Ameen Qudir

Published:
2018-12-24 12:43:19 BdST

ইন্ডিয়ান আইডলউপমহাদেশের সঙ্গীতের সেরা খেতাব ইন্ডিয়ান আইডল জিতলেন দরিদ্র কিশোর সালমান


 


ডা. স্বীকৃতি সাহা , ডা. রাজিব আহমেদ ও ডা. রোজী ইয়াসমিন
_______________________

প্রয় ২৫ সপ্তাহ ধরেই দেখে চলেছিলাম ইন্ডিয়ান আইডল । প্রথম থেকেই মন কেড়েছিল সালমান আলী। নিষ্পাপ কিশোর। আর আমাদের হৃদয় হরণ করেছিল অঙ্কুশ ভরদ্বাজ । যে কিনা ক্রমশ চোখের আলো হারিয়ে ফেলছিল । কিন্তু দিন কে দিন অসাধারণ গাইছিল। পাশাপাশি আমাদের বাঙালি কন্যা নীলাঞ্জনা রায় তো আছে।

এবারের ইন্ডিয়ান আইডলের চুড়ান্ত রায় বরাবরের মত হয়েছে দর্শক ভোটেই। সম্ভবত এবারই প্রথম দর্শক তাকেই ইন্ডিয়ান আইডলের খেতাব দিয়েছে ,যে কিনা সত্যিকারের মহাশিল্পী। আশা করা যায়, অরিজিত সিংএর মত সেও হবে বলিউড গানের বাদশা।
প্রতিভার কোন সীমারেখা হয় না। প্রতিভাকে লুকিয়ে রাখাও যায় না। হরিয়ানার মেওয়াটের বিদ্যুৎহীন , রাস্তাঘাটহীন অন্ধকার গ্রামের সঙ্গীত সাধক পরিবারের ছেলে সালমান সেই নিসীম অন্ধকার কাটিয়ে মুম্বাইয়ের আলো ঝলমলে টিনসেল টাউনে ঠিকই তার অবস্থান গড়ে নিয়েছে। কেউ ঠেকাতে পারে নি। হ্যাঁ, সালমান আলীই ইন্ডিয়ান আইডল।

এই সময়ে উপমহাদেশের সঙ্গীতজগতের উদীয়মান তারকা। হত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। মঞ্চে ২৩ ডিসেম্বর তার মাকে দেখা গেছে। মহানন্দে তিনি নেচেছেন সন্তানের উৎসবে। এমন পরিবারের সন্তান আজ ইন্ডিয়ান আইডল , এ শুধু ভারতবর্ষেই সম্ভব। সেখানে প্রতিভার কোন অপচয় করে না তারা।

 

ভারতের সনি ইন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনে প্রচারিত গানের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান আইডল-১০ এর খেতাব পেল সালমান আলী। প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে অঙ্কুশ ভরদ্বাজ ও নীলাঞ্জনা রায়।
এবারে যথার্থ বিচার হয়েছে। এদের পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোল্ডেন পাওয়া নীতিনও অনন্য সেরা শিল্পী। সেও সম্মান পেয়েছে কম নয়।
বাংলাদেশ থেকেও কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন এ অনুষ্ঠান রাতভরে। যাদের সাথে আমাদের আলাপ হয়েছে সবাই এক বাক্যে এই বিচারের সপক্ষে ছিলেন।
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১২টায় টান টান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিযোগিতার বিচারক নেহা কক্কর ও বিশাল দাদলানি ইন্ডিয়ান আইডল-১০ হিসেবে সালমান আলীর নাম ঘোষণা করেন। গান অনুরাগী আড়াই কোটি ভোটারের ভোটে ইন্ডিয়ান আইডল-১০ শিরোপা জিতে নেন সালমান আলী। এবার সনি লাইভ এ্যাপসের মাধ্যমে ভোট গৃহীত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার ভোটার ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানা গেছে । সে অর্থে এবারের বিচারে বাংলা দেশ ভোটারদেরও অংশগ্রহণ উজ্জ্বল।


সালমান আলী চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, ২৫ লাখ রুপির চেক ও গাড়ি উপহার পেয়েছেন। সেরা গোল্ডেন হিসেবেও পেয়েছেন চেক। প্রথম রানার আপ অঙ্কুশ ভরদ্বাজ ও দ্বিতীয় রানার আপ নীলাঞ্জনা রায় পাঁচ লাখ টাকার চেক ও টপ ফাইভের অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নীতিন কুমার ও বিভোর পান তিন লাখ রুপির চেক ।

উপমহাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় এ গানের রিয়েলিটি শো চলতি বছরের ২৯ জুলাই শুরু হয়। ফাইনালে বিশেষ অতিথি ছিলেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান, ক্যাটরিনা কাইফ ও আনুশকা শর্মা উপস্থিত ছিলেন।

 

বাঙালি কন্যা নীলাঞ্জনা রায়

 

বলিউড তারকা শিল্পা শেঠি ও কোরিওগ্রাফার গীতা কাপুর সনি টেলিভিশনে আসন্ন শিশুদের নাচের রিয়েলিটি শো সুপার ড্যান্সার চ্যাপ্টার তিন প্রমোশনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এ ছাড়া ফাইনালের পাঁচ প্রতিযোগী জনপ্রিয় গায়ক-গায়িকা বাপ্পী লাহিড়ী, সুরেশ ওয়াদকার ও অলকা যাজ্ঞিকের সঙ্গে গান গাওয়ার সুযোগ পান।

 

