ডাক্তার প্রতিদিন

Published:
2020-05-22 11:13:40 BdST

মোহনলাল: এক মহাতারকার জন্ম ও উত্থান যে ভাবে : আসছেন বাংলা ছবিতে ইমাম চরিত্রে


 


ডেস্ক
_______________

মোহনলাল বিশ্বনাথন (২১শে মে ১৯৬০) হলেন একজন মহাতারকা অভিনেতা ও প্রযোজক। তিনি মূলত মালয়ালম চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করে থাকেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে তার কর্মজীবনে তিনি তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। মালায়ালাম চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি ভারতের আরও অন্যান্য অঞ্চলের চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন।

মোহনলাল বাংলা ছবিতে

মালায়ালাম ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা মোহনলাল এবার বাংলা ছবিতে।
পরিচালক আশিস রায় আবার আবুল বাশারের উপন্যাস ‘ফুল বউ’ নিয়ে ছবি করতে চলেছেন।
উপন্যাসের ইমাম চরিত্রের অভিনয় করবেন মোহনলাল।
এর আগে আবুল বাশারেরই উপন্যাস ‘ভোরের প্রসূতি’ নিয়ে তৈরি ছবি ‘সিতারা’তে তিনি আসেন এম. নাসির আর মেঘনা নাইডুকেও।

আশিস রায়ের একটি ছবিতে। এছাড়া কমলিনী মুখোপাধ্যায়কে নিয়েও তিনি ছবি শুরু করছেন। লিখছেন মহুয়া দত্তমিত্র

মালায়ালাম ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা মোহনলাল এবার বাংলা ছবিতে। পরিচালক আশিস রায় আবার আবুল বাশারের উপন্যাস ‘ফুল বউ’ নিয়ে ছবি করতে চলেছেন। উপন্যাসের ইমাম চরিত্রের অভিনয় করবেন মোহনলাল। এর আগে আবুল বাশারেরই উপন্যাস ‘ভোরের প্রসূতি’ নিয়ে তৈরি ছবি ‘সিতারা’তে তিনি আসেন এম. নাসির আর মেঘনা নাইডুকেও। এমনকী তাঁর পরবর্তী ছবি ‘অভিগমন’-এর মুখ্য চরিত্র ইন্দুবালাও হচ্ছেন দক্ষিণের প্রবাসী বাঙালি অভিনেত্রী কমলিনী মুখোপাধ্যায়। এটা কমলিনীর দ্বিতীয় বাংলা ছবি। দক্ষিণের অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করার বিশেষ কোনও কারণ? ‘আমি যখন দক্ষিণের ছবিতে কাজ করতাম, দেখেছি মৌলিক গল্প পেলে ওখানকার অভিনেতারা এখানে কাজ করতে চান। ওখানে কাজ করার সময় ওঁদের ডেডিকেশন দেখেছি। তখনই ঠিক করি বাংলা মৌলিক গল্প নিয়ে কাজ করলে ওঁদের বলব। তাই প্রস্তাব দিই। আর ওঁরাও রাজি হয়ে যান,’ দাবি আশিসের। কথা ছিল আগে ‘ফুল বউ’ নিয়ে ছবি শুরু করবেন। কিন্তু তার আগে হঠাৎ ‘অভিগমন’ কেন? তাঁর মতে, ‘ফুল বউ’-এ অনেক চরিত্র। ঠিকঠাক কাস্টিং প্রয়োজন। মোহনলাল রাজি হয়েছেন। ‘ফুল বউ’ চরিত্রের জন্য রাধিকা আপ্তের সঙ্গে কথা বলছেন। নায়িকার থেকে ‘গ্রিন সিগনাল’ পেলেই বাকি কাস্টিংয়ে মন দেবেন। তার মাঝেই ‘অভিগমন’ ছবির প্রস্তাব পান। গল্পটাও ভালো লাগে। তাই ‘সিতারা’ মুক্তির পর এই কাজটা শুরু করছেন। দুটি ছবিতেই পরিচালকের অন্যতম প্রিয় অভিনেতা সুব্রত দত্ত থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। ‘লাট্টু’ ছবি থেকে পরিচালক আর অভিনেতার রসায়ন শুরু হয়। তাই সুব্রত তাঁর ছবিতে থাকবেন না, এটা পরিচালক ভাবতেই পারেন না। ‘সিতারা’ ছবিতেও একজন রাজনৈতিক নেতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুব্রত দত্ত।


