Ameen Qudir

Published:
2018-12-22 13:33:52 BdST

নির্বাচন ভাবনাএকজন চিকিৎসকের নির্বাচন ভাবনা


 

বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ডাক্তার প্রতিদিন বিভিন্ন মত ও পথের চিকিৎসক কলামিস্টদের লেখা প্রকাশ করছে। এ পর্যায়ে প্রকাশ হল বিএসএমএমইউর সহযোগী অধ্যাপক
ডা. তারিক রেজা আলীর লেখা । পরবর্তীতে ভিন্নমতও প্রকাশ হবে।

ডা. তারিক রেজা আলী
______________________________

নির্বাচনের ছয় মাস আগে থেকে প্রচারণা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রচুর ব্যবধানে পরাজিত হবে। এ সব প্রচারণা আমার আশে পাশের তারাই করতেন যারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রত্যক্ষ - পরোক্ষ ভাবে নানা ভাবে উপকৃত হয়েছেন গত দশ বছর ধরে এবং এখনো হচ্ছেন। আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য হচ্ছে তারা সক্রিয় ভাবে ছাত্রলীগ করতেন না। ছাত্রদল বা ছাত্র শিবিরের যদি কেউ এ কথা বলেন, আমি কোন পাল্টা জবাব দেব না। তারা এরকম বলতেই পারেন। তাহলে যাদের কথা বলছি কি মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন তারা? বুঝতেই পারছেন নানা রকম বামপন্থী দলের সদস্য ছিলেন, সমর্থক ছিলেন তারা। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় শান্তিতে জীবন যাপন করছেন, ব্যাবসা-বাণিজ্য যথেষ্ট ভাল। কোন বিপদে পড়লে সাহায্যের হাত দ্রুত পৌঁছে যায় তাদের কাছে। বরং অনেক ছাত্রলীগ কর্মীকে জানি, মাঝে মাঝেই তারা নিজেদেরকে খুব একা দেখতে পান। কর্মস্থলে যখন কোন বিপদে পড়েন, সমর্থন আশা করেন সহকর্মীর, দেখা যায় তাদের পাশে কেউ নেই। যে সকল নেতাকে আদর্শ মনে করে ছাত্রজীবন পার করে কর্মজীবনে পৌঁছেছেন, নেতৃবৃন্দ সবাই খুব ভাল ভাল পদে আছেন, ক্ষমতার কোপে যখন কাউকে ধরাশায়ী করতে হয় তখন তাঁরা খুঁজে খুঁজে পরীক্ষিত ছাত্রলীগ কর্মীকেই বের করেন।

ডা. তারিক রেজা আলী

যে কথা বলছিলাম, নির্বাচন এলে সে সব বামপন্থী নেতা-কর্মী খুব নিরপেক্ষ হয়ে যান। তাদের উচিত ছিল নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালানো। তা না করে তারা ছবক দেন, ভাল মানুষকে ভোট দিন। খুব ভাল কথা। কেন সরাসরি বলতে পারছেন না, দেশকে এগিয়ে নিতে নৌকার বিকল্প নেই, তাই আমরাও সবাইকে নৌকায় ভোট দিতে আহবান জানাই। যেন নৌকা বিজয়ী না হয়ে জামাত -বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে তাদের কিছু আসে যায় না। বস্তুতঃ তারা মনে মনে নৌকার পরাজয় কামনা করেন। দেশের মানুষের সাথে কথা না বলে মনগড়া পরিসংখ্যান শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ড্রইংরুমে বসে প্রস্তুত করেন। তারা লিখতে পারেন খুব ভাল, কথা বলতে পারেন আরো ভাল। সুন্দর ভাবে তারা প্রচারণা চালান, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করবে না। কথাটি একেবারেই সত্য নয়। দেশের আনাচেকানাচে বাস্তবিকই নৌকার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বামপন্থী বন্ধুদের কারো কারো সকাল থেকে গভীর রাত অতিবাহিত হয় আওয়ামী বিরোধী খবর সংগ্রহ করে। সে সকল খবরের কয়টা সত্যি, কয়টা মিথ্যা সে প্রসঙ্গে যাব না। তারা প্রভূত আনন্দ পান আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বিশেষত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোন খবর পরিবেশন করতে পারলে।

ইদানীং তাদের প্রচারণার বিষয় কিছুটা ভিন্ন। তারা এখন বলছেন ২৪ তারিখ সেনাবাহিনী টহল শুরু করলেই পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যাবে। পিল পিল করে বের হয়ে আসবে জাতীয়তাবাদী আর জামাতী শক্তি। এসব বলে তারা একধরণের ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা করছেন। তারা মনে করছেন গত দশ বছরে আওয়ামী লীগের যে বিশাল কর্মী বাহিনী তৈরি হয়েছে, তারা আসলে হাইব্রিড, কাজের কাজ কিছু করতে পারবে না। একটু হালকা ধাক্কা দিলেই এরা যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করে পগার পার হয়ে যাবেন। হয়তো কথাটা আংশিক সত্য। তবে তাদের হিসাবের ভুল যেখানে, তারা জানেন না, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের পরীক্ষিত সৈনিকেরা এখন প্রস্তুত। দেশবাসী জানেন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ না এলে দেশ আবার পিছিয়ে যাবে কয়েক দশক। সেটা যাতে না হয়, সকল ভেদাভেদ ভুলে তাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ এবং ১৯৯৬ সালের আর ২০০৮ সালের সত্যিকারের কর্মীরা আবার একতাবদ্ধ। একতার কোন বিকল্প নেই।

মাঝে মাঝে স্ত্রীকে বলি, তোমার সাথে বিয়ে না হয়ে অমুকের সাথে হলে জীবন না জানি কত শান্তিময় হতো! জবাবে স্ত্রী বলেন, "আমি যদি আড়াল থেকে দেখতে পেতাম কেমন চলে তোমার সংসার। আমি বিনে অন্য মেয়ের সাথে কেমন ভাল থাকো তুমি, যদি সত্যি দেখতে পেতাম!" আমারও সেরকম বলতে ইচ্ছে করে, আমাদের বামপন্থী বন্ধুরা কেমন ভাল থাকবেন যদি আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে ক্ষমতার বাইরে থাকে, সত্যি যদি দেখতে পেতাম! ফেসবুকে কি জ্ঞান গর্ভ বাণী তারা লিখবেন তখন, দেখার সাধ জাগে। তবে এটা যে হওয়ার নয় তা তারাও বোঝেন। এবং ক্ষমতায় থাকার সু্যোগ-সুবিধা থেকে তারা যে কখনোই বঞ্চিত হবেন না, সেটাও তাদের ভাল জানা।
__________________________

ডা. তারিক রেজা আলী। সহযোগী অধ্যাপক, রেটিনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

আপনার মতামত দিন:


নির্বাচন এর জনপ্রিয়