Dr. Aminul Islam

Published:
2020-11-16 08:48:36 BdST

আত্মহত্যা বা সুইসাইড নিয়ে কিছু কথা


 

অধ্যাপক ডা. ঝুনু শামসুন নাহার 

বাংলাদেশের প্রথিতযশ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

______________________________

 

বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার ভাষ্য অনুযায়ী আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। বিষন্নতাসহ বিভিন্ন মানসিক রোগের বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা রয়েছে। প্রতি বছর ১০ই সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। ঐদিন রাত ৮-টায় জানালায় একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়তা করুন; আপনার হারানো প্রিয়জনদের স্মরণ করুন; এবং আত্মহত্যা প্রচেষ্টার পরেও যারা বেঁচে আছেন তাদের পাশে থাকুন।

বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার তথ্য অনুযায়ী প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যা করে মারা যায়। প্রতি বছর আট লাখ মানুষ বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা করে। গতবছর পত্রিকায় একটা আত্মহত্যার খবর পড়েছিলাম। রানু (আসল নাম নয়) মেডিকেলে পড়ে। মেডিকেলের এত পড়াশুনোর সাথে রানু কিছুতেই নিজেকে সামাল দিতে পারছিল না। সে তার বন্ধু-বান্ধব, ক্লাশমেট, সিনিয়র ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সাহায্যের জন্য বার বার চেষ্টা করেছে। সবাই তাকে আরো বেশী পড়ার দিকে মনোনিবেশ করার জন্য নানা উপদেশ দেয়। রানু ক্রমেই বিষন্নতায় ডুবে যায়। একটা কবিতার চারটি পংক্তি মনে পড়ে গেলঃ
সে কারো কাছ থেকে বিদায় নেয়নি/কাউকে সে প্রস্হানের কথা বলেনি/ স্বর্গের দরজা আস্তে করে খুলে গেল/নরম সুরে একটা শব্দ ভেসে এলো- ‘এসো’। ..........রানু সবার অলক্ষ্যে নীরবে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্হ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- Depression: Let’s Talk; আসুন বিষন্নতা নিয়ে কথা বলি। ডিপ্রেশন লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়। পরিবারের সবার সাথে, বনধু-বান্ধব, বিশেষজ্ঞ মনোচিকিৎসক ও মনোবিদের সাথে কথা বলুন। পরামর্শ নিন। বিষন্নতা যে আত্মহত্যার বড় একটা কারন সেটা বিভিন্ন গবেষনায় আমরা দেখেছি। সুইসাইড শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ‘suicidium’ থেকে। এর অর্থ হলো- নিজের জীবন নিজেই নিয়ে নেয়া।

আত্মহত্যার ঝুঁকির মধ্যে কারা আছেন?

*মানসিক অসুস্হ রোগী
*মাদকাসক্ত ব্যক্তি *নেতিবাচক পারিবরিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা
*বংশানুগত (genetic) সংবেদনশীলতা
*মানসিক আঘাত ও মৃত্যুজনিত বিচ্ছেদ
*আত্মহত্যার পূর্ব-প্রচেষ্টা *আত্মহত্যার পদ্ধতিগুলোর সহজপ্রাপ্যতা
*পরিবারে আত্মহত্যার পূর্ব-ইতিহাস
*নিজেকে মূল্যহীন মনে করা ও আশাহীনতা
*চাপ মোকাবেলায় ও ইমপাল্স বা তাড়না নিয়ন্ত্রনে অসমর্থ
*বয়স্ক মানুষের মধ্যে পরিবারের উপরে নিজেকে বোঝা মনে করা *কোনো কোনো ধরনের ব্যক্তিত্ত্ব্যের অসগংগতি … ইত্যাদি