মোহনলাল পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে দুটি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে, একটি বিশেষ জুরি মেনশন, অভিনয়ের জন্য একটি বিশেষ জুরি পুরস্কার, ও প্রযোজক হিসেবে একটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া তিনি নয়টি কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার ও দশটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার দক্ষিণসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে তার অবদানের জন্য ২০০১ সালে ভারত সরকার তাকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে। ২০০৯ সালে তিনি প্রথম এবং একমাত্র অভিনয়শিল্পী হিসেবে ভারতের সীমান্ত সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদ লাভ করেন তিনি ২০১০ সালে শ্রী শঙ্করাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় ও ২০১৮ সালে কালিকুট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেন।

মোহনলাল বিশ্বনাথন ১৯৬০ সালের ২১শে মে কেরালা রাজ্যের পাটানামতিত্তা জেলার এলানথুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বিশ্বনাথন নয়ার সাবেক কূসলী এবং কেরালা সরকারের আইন সচিব এবং মাতা সন্তকুমারী। তিনি তার পিতামাতার দুই সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠ। তার বড় ভাই প্যায়ারেলাল (২০০০ সালে সামরিক অভিযানে মারা যান)। মোহনলাল তার পৈতৃক নিবাস তিরুবনন্তপুরমে মুদাবনমুগলে বেড়ে ওঠেন। তিনি তিরুবনন্তপুরমের গভর্মেন্ট মডেল বয়েজ হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং পরে মহত্মা গান্ধী কলেজ থেকে বি.কম ডিগ্রি অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবন
মোহনলাল ১৯৮৮ সালের ২৮শে এপ্রিল তামিল চলচ্চিত্র প্রযোজক কে. বালাজির কন্যা সুচিত্রার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে, তারা হলেন প্রণব ও বিস্ময়া মোহনলাল। প্রণব কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন, তার অভিষেক ঘটে মোহনলালের অন্নমন (২০০১) চলচ্চিত্রে। তিনি চেন্নাইয়ে বসবাস করেন, এবং প্রায়ই তার নিজ শহর তিরুবনন্তপুরম ও কোচিতে যাওয়া আসা করেন। কোচির তেবরায় তার একটি বাড়ি রয়েছে। উটি ও মহাবালিপুরমেও তার বাড়ি রয়েছে, ও আরবীয় র‍্যাঞ্চে একটি ভিলা, এবং দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। মোহনলাল ভাগ্য ও আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাস করেন। তিনি নিজেকে ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক মননসম্পন্ন ব্যক্তি বলে উল্লেখ করেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত
এক ‘নোবডি’র মালায়ালাম মহীরুহ হওয়ার অতিমানবীয় গল্প শিরনামে এক লেখায়
জহিরুল কাইউম ফিরোজ জানান,

তায়কোয়ান্ডোতে ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়া ‘লালেট্টা’ (ভক্তরা মোহনলালকে আদর করে লালেট্টা ডাকে) ক্যামেরার সামনে প্রথম দাঁড়ান ১৯৭৮ সালে। বন্ধুরা মিলে তৈরি করেন ‘তিরানোট্টাম’ নামের সিনেমা যাতে কুটাপ্পা চরিত্রে অভিনয় করেন মোহনলাল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল এই কুটাপ্পা! প্রথম ছবিতেই ভিন্নধর্মী কিছু করার চেষ্টা সফলতার মুখ দেখেনি। সেন্সর জটিলতায় সেটি মুক্তিই পায়নি।

১৯৮০ সালে পরিচালক ফাজিল তার প্রথম ছবির জন্য একটা নতুন মুখ খুঁজছিল। ‘মঞ্জিল ভিরিঞ্জা পোক্কাল’ মুভিতে দুর্ধর্ষ ভিলেনের ভূমিকায় অভিনয় করে ছাড়িয়ে গেছেন হিরো শঙ্করকেও! তারপর আর পিছু ফিরতে হয়নি তাঁকে। সিনেমার বক্সঅফিস সাফল্য আর দক্ষ অভিনয়ের উপহারস্বরুপ পরের চার বছরে একে একে ২৫টি সিনেমায় কাজ করেন মোহনলাল, যার অধিকাংশ নেগেটিভ রোলে।

 

আলোর মুখ না দেখা নিজেদের বানানো ওই মুভিতে সহকারী হিসেবে থাকা একজন বন্ধু ছিল প্রিয়দর্শন। ততদিনে পরিচালনায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। ১৯৮৪ সালে বন্ধু মোহনকে দিয়ে করিয়ে নেয় কমেডি ড্রামা ‘পোচাক্করু মক্কুত্তি’, বক্স অফিসে পায় বিগ হিটের তকমা।


