SAHA ANTAR

Published:
2021-08-19 06:38:09 BdST

কে এই ইন্ডিয়ান আইডল পবনদীপ : পাশাপাশি ফ্ল্যাট কিনছেন অরুণিতার সঙ্গে


 

সংবাদ সংস্থা_____________


পবনদীপ রাজন (Pawandeep Rajan) বলেছিলেন, তিনি এই ‘ইন্ডিয়ান আইডল 12’-এ জেতার জন্য আসেননি, সেরা বিচারকদের কাছ থেকে শিখতে এসেছিলেন। কিন্তু 15 ই অগস্ট দুপুর বারোটা থেকে শুরু হওয়া গ্র্যান্ড ফিনালের প্রথম থেকেই একটি সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টালে পোল চলছিল। তাতে দেখা যাচ্ছিল, পবনদীপের দিকেই ভোট বেশি আসছে। এরপর কাঁটায় কাঁটায় রাত বারোটার সময় পবনদীপের হাতে উঠল ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর ট্রফি। তার সাথে পবনদীপ পেলেন পঁচিশ লক্ষ টাকার চেক এবং গাড়ির চাবি।

২০১৫ সালে ‘ভয়েস অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় সুযোগ পান পবনদীপ। শেষ অবধি এই প্রতিযোগিতা জিতে যান তিনি। পবনদীপের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি, পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চেক, একটি মারুতি অলটো কে টেন কারের চাবি এবং ইউনিভার্সাল মিউজিক কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তিপত্র।

ইন্ডিয়ান আইডল’র ১২তম সিজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন পবনদীপ রাজন ও অরুণিতা কাঞ্জিলাল। গ্র্যান্ড ফিনালেতে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠে পবনদীপের মাথায়, কিন্তু জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বেশি এগিয়ে ছিলেন অরুণিতা।

বেশ কিছু পর্বে একসঙ্গে রোমান্টিক গান গেয়েছেন এই দুই প্রতিযোগী। দীর্ঘ আট মাসের যাত্রায় নাকি মঞ্চের বাইরেও দু’জনের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে।


এ থেকেই তাদের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে একে অপরের ভালো বন্ধু বলেই দাবি করেছেন অরুণিতা ও পবনদীপ।


তাদের এমন দাবির পরও প্রেমের গুঞ্জন থামেনি। এবার সেই গুঞ্জনের মধ্যে যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন ‘ইন্ডিয়ান আইডল’র আরেক প্রতিযোগী মোহাম্দ দানিশ।


এই প্রতিযোগী জানান, অরুণিতা ও পবনদীপ নাকি মুম্বাইয়ে এক বিল্ডিংয়েই ফ্ল্যাট কিনতে চান।

দানিশ  সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘অরুণিতা-পবনদীপ উড়ো খবরে নজর দেয় না। তারা খুব ভালো বন্ধু। তাদের সম্পর্কের বন্ধন খুবই শক্ত। আমিও চাই এই বন্ধুত্ব যেন সারাজীবন এরকমই থাকে। ’

অরুণিতা আর পবনদীপের এক বাড়িতে ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা কথা জানিয়ে দানিশ বলেন, তারা মুম্বাইতে একই জায়গায় ফ্ল্যাট কেনার কথা ভাবছেন। এমনকী এই প্রতিযোগিতায় এসে আমাদের যাদের ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে সবাই তাই ভাবছি। কখন যেন আমরা বন্ধু থেকে পরিবার হয়ে গেছি। তাই পাশাপাশি থাকার পরিকল্পনা, যাতে সবার বন্ধুত্ব এরকমই থাকে।

কে এই পবন দ্বীপ

 


উত্তরাখন্ডের একটি মিউজিক‍্যাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পবনদীপ। তাঁর বাবা সুরেশ রাজন (Suresh Rajan) এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। বাবার কাছেই পবনদীপের সঙ্গীতশিক্ষার হাতেখড়ি। কলেজে পড়ার সময় থেকেই পবনদীপ বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। এভাবেই তিনি নিজেকে রীতিমতো পাকাপোক্ত করে তুলছিলেন। 2015 সালে ‘ভয়েস অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় সুযোগ পান পবনদীপ। শেষ অবধি এই প্রতিযোগিতা জিতে যান তিনি। পবনদীপের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি, পঞ্চাশ লক্ষ টাকার চেক, একটি মারুতি অলটো কে টেন কারের চাবি এবং ইউনিভার্সাল মিউজিক কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তিপত্র।


এই চুক্তি অনুযায়ী 2015 সালে পবনদীপের প্রথম মিউজিক ভিডিও ‘ইয়াকিন’ রিলিজ হয়। একই বছর ‘ভয়েস অফ ইন্ডিয়া’ পবনদীপকে উত্তরাখন্ডের ইউথ ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ঘোষণা করা হয়। 2016 সালে আরুন হারুণ রশিদ (Aarun Harun Rashid)-এর যৌথভাবে একটি মিউজিক অ্যালবামে কাজ করেন যার নাম ‘ছোলিয়র’। 2017 সালে ‘রোমিও অ্যান্ড বুলেট’ ফিল্মের জন্য পবনদীপ ‘তেরে লিয়ে’ গানটি গেয়েছিলেন। গান ছাড়াও কি-বোর্ড, ড্রাম, তবলা, গিটারের মতো বেশ কয়েকটি মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতেও সিদ্ধহস্ত পবনদীপ। ‘ইন্ডিয়ান আইডল 12′-এর মঞ্চেও তিনি ঢোলক বাজিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন।

 

এবার পবনদীপের জিত প্রসঙ্গে কিছু কথা বলাই যেতে পারে। পবনদীপের কেরিয়ার গ্রাফ দেখে মনে হচ্ছে, তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। যতদূর জানা যায়, ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মতো রিয়েলিটি শো-গুলি নতুন প্রতিভাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়। কিন্তু পবনদীপ তো তথাকথিত নতুন প্রতিভা ছিলেন না। অরুণিতা কাঞ্জিলাল (Arunita Kanjilal)-ও কিন্তু জি বাংলা ‘সারেগামাপা লিটল চ্যাম্প’-এর বিজয়িনী ছিলেন। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর প্রথম তিনটি স্থানে তাঁরাই ছিলেন যাঁরা এর আগে কোনো না কোনো প্রতিযোগিতা জিতেছেন অথবা যাঁদের একটু হলেও শিল্পী হিসাবে পরিচিতি রয়েছে। তাহলে কি সত্যিই ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মতো রিয়েলিটি শো-গুলি ‘আইওয়াশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়? আশা করা যায়, একসময় এই প্রশ্নের উত্তর দর্শকরাই দেবেন।

 

 

আপনার মতামত দিন:


বিনোদন এর জনপ্রিয়