Ameen Qudir

Published:
2020-04-08 09:56:12 BdST

বিশ্বজুড়ে দুষ্প্রাপ্য ফেস শিল্ড বানিয়েছে বিএসএমএমইউ ও চারুকলা


ছবি সংগ্রহ

ডেস্ক
_____________________

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে যখন ফেসশিল্ড নিয়ে আকাল ও টানাপড়েন , ঠিক তখনই বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক ও ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউট মিলে একটা ‘ফেইস শিল্ড’ তৈরি করেছেন। এটা করোনা চিকিৎসায় চিকিৎসকদের সুরক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
ফেইস শিল্ড প্রস্তুতকারী এ দলটির তত্ত্বাবধান করছেন বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া  ।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য র অনুপ্রেরণায়
‘ফেস শিল্ড’ এর নকশা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে ডিন অধ্যাপক নেসার হোসেন। তিনিই এর কাঁচামালও সরবরাহ করেছেন। নেসার হোসেনের কাছ থেকে ফেস শিল্ড বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বিএসএমএমইউ সাত তরুণ চিকিৎসক। এদের মধ্যে শিশু বিভাগের রেসিডেন্ট চিকিৎসক আরিফ হোসেন, আবু ইউসুফ হোসেইন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মাছুদুর রহমান রয়েছেন ।


ডা. মাছুদুর রহমান বলেন, বিশ্বে গগলসের সংকট আছে। বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া ও সহ-উপাচার্য সাহানা আখতার রহমান চারুকলার ডিন নিসার হোসেনকে অনুরোধ করেন একটি নকশা তৈরি করে দিতে। তিনি নকশা তৈরি করে আমাদের কয়েকজনকে প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। আমরা ইতিমধ্যে সাড়ে তিন শ মতো ফেস শিল্ড তৈরি করেছি। করোনা রোগীদের যারা চিকিৎসা দেবেন তাদের জন্য এই ফেস শিল্ড কাজে দেবে। আমরা ৭০০ মত ফেইস শিল্ড তৈরি করতে চাই।
চিকিৎসকরা জানান,
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক ও নার্সের নিরাপত্তার জন্য পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দেওয়া হচ্ছে; তার মধ্যে রয়েছে, সম্পূর্ণ প্রতিরোধমূলক পোশাক, এন ৯৫ মাস্ক, গ্লাভস ও গগলস।

আইসিইউতে ভর্তি করোনা রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের নিরপত্তার জন্য গগলসের বিকল্প হিসেবে ‘ফেস শিল্ড’ ব্যবহার করা যাবে।

শিল্পী অধ্যাপক নেসার হোসেন বলেন, চিকিৎসকেরা আমাদের জানাচ্ছিলেন ফেস শিল্ড তৈরির নকশা করে দেওয়ার জন্য। আমরা ভিডিও দেখে একটা নকশা তৈরি করি। এরপর পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ম্যাটরিয়াল নিয়ে আসি। এখন যেটি তৈরি করা হয়েছে সেটি সম্পন্নভাবে ওয়াটার প্রুফ বা পানিনিরোধক। এরপর আমরা কিছু তরুণ চিকিৎসককে এটি কীভাবে তৈরি করা যায় তার প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ওরা প্রতিদিন ১৫০ ফেইস শিল্ড তৈরি করছে।

অধ্যাপক নেসার হোসেন বলেন, আমরা একটা ডেন্টাল হাসপাতালকে কিছু ফেস শিল্ড দিয়েছি। চিকিৎসা সেবার সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবেন তাদের প্রত্যেকের এটি প্রয়োজন হবে। কোন হাসপাতাল চাইলে তাদের তৈরি করতে আমরা প্রশিক্ষণ দেব, ম্যাটেরিয়াল কোথা থেকে আনতে হবে সেটিও দেখিয়ে দেব ।

ফেস শিল্ডের অকাল পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মুঠোফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ২০ লাখ ফেস শিল্ড তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে হুট করে চাহিদা বেড়ে যাওয়া উৎপাদনকারী কোনো দেশই ফেস শিল্ডই দিতে পারছে না। সে কারণে বাংলাদেশ চাইলে অন্য দেশ থেকে এটি আমদানি করে আনা বেশ খানিকটা জটিল।

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়