগে এর নাম ছিল ইন্সটিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ।
ইতিহাস
চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতকোত্তর কোর্স প্রদানের জন্য ১৯৬৫ সালে ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (IPGMR) প্রতিষ্ঠিত হয়। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণার দায়িতপ্রাপ্ত হলেও এই সংস্থার ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা ছিল না। এটি ন্যস্ত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। IPGMR কার্যক্রমসহ অনেকগুলি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের এম.বি.বি.এস ডিগ্রি প্রদান করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল সংসদীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এমবিবিএস কোর্স চালু করা হলেও এই প্রতিষ্ঠানে পূর্বাপর কেবল স্নাতকোত্তর শিক্ষা প্রদান করা হতো।

উপাচার্য বৃন্দ

এম. এ. কাদেরী (৩০ এপ্রিল ১৯৯৮ - ৯ জানুয়ারী ২০০১)
মো. তাহির (১০ জানুয়ারী ২০০১ - ১৭ মে ২০০১)
মাহমুদ হাসান (১৮ মে ২০০১ - ২৩ নভেম্বর ২০০১)
এম এ হাদী (২৪ নভেম্বর ২০০১ - ২১ ডিসেম্বর ২০০৬)
মো. তাহির (২১ ডিসেম্বর ২০০৬ - ৪ নভেম্বর ২০০৮)
মো. নজরুল ইসলাম (৫ নভেম্বর ২০০৮ - ২৪ মার্চ ২০০৯)
প্রাণ গোপাল দত্ত (২৫ মার্চ ২০০৯ - ২৪ মার্চ ২০১২)
প্রাণ গোপাল দত্ত (২৫ মার্চ ২০১২ - ২৪ মার্চ ২০১৫)
কামরুল হাসান খান (২৪ মার্চ ২০১৫ - ২৩ মার্চ ২০১৮)
কনক কান্তি বড়ুয়া (২৪ মার্চ ২০১৮ - ২০২১)
অধ্যাপক ডা শারফুদ্দিন অাহমেদ মার্চ ২০২১ - বহমান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হাসপাতাল আছে যাতে উন্নতমানের চিকিৎসা প্রদানের আয়োজন আছে। প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক কাদরী। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট পাঁচটি বহুতল ভবন আছে; ব্লক এ, বি, সি, ডি এবং কেবিন ব্লক। শিক্ষা,গবেষণা এবং চিকিৎসা সমান্তরালভাবে চলে এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। শুক্রবার এবং সরকারী ছুটির দিন ছাড়া সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক দপ্তর খোলা থাকে।


ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। ঠিক পাশেই রয়েছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবোলিক ডিসঅর্ডারস (বারডেম)।

বিএসএমএমইউ ওয়েব সাইটের তথ্য 

বিএসএমএমইউ সম্পর্কে

Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University (BSMMU) is the premier Postgraduate Medical Institution of the country. It bears the heritage to Institute of Postgraduate Medical Research (IPGMR) which was established in December 1965. In the year 1998 the Government converted IPGMR into a Medical University for expanding the facilities for higher medical education and research in the country. It has an enviable reputation for providing high quality postgraduate education in different specialties. The university has strong link with other professional bodies at home and abroad. The university is expanding rapidly and at present, the university has many departments equipped with modern technology for service, teaching and research. Besides education, the university plays the vital role of promoting research activities in various discipline of medicine. Since its inception, the university has also been delivering general and specialized clinical service as a tertiary level healthcare center.

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়