আত্মহত্যা সম্পর্কিত তথ্য

*আর্থ-সামাজিক সমস্যা যেমন, বেকারত্ব, দারিদ্র, বৈষম্য আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় *আত্মহত্যার ব্যাপারে নৈতিক বিধিনিষেধ আছে ও উচ্চ-মাত্রার সংহতি আছে এ ধরনের সমাজে আত্মহত্যার ঘটনা অনেক কম দেখা যায় *বংশানুগত (genetic) কারনে ৪০% থেকে ৫৫% পর্যন্ত আত্মহত্যাজনিত আচরন ঘটতে পারে
*আত্মহত্যা করবার সময় প্রায় ৭০% থেকে ৮০% জনের মাঝে মানসিক রোগ থাকে
*উল্লেখ্য যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাদের মধ্যে ৫০% মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডাারের রোগী
*কৈশর ও যৌবনে মোটর দর্ঘটনার পরেই আত্মহত্যা মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারন
*টীনেজ ডিপ্রেশনকে কৈশরের সংকটকাল বলে অনেক সময় উপেক্ষা করা হয়
*আত্মহত্যা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা কখনোই আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় না। বরং ক্লায়েন্ট মনে করে ডাক্তার তার সমস্যা ভালো ভাবে বুঝতে চেষ্টা করছেন *আত্মহত্যাপ্রবণ বেশীর ভাগ মানুষই বেশ কিছু সতর্কীকরণ ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন *আত্মহত্যা যে কোনো বয়সে, আর্থ-সামাজিক-গোষ্ঠীগত প্রেক্ষাপটে লক্ষ্য করা যায়
*পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রিয়জন হারানোর মানসিক আঘাতের পাশাপাশি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বেড়ে যায়

গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন

*আত্মহত্যাজনিত আচরন ও আত্মহত্যার পূর্ব-প্রচেষ্টা
*আত্মহত্যা জনিত সরাসরি প্রশ্ন করা প্রয়োজন *প্রয়োজনে প্রফেশনাল সাহায্য নিন

গবেষণালব্ধ কিছু তথ্য

* বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার তথ্য অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে সুইসাইডের হার ৭.৪/১০০,০০০ *পুরুষদের মধ্যে সুইসাইডের হার মহিলাদের চেয়ে বেশী (১০.৫:৪.১)

বাংলাদেশ বিষয়ক কিছু তথ্য

*বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১১ সালে ১৯,৬৯৭ জন বাংলাদেশেআত্মহত্যা জনিত কারনে মৃত্যুবরন করে
*বাংলাদেশে প্রায় ৬,৫০০,০০০ জনের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় *শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ২০১০ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে এক লাখে ১২৮.০৮ জন আত্মহত্যায় মারা যান। ঐ রিপোর্টে আরো দেখা যায় যে, তাদের মধ্যে ৮৯% ছিল মহিলা এবং তাদের বেশীর ভাগই ছিল অবিবাহিত
*জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায় ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ৪০ জন মেয়ে বারংবার নিগ্রহের শিকার হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়
*পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায় যে, ২০০১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ৪,৭৪৭ জন মহিলা শারীরিক ও ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে *গবেষনায় দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১০,০০০ মানুষ আত্মহত্যা করে (MashrekySR1, RahmanF, RahmanA.) * বাংলাদেশে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যা একটা প্রধান কারন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং কিশোরী মেয়েদের মধ্যে প্রবণতা বেশী লক্ষ্য করা গিয়েছে। সামগ্রিক ভাবে এই বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৭.৩/১০০,০০০ (Psychiatry Journal; Volume 2017, Article ID 3047025; https://doi.org/10.1155/2017/3047025) *মহিলা ও পুরুষের অনুপাতিক হার যথাক্রমে ২২.৭:১৭.৭
*গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাঝে আত্মহত্যার হার ১৭ গুন বেশী পাওয়া গিয়েছে *গ্রামান্চলে কৈশরকালে আত্মহত্যার হার এক লাখে ২০.১
*সুইসাইড ভিক্টিমদের অধিকাংশই অত্যন্ত দরিদ্র ও অশিক্ষিত *আত্মহত্যা বাংলাদেশে একটা গুরুতর জনস্বাস্হ্য বিষয়ক সমস্যা

মিডিয়ার প্রভাব

*ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার একটা গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে *আত্মহত্যাকে যেন রোমান্টিক ভাবে বা সমস্যার ‘সমাধান’ হিসেবে কখনোই উল্লেখ করা না হয়
*সেলিব্রিটি বা বিখ্যাত কারো আত্মহত্যার খবর এই প্রবণতাকে বাড়াতে পারে। কপিক্যাট সুইসইডের রিস্ক এ্যাডোলেসেন্টদের মধ্যেই বেশী হয় *আত্মহত্যা করার পদ্ধতির বিস্তারিত বিবরন প্রকাশ না করাই বান্ছনীয় *মিডিয়া নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে রিপোর্ট করলে এ সংক্রান্ত ঝুঁকি অনেকটাই কম হবে