১৯৮৬ সালকে মোহনলালের ক্যারিয়ারের মোস্ট ভ্যালুয়েবল সাল বললে ভুল বলা হবে না একরত্তিও। একবছরে ৩৪টি সিনেমা রিলিজ করার বিশ্বরেকর্ডের জন্যে নয় শুধু, সে বছরই সুপারস্টার হবার পথে একধাপ এগিয়ে যান লালেট্টা। নির্মাতা থাম্পি কান্নাথানাম তার নেক্সট প্রজেক্ট ‘রাজাভিন্তে মাকান’ ছবির জন্য মামুট্টিকে চুক্তিবদ্ধ করলেও শিডিউল জটিলতায় কাজটা ছেড়ে দেন মেগাস্টার।

তাতে নতুন করে চুক্তি স্বাক্ষর করেন মোহনলাল। এর পরের গল্পটুকু সোনার হরফে লিখে রাখবেন মোহনলাল। মুক্তির পর মালায়লামের অন্যতম বিগেস্ট হিটের তকমা পেয়ে যায় রাজাভিন্তে মাকান, আর লালেট্টার কপালে লাগে সুপারস্টারের তকমা। ১৯৮৮ তে বন্ধু প্রিয়দর্শনের সাথে ফের জুটি বাঁধেন।

‘চিত্রম’ টাইটেলের মুভিটি গড়ে এক অনন্য রেকর্ড! ৩৬৫ দিন, মানে গোটা একটা বছরজুড়ে কেরালার কোন না কোন থিয়েটারে চলেছেই এটি, মালায়লি মানুষ সাক্ষী হয় নতুন এক উপাখ্যানের। মুভিতে সহজ সরল বালক কিরেদামের চরিত্র রূপায়ন করে হাতে তোলেন ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, জুরি বোর্ডের পছন্দের ভিত্তিতে।

শুরু থেকেই চলচ্চিত্রে মোহনলালের ভিত ছিল শক্ত। সেই খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে পরিণত করেন কেরালার অন্যতম বড় এই মশলা ব্যবসায়ী। ১৯৮৮ সালে জুরি বোর্ড ম্যানশনে পুরস্কার জিতলেও সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রথম জাতীয় পুরস্কার পান ১৯৯১ সালে ‘ভারাতাম’ সিনেমার মাধ্যমে। আট বছর বাদে ১৯৯৯ তে আবার পান ‘ভানাপ্রস্থাম’ এর মধ্য দিয়ে। একে একে অসংখ্য হিট ছবির জন্ম দেন তিনি।

থুভানাথুম্বিকাল, নারোদিকাতু, আক্কারে আক্কারে আক্কারে, চন্দ্রলেখা- উল্লেখযোগ্য কাজ। কমেডিয়ান শ্রীনিবাস আর মোহনলালকে মুভিতে নাও, হিট নিশ্চিত- নব্বইয়ের দশকে মালায়লাম ইন্ডাস্ট্রিতে সাফল্যের টোটকা ছিল অনেকটা এমনই! এই জুটির অধিকাংশই ইন্ডাস্ট্রি হিটের তকমা পাওয়া, ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘উড়ায়ানানানু থারাম’ তো তাদের অন্যতম সেরা কাজ, সবচেয়ে বড় হিট!

 

সামান্য থেকে অতিমানব
উত্থান যেখানে আছে, পতনের গল্পও থাকবে সেখানে। কমপ্লিট অ্যাক্টর মোহনলালের ক্যারিয়ারেও আছে আপ অ্যান্ড ডাউনস! ২০০০ সালে ‘নারশিমা’ সিনেমা দিয়ে মলিউডে নিজেকে অনন্য এক উচতায় নিয়ে যান তিনি। শাজি কৈলাসের নির্মাণে সেই মুভি বক্সঅফিস ভেঙ্গেচুরে দেয়। লালেট্টা বনে যান সুপার হিউম্যান। কিন্তু খুব বেশিই হয়ত উপরে উঠে গিয়েছিলেন। তাকে নিয়ে ভক্তদের আশার পারদও চড়তে শুরু করে তরতরিয়ে।

ফলাফল- প্রাজা, ওনামাম, থান্ডাভাম- টানা ফ্লপ যেতে থাকে মুভি; কমতে থাকে খ্যাতি। তবে তিনি মোহনলাল যিনি ভিলেন থেকে শুরু করে অ্যাকশন, কমেডি, রোমান্টিক, এক্সপেরিমেন্টাল ক্যারেকটার সবকিছুতেই নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন! যার সমন্ধে রজনীকান্ত বলেন- তিনি এমন কিছু চরিত্র করেছেন, যেগুলো আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারি না!

