Ameen Qudir

Published:
2018-12-07 19:08:00 BdST

ভিকারুননেসা শিক্ষিকাকে জেল কেন : কোন ফাঁদে পা দিল না তো সরকার ?




ডা.নাজিমুদ্দিন আহমেদ
___________________________

নির্বাচনের এই মৌসুমে বড় রকমের ঝুঁকি নিয়েই লিখছি এই লেখা। খুব বেশী কথা বলব না। বেশী বললে বিপদ।
ভিকারুননেসা স্কুলের একজন শ্রেনী শিক্ষিকাকে জেল দেয়া হল। তার জামিন হল না। এই জেল দেয়া আখেরে কি সরকারের জন্য ভাল হল। আমার বড় আশঙ্কা , কোন পরিকল্পিত ফাঁদে পা দিল না তো সরকার ?
যারা বলবেন , আমার রাজনৈতিক পরিচয় কি ! হ্যাঁ, সরকার দলীয় সমর্থক একজন ডাক্তার । উপজেলায় কাজ করি। জনগনের ভাষা জানি , শুনি , বুঝি। উদ্বিগ্ন হয়েই লিখছি। পত্রিকায় পড়লাম, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় ভিকারুননিসা শিক্ষিকা হাসনা হেনার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই শ্রেনী শিক্ষক কিভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভয়ে আবেগবশত সরকার কি এই ভুল করল। মনে রাখবেন , আসছে নির্বাচন মাঠ পর্যায়ে কারা পরিচালনা করে । সকলের জানা কথা, সেখানে শিক্ষকরা কি বিশাল পরিমানে কাজ করে। ভোটগ্রহণে তারা সব থেকে বেশী সাহায্য করে সরকারি প্রশাসনকে।
সেই শিক্ষকদের কয়েকজনকে বরখাস্ত , জেলে পাঠানো কি বুদ্ধিমানের কাজ হল।

আমি মাঠ পর্যায়ে ডাক্তারি করি , চাকরিও করি। প্রচুর লোকের সাথে কথা হয়। শিক্ষক সমাজের সঙ্গে কথা হয়। তাদের কেউই মনে করে না, ওই শিক্ষিকা আমাদের সকলের কন্যাসমা অরিত্রীর মৃত্যুর জন্য দায়ী।
ঢাকার মুহুর্তের আবেগ বড় বিস্ফোরণের আকার নিলেও মিলিয়ে যেতেও সময় নেয় না। কিন্তু সারা দেশে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। সেজন্য গ্রাম থানা জেলার লোকজনকে মফস্বলী বলে শহরের লোকজন হাসে। কিন্তু এবারের ভোট শুধু ঢাকা শহরে হচ্ছে না। সারা দেশে হচ্ছে। ভোটের কাজে লাখো শিক্ষক অংশ নেবে। ভোটও দেবে লাখ লাখ শিক্ষক। নারী শিক্ষকও লাখের ওপরে। এদের খেপানো হল কার বুদ্ধিতে। শহরে বসে রাজা উজির না মেরে ভোটের মৌসুমে গ্রামে বন্দরে আসেন।
সবাই অরিত্রীর প্রতি কড়াকড়ির বাড়াবাড়ি সমর্থন করছে না। কিন্তু শিক্ষিকাকে জেলে পাঠানোও সমর্থন করছে না।
এই শিক্ষিকা আমার আত্মীয়া নন। তিনি একা জেলে গিয়ে লাখো শিক্ষককে বিক্ষুব্ধ করলেন।

জানলাম,

বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচণায় মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী।

দিলীপবাবু মামলা করতেই পারেন । তিনি কন্যা হারিয়েছেন। তার কষ্ট একজন কন্যাহারা বাপই বুঝবে। কিন্তু তাই বলে একজন শিক্ষিকাকে এভাবে জেলে নেয়া হল কোন আক্কেলে ।

আমাকে মাঠে ময়দানে অনেকে জিজ্ঞেস করছেন, এই শিক্ষিকা কি কন্যাসমা অরিত্রীর সঙ্গে কোন চরম খারাপ ব্যবহার করেছেন। যে জন্য সে সুইসাইড করল।

দিলীপবাবুর মামলাকে আমি কোন দোষ দেই না। কিন্তু মামলার তদন্ত কতটা হল। আদৌ শিক্ষিকা দায়ী কিনা, তা ভাল ভাবে তদন্ত হয়েছে নাকি আবেগের বশে তাকে গ্রেপ্তার করা হল। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিন্নাত আরাকেও আসামি করা হয় এ মামলায়। এর আগে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে তিনজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জানা গেছে, বাকি দুই শিক্ষককেও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ভাল কথা । সরকার বা প্রশাসন দোষীকে শাস্তি দিক। দেশের শিক্ষব্যবস্থা পাল্টাক।
নকল করাকে যদি বৈধ করা হয়, আমাদের আপত্তি নেই। বই খুলেও শিক্ষার সুন্দর সিস্টেম চালু করা যায়। প্রশ্ন যদি এমন হয়, যে খোলা বই থেকে তার উত্তর বের করে লিখতে পুরো বই পড়তে হবে, তবে বই খুলেও পরীক্ষা নেয়া যায়।
সেরকম সিস্টেম হলে এই শিক্ষিকারা তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেবেন।

এখন যেটা হল, তাতে শিক্ষকদের খেপানো হল। যারা আমার সঙ্গে দ্বিমত, তারা থানা বন্দরে আসেন, লোকজন , শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। যা বলছি , সত্য কিনা, টের পাবেন।
________________________

ডা.নাজিমুদ্দিন আহমেদ । উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক।

আপনার মতামত দিন:


নির্বাচন এর জনপ্রিয়