আত্মহত্যা প্রতিরোধের স্ট্র্যাটেজী

*আত্মহত্যার পদ্ধতিগুলোর উপরে নিয়ন্ত্রন আনতে হবে- যেমন, আগ্নেয়াস্ত্র, ড্রাগ, কীটনাশক যেন সহজলভ্য না হয় *মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তির যথাযথ বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা প্রয়োজন *প্রয়োজন অর্থনৈতিক অবস্হার উন্নয়ন
*সামগ্রিকভাবে সামাজিক সাপোর্ট ও যোগাযোগের উন্নয়ন আবশ্যিক *যথাযথ মিডিয়া রিপোর্টিং

‘ইউথেনেশিয়া’ (Euthanasia) ও এ্যাসিসটেড সুইসাইড (Assissted suicide)

‘ইউথেনেশিয়া’ (Euthanasia) শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ইউ' (eu) এবং ‘থানাতোস' (thanatos) থেকে এসেছে। ‘ইউ' অর্থ ভালো বা সহজ এবং ‘থানাতোস' মানে মৃত্যু । অর্থাৎ ‘ইউথেনেশিয়া’ এর মানে সহজ মৃত্যু । কোনো ব্যক্তি অত্যন্ত অসুস্থ কিংবা কঠিন কোনো রোগে আক্রান্ত হলে তাকে অসহনীয় কষ্ট ও ব্যথা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রাণনাশে সহায়তা করাকেই ইউথেনেশিয়া বা আরামের/সহজ মৃত্যু বলে।

সাধারণত তিন ধরনের ইউথেনেশিয়া রয়েছে। যেমন- ভলান্টারি বা স্বেচ্ছাকৃত ইউথেনেশিয়া, যেখানে রোগী নিজ ইচ্ছায় মৃত্যুগ্রহণ করতে চায়। নন-ভলান্টারি বা অস্বেচ্ছাকৃত ইউথেনেশিয়ায় রোগী কোমায় বা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় থাকে, যার দরুন এটি সম্পাদনে রোগীর অনুমতি বা মতামত নেওয়া সম্ভব হয় না। আর ইনভলান্টারি বা অনিচ্ছাকৃত ইউথেনেশিয়া রোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্পাদন করা হয়।

২০০২ সালের এপ্রিলে নেদারল্যান্ড পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে ইউথেনেশিয়াকে বৈধ ঘোষণা করে। তবে এক্ষেত্রে যথাযথ শর্ত পূরণ করলেই তা বাস্তবায়িত হবে, যেমন- রোগী যদি অসহনীয় ব্যথায় ভুগতে থাকে, অসুখটির চিকিৎসা সম্ভবপর না হলে এবং রোগী যদি সজ্ঞানে থাকা অবস্থায় এই ইউথেনেশিয়া দাবি করে, শুধুমাত্র তখনই এটি কার্যকর করা যাবে। ২০১০ সালে ৩,১৩৬ জন নেদারল্যান্ড অধিবাসীকে চিকিৎসকদের রক্ষণাবেক্ষণে প্রাণনাশক ঔষধ পান করানোর মাধ্যমে আত্মহত্যায় সহায়তা (Assisted Suicide) করা হয়।

বিশ্বের কয়েকটি দেশে ইউথেনেশিয়া বা স্বেচ্ছামৃত্যু চালু রয়েছে: লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম। আমেরিকার কয়েকটি রাজ্য, জার্মানি, জাপান, কানাডা, কলম্বিয়া ইত্যাদি কয়েকটি দেশ সহায়তা নিয়ে আত্মঘাতি হওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