অঙ্কুশভরদ্বাজ________________

জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটিতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নেহা কক্কার, বিশাল দাদলানি ও জাবেদ আলী। শুরুতে সুরকার অনু মালিক বিচারক হিসেবে অনুষ্ঠান মাতালেও পরে মি টু আন্দোলনে বাদ পড়েন। সনি তাকে বাদ দিতে কোন বিলম্ব করে নি।

 

যে কারণে বাদ পড়েন অনু মালিক _________

বলিউডে যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে মিটু আন্দোলন। রাজনীতি, বিনোদন জগতসহ দেশটির বিভিন্ন অঙ্গনে ওলটপালট চলছে এই আন্দোলনের প্রভাবে। তার জেরেই এবার জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ থেকে বাদ পড়েন আনু মালিক।

সনি চ্যানেলের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে আনু মালিককে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়ান আইডল-এর বিচারকদের প্যানেলে আনু মালিককে আর রাখা হচ্ছে না। তবে শো যথাসময়েই চলবে।’

একদম শুরু থেকেই এই রিয়্যালিটি শো-এর বিচারকের আসনে ছিলেন আনু। অন্য বিচারক পরিবর্তন হলেও সিজন-১০-এ এসেও তার জায়গা বদল হয়নি। এই সিজনে আনু মালিকের সঙ্গে এই শোয়ের বিচারক ছিলেন বিশাল দাদলানি ও নেহা কক্কর।

সংশ্লিষ্ট মহল জানায়, এই সঙ্গীত পরিচালকের বিরুদ্ধে পর পর যৌন হেনস্থা তথা #মিটু অভিযোগের জেরেই তাকে বাদ দেওয়া হলো।

আনু মালিকের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে প্রথম যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন সোনা মহাপাত্র। তারপর পণ্ডিত যশরাজের নাতনি শ্বেতা পণ্ডিত তাকে শিশুদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত বলে উল্লেখ করেন। মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে আনু মালিক তাকে যৌন হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ তোলেন শ্বেতা।

এরপর আরও দুই মহিলা আনুকে #মিটু-র কাঠগড়ায় তোলেন। প্রথম মহিলার অভিযোগ, আনু নিজের বাড়িতে ডেকে জোর করে জড়িয়ে ধরে স্কার্ট টেনে নামিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর নিজের প্যান্টের চেন খুলে তাকে চেপে ধরেছিলেন।

অন্য মহিলার অভিযোগ ছিল, আনু মালিক তাকে একটি শিফন শাড়ি পরে স্টুডিওতে যেতে বলেছিলেন। সেই স্টুডিওর ফ্লোরে তাকে চেপে ধরেন আনু মালিক। মহিলার দাবি, লাগাতার আপত্তির পর অবশ্য নিজেকে সামলে নেন আনু মালিক।

তবে অভিযোগ ওঠার পর থেকে আনু মালিক সোনা মহাপাত্রকে চেনেন না বলে দাবি করে আসছেন। শ্বেতার অভিযোগও ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু, শেষ দুই মহিলার অভিযোগ নিয়ে অবশ্য এখনও তার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তার এক আইনজীবী জুলফিকার মেমন দাবি করেছেন, ‘আমার মক্কেল #মিটু আন্দোলন সম্মান করেন। তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। এই আন্দোলনকে কারও চরিত্রহননের জন্য ব্যবহার করা হলে তা অত্যন্ত নোংরা মানসিকতার পরিচয়।’

আরও অভিযোগ________________

'মুম্বই: ভারতীয় টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'ইন্ডিয়ান আইডল'! প্রতি বছর হাজার সঙ্গীতপ্রেমী অডিশন দিতে ছুটে আসেন ! স্বপ্ন দেখেন, যদি প্রথম ১০জনের মধ্যে অনন্ত জায়গা করে নেওয়া যায়!

কিন্তু হালে প্রকাশ্যে এল এই জনপ্রিয় শোয়ের এক কদর্য দিক, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তুমুল শোরগোলের সৃষ্টি হয়েছে! কিন্তু কেন?


২০১২ সালের ইন্ডিয়ান আইডলের প্রতিযোগী নিশান্ত কৌশিক অভিযোগ এনেছেন, ইন্ডিয়ান আইডল চলাকালীন তাঁকে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছিল! আর এই ঘটনার সত্যতা মেনে নিয়েছেন 'ইন্ডিয়ান আইডল'-এর জনপ্রিয় সঞ্চালিকা মিনি মাথুর।

২০১২ সালে 'ইন্ডিয়ান আইডল' শোয়ের তৃতীয় রাউন্ড থেকে বের হয়ে যেতে হয় নিশান্ত কৌশিককে। সম্প্রতি ট্যুইটার নিশান্ত লিখেছেন ''২০১২ সালে ইন্ডিয়ান আইডলে অডিশন দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার কাছে ভয়ঙ্কর। আমার মতে, একজন প্রতিভার স্বপ্ন ধংস করার জন্য এই প্লার্টফর্মই যথেষ্ট। ''

তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, '' ইন্ডিয়ান আইডলের অডিশন শুরু হয়েছিল দুপুর ১টার সময়। অডিশন দেওয়ার জন্য আমরা সকাল ৭টা থেকে ২ কিলোমিটার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন প্রতিযোগীও ছিলেন যাঁরা ভোর পাঁচটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কেউবা রাতেই এসে লাইন দিয়েছিলেন। অডিশন শুরু হওয়ার পরও কোনও সঠিক ব্যবস্থা ছিল না ! না ছিল খাবার, না জল, না শৌচালয়। আমার তৃষ্ণার্ত অবস্থায় অডিশনের জন্য দাঁড়িয়েছিলাম।''

আপনার মতামত দিন:


বিনোদন এর জনপ্রিয়