Dr. Aminul Islam

Published:
2022-12-28 23:02:57 BdST

মর্গ থেকে মর্মান্তিকসাংবাদিক শবনম শারমিনের লাশ টানা পাঁচ দিন ধরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল


 

সংবাদ সংস্থা


মর্মান্তিক। সাংবাদিক শবনম শারমিনের লাশ টানা পাঁচ দিন ধরে চরম অবহেলায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল। সেই খবর স্বজন ও সহকর্মীদের কেউ জানতেও পারেনি। পুলিশ যখন ঢাকার মগবাজারের একটি ফ্ল্যাট থেকে শারমিনের (৩০) লাশ উদ্ধার করে, ততক্ষণে পচন ধরেছে।

লাশ উদ্ধারের পর থেকে শারমিনের স্বামী সাইদুল ইসলামের কোনো খোঁজ নেই। তিনিও একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক বলে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে মগবাজারের একটি পাঁচতলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে শারমিনের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে পাঁচ–সাত দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত মার্চ থেকে শারমিন ও তাঁর স্বামী সাইদুল ইসলাম এই ফ্ল্যাটে ছিলেন।

এ ঘটনায় আজ বুধবার আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে  শারমিনের স্বামী সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছেন বোন শবনম পারভীন। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সেটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র বলছে, তবে বিয়ের পর থেকেই শারমিন ও সাইদুলের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। ঘটনার পর থেকে শারমিনের স্বামী সাইদুলের আচরণ রহস্যজনক। স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের পর সাইদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকার বাইরে আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে পালিয়েছেন।

মামলায় শারমিনের বোন শবনম পারভীন উল্লেখ করেন, শারমিন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে
দি রিপোর্ট এ কাজ করেন। গত মার্চে শারমিনের সঙ্গে সাইদুলের বিয়ে হয় বলে জানতে পারেন তাঁরা। তবে শারমিনের সঙ্গে তাঁদের তেমন যোগাযোগ ছিল না। শারমিন কোথায় থাকতেন, সেটিও তাঁরা জানতেন না। সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বর মুঠোফোনে শারমিনের সঙ্গে বড় বোন পারভীনের কথা হয়েছিল। তবে ২৩ ডিসেম্বর শারমিনের মুঠোফোনে কল করা হলে সেটি কেউ রিসিভ