বিশ্বের দুজন বিখ্যাত ব্যক্তি সিগমান্ড ফ্রয়েড ও ডেভিড গুডল স্বেচ্ছামৃত্যু বরন করেছিলেন। ফ্রয়েড ছিলেন একজন অস্ট্রিয় মনোরোগ চিকিৎসক এবং মনস্তাত্তবিক। তিনি মনোসমীক্ষন (Psychoanalysis) নামক মনোচিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবক। ফ্রয়েড ২৪ বছর বয়স থেকে তামাক ধূমপান সেবন শুরু করেন; শুরুতে তিনি সিগারেট খেতেন, এরপর তিনি সিগার (চুরুট) সেবনকারী হয়ে ওঠেন। সহকর্মী উইলহেম ফ্লিয়েস-এর কাছ থেকে স্বাস্থ্যগত সতর্ক‌বার্তা‌ পাওয়ার পরেও তিনি ধূমপান অব্যহত রাখেন, এবং অবশেষে মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির দিকে, ফ্রয়েড তার চোয়ালের ক্যান্সারের কারণে ব্যাপক যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকেন এবং চিকিৎসক তার এই যন্ত্রণাকে অনিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। তিনি তার বন্ধু চিকিৎসক ও প্রাক্তন সহ-শরণার্থী‌ ম্যাস্ক স্কার-এর সঙ্গে স্বেচ্ছামৃত্যুর ব্যাপারে যোগাযোগ করেন, যার সঙ্গে পূর্বে‌ তিনি তার শেষ পর্যা‌য়ের অসুস্থাবস্থা নিয়ে কথা বলেছিলেন। স্কার ও কন্যা আনা ফ্রয়েডের সঙ্গে যৌথ পরামর্শ‌ করে অবশেষে ১৯৩৯ সালের ২৩শে ডিসেম্বর অধিক মরফিন গ্রহণের মাধ্যমে স্বে‌চ্ছামৃত্যু হিসেবে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার ১০৪ বছর বয়সী উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদ ডেভিড গুডল। কোনো অসুস্থতা বা রোগাক্রান্ত না হয়ে বৈধভাবে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি। স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে অস্ট্রেলিয়া থেকে তাঁকে যেতে হয়েছে সুইজারল্যান্ডে। সেখানেই একটি ‘সহজ-মৃত্যু’ ক্লিনিকে প্রাণনাশক ইনজেকশন গ্রহণের মাধ্যমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ বাক্যটি ছিল ‘এটা এত সময় নিচ্ছে কেন।’ তাঁর মৃত্যুর সময় তাঁর আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফিলিপ নিচখে। তিনি জানান, ডেভিড তাঁর দেহ দান করে গিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি কোনো অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও স্মরণ পরিষেবা বা অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করে গেছেন।’
মৃত্যুবরণের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ডেভিড জানান, তিনি মৃত্যুর জন্য তৈরি। আরও বলেন, ‘আমার বয়সে বা এর চেয়েও কম বয়সে, একজন মৃত্যুর মাধ্যমে মুক্তি চাইবেই, যখন তার জন্য সেটাই উপযুক্ত সময় মৃত্যু গ্রহণ করার।’

শেষ কথা
বেশীর ভাগ আত্মহত্যা প্রবণ মানষই বাঁচতে চায়। তারা সেসময় অন্য কোনো বিকল্প পথ দেখতে পায় না বলেই আত্মহননের পথ বেছে নেয়। একটা গল্প দিয়ে শেষ করা যাক…. একাকী এক বৃদ্ধের গল্প। কাইয়ুম সাহেব (আসল নাম নয়)। স্ত্রী মারা গিয়েছেন বছর ছয়েক হলো। গ্রামের এক মহিলা রান্না-বান্না, গৃহকর্মের কাজ করে দিয়ে যায়। বৃদ্ধের দুই ছেলে। ছোট ছেলে বিদেশে আর বড় জন ঢাকায়। সাত বছর বয়সী একজন নাতিও আছে। একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতা তাকে গ্রাস করে ধরলো। তিনি তীব্র বিষন্নতায় আক্রান্ত হলেন। বেঁচে থাকার আর ইচ্ছে নেই এমন কথা প্রায়ই বলছেন আশেপাশের অনেককেই। আত্মহত্যার প্ল্যান করেছেন; বেশ কিছু দিন ধরে ওষুধ কিনে জমিয়েছেন। এক রাতে তিনি টেবিলে এক গ্লাস পানি রাখলেন ও সেই সাথে ওষুধগুলো। সুইসাইড নোট লিখলেন- ‘আমার মৃত্য্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। ঠিক সেই মুহুর্তে কাইয়ুম সাহেবের মুঠোফোনে একটা কল এলো ঢাকা থেকে। বৃদ্ধের সাত বছরের নাতি আনন্দিত গলায় বলল, ‘কাল আমরা তোমার কাছে বেড়াতে আসছি। অনেকদিন থাকবো, তোমার সাথে অনেক খেলবো; লাভ ইউ দাদু’। বৃদ্ধ ওষুধগুলো ড্রয়ারে রাখলেন, সুইসাইড নোটটি ছিড়ে ফেললন এবং অধীর আগ্রহে পরের দিনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন।

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়