SAHA ANTAR

Published:
2021-07-04 04:21:11 BdST

গর্ভের সন্তানকে খুন করেছে স্ত্রী, অভিযোগ এনে আবারও বিতর্কে নোবেল: স্ত্রী জানান, প্রেগন্যান্টই নন



সংবাদ সংস্থা
___________________

মইনুল আহসান নোবেল, বাংলাদেশের জনপ্রিয় গায়ক। ফেসবুকে পরিচিত ‘নোবেল ম্যান’ নামে। যার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ‘সাধু ব্যক্তি’। অথচ সর্বদাই তাঁকে ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক। সেই তালিকায় এ বার নতুন সংযোজন।

গত ২৮ জুন ফেসবুকে ‘সুসংবাদ’ দিয়েছিলেন নোবেল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁদের জীবনে আসতে পারে নতুন অতিথি। ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘হয়তো আমরা মা-বাবা হতে চলেছি। আমার এবং আমার সহধর্মিণীর জন্য দোয়া করবেন।’ মুহূর্তেই নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নোবেলের পোস্ট। শুভেচ্ছা বার্তায় ভরে যায় মন্তব্য বাক্স। এত দূর পর্যন্ত সবটাই ঠিক ।

 


তবে হঠাৎই ছন্দপতন। নোবেলের স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ ফেসবুক লাইভে এসে জানিয়ে দেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা নন এবং এ বিষয়ে নোবেলের সঙ্গে তাঁর কোনও রকম কথাবার্তাও হয়নি। নিজের নতুন গানের প্রচারের জন্যই নোবেল এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। নোবেলের উপর ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, “মাতৃত্বের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে মজা করাটা অপরাধ। আমার কাছের মানুষ এমন কিছু করে থাকলে আমি খুবই লজ্জিত।’


স্ত্রীর অভিযোগের জবাব দিয়েছেন নোবেল। সালসাবিলের এই লাইভের পরেই ফেসবুকে সাফাই দিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট লেখেন গায়ক। তিনি জানান, সালসাবিল অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কিছু লক্ষণের কথা তাঁকে বলেছিলেন। উত্তেজনায় তাই নিশ্চিত খবর না জেনেই ‘বাবা’ হওয়ার আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। নোবেলের সন্দেহ, তাঁর স্ত্রী ওষুধের সাহায্যে ইতিমধ্যেই তাঁদের অনাগত সন্তানকে ‘খুন’ করেছেন।

 


বর্তমানে তাঁরা এক সঙ্গে থাকেন না। নোবেলের পোস্টের শেষ ভাগ থেকেই সে কথা স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর সন্ধান তিনি জানেন না। পড়াশোনা এবং পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সালসাবিল। কিন্তু অজস্র বিতর্কের পরেও সালসাবিলের সঙ্গে ‘সংসার’ করার স্বপ্ন দেখছেন নোবেল।।


নোবেল ম্যান পেজে নোবেল লিখেছে,

মাতৃত্ব কেবল মাত্র একজন নারীর জন্যই পবিত্র কিংবা সম্মানের বিষয় নয়। একজন পুরুষের জন্যেও অত্যন্ত আনন্দের এবং খুব গর্বের একটি বিষয়। এগুলো নিয়ে কেউ মিথ্যাচার করেনা। একটি শিশুকে ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে ধারণ করেন মা। কিন্তু শিশুর পিতা কিন্তু সেই মা-কে ১০ মাস বুকে আগলে রাখে।

আমার স্ত্রী, সালসাবিল তাঁর অন্তসত্যা হবার লক্ষণগুলো আমার সাথে শেয়ার করেন এবং তার ফলশ্রুতিতে আমি এক্সাইটেড হয়ে স্টেটাসটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করি। সম্ভব্য পিতা হিসেবে বিষয়টা কি স্বাভাবিক নয়? আপনি বাবা হবার ইঙ্গিত পেলে নিজে কি করতেন বলুন? আমি মাত্র ২৩ বছর বয়সে বাবা হবার খুশি ধরে রাখতে পারিনি।

তবে স্টেটাসটি দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আমার স্ত্রী, সালসাবিল আমাকে ফোন করে বাচ্চা “এবর্শন” করে ফেলবে, এই হুমকি দেয়। কারণ আমি নাকি তাঁর বাচ্চার বাবা হবার যোগ্য না। আমার অনেক হেটার্স! অনেক কন্ট্রোভার্সি। ব্যাংক ব্যালেন্স এই মুহূর্তে একটু কম। যেহেতু আমাদের শিল্পীদের গত বছর মার্চ থেকে “লাইভ কন্সার্ট” বন্ধ। তাছাড়া দুজন প্রাপ্তবয়ষ্ক ছেলে-মেয়ে স্বসম্মতিতে বিয়ে করেছি, তাই আমার স্ত্রীর পিতৃপক্ষ কোনভাবেই আমাদের বিয়ে টিকতে দেবেনা। এমনকি আমার ঘরের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

যদিও আমি আমার স্ত্রীকে মেডিকেল টেস্ট করবার আগেই আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে স্টেটাসটি দেই। মেডিকেল করলে হয়তো পজিটিভই আসতো। তবে যানিনা এতক্ষনে আমার সম্ভব্য বাচ্চাটি জীবিত আছে নাকি “পিলস” খেয়ে শিশুটির মা শিশুটিকে খুন করেছে। তবে কয়েকটি মাস পর যে শিশু বা ফেরেস্তাটি পৃথিবীর আলো দেখতো, আমার প্রাণ চলে গেলেও আমি তার প্রাণহানি হতে দিতাম না।

কিন্তু আমি তো আমার স্ত্রীর কোনো সন্ধানই যানিনা। কোথায় থাকে, কার সাথে থাকে, কি করে, কি পরে, কি খায়? কিছুই যানিনা। এই ১.৫ বছরের বৈবাহিক জীবনে আমার সঙ্গে আমার স্ত্রী খুব অল্প সময়ই ছিলো। কারন সে তার পড়ালেখা এবং তার বাবা-নানু-খালা-বোনদের নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। সংসারটা এখনও আমার করা হয়নি। হয়তো হবে একদিন।

আমাদের সম্প্রতি পাবনা ট্যুরে আমার স্ত্রী নিজেই বলেছেন তিনি বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক। তবে কেনো আজ এই কাদা ছোড়াছুড়ি। সাংবাদিক ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমার বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করার জন্য। ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন:


বিনোদন এর জনপ্রিয়