এমন একজন মানুষের ফেরাটা সময়ের ব্যাপার। তিনি ফিরেওছেন। ২০১৩ সালে মুক্তি পায় ‘দৃশ্যম’, গোটা ভারতেরই অন্যতম সেরা একটি থ্রিলার ভাবা যেই সিনেমাকে। চমৎকার ন্যাচারাল অভিনয়ে রাজার মতোই ফিরেন তিনি। ছবিটি আয় করে ৭৫ কোটি রূপি!

 

বক্স অফিসের রাজা
মোহনলাল যেন মলিউডের বক্স অফিস মনস্টার! ছোট্ট এক ফিল্মপাড়া, সেখান থেকে ১০ কোটিও একসময় অনেক মনে হতো! অথচ সেখান থেকেই মোহনলাল বের করেছেন ১০০ কোটির সিনেমা। এতেই থমকে গেলে হবে না। পিছন ফিরে তাকালে দেখবেন মলিউডের প্রথম ৫,১০,২০,৩০, ৫০, ১০০ কোটি আয় করা সবগুলো মুভির অভিনেতার একজনই- মোহনলাল বিশ্বনাথ। এতটাই ক্রেজ যে, বাহুবলি ২ প্রায় সব রাজ্যের রেকর্ড চুরমার করলেও অক্ষত থাকে মোহনলালের পুলি।

কেরালার সর্বোচ্চ ১৬৫ কোটি রূপি আয় করা পুলিকে টপকাতে পারেনি শুধু ভারতে সর্বোচ্চ আয় করা বাহুবলি। তেলেগুতে জনতা গ্যারেজ নামে ছবিতে এনটিআর জুনিয়রের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন, সেটিও বক্সঅফিসে ১০০ কোটি ছাড়ায়। যা মোহনলালকে এনে দেয় দারুণ অর্জন। একমাত্র মলিউড অভিনেতা হিসেবে মালায়লাম এবং তেলেগু দুই জায়গায় ১০০ কোটি আয় করা ছবি রয়েছে তার ঝুলিতে।

মলিউডের মহীরুহ
বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। বয়স যত বাড়ছে পরিণত হচ্ছেন যেন। কিংবদন্তি মামুট্টির সাথে একটা অদৃশ্যমান প্রতিযোগিতায় দু’জন যতটা লাভবান হচ্ছেন, কয়েকগুণ বেশি হচ্ছে মলিউড। সমৃদ্ধ হচ্ছে অর্জনের ভান্ডার মলিউডকে এখন সমীহের চোখে দেখে সবাই, যার কৃতিত্বের অনেকখানি ভার মোহনলালের। ‘উড়িয়ান’, এরপর ‘রান্দামোঝাম’-এর মতো কাজগুলি মালায়ালাম ফিল্মপাড়াকে আরো পরিণত করেছে।

 

ফেসবুক, টুইটার প্রতিনিয়ত সরগরম থাকে লালেট্টার নিত্যনতুন লুক, চ্যালেঞ্জিং কাজের জন্য। পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা একবার বলেছিলেন- কাজ দিয়ে যদি ডিরেক্টরদের শতভাগ খুশি কেউ করতে পারে সেটি মোহনলাল। মনি রত্নম তো বলেই দিয়েছেন- তার সঙ্গে কাজ করতে গেলে আমি কাট বলতে ভুলে যাই। তবে সবাইকে ছাপিয়ে অমিতাভ বচ্চনই হয়ত বলেছেন সবার না বলা কথা- তিনি চমৎকার অভিনেতা!

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কর্ণেল উপাধি পাওয়া একমাত্র অভিনেতা মোহনলাল ২০০৬ সালে নির্বাচিত হন কেরালার সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে। তিনি ম্যামোত্তির মতো মেগাস্টার নন, ডায়লগ পাঞ্চের জন্য বিখ্যাত সুরেশ গোপি নন, তিনি সবার চেয়ে আলাদা। সবকিছুর মিশ্রণ! ক্যারিয়ারে ২০টি ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দেওয়া লালেট্টাকে এমনি এমনিই তো আর ‘কমপ্লিট অ্যাক্টর’ বলা হয় না!

AD...

আপনার মতামত দিন:


বিনোদন এর জনপ্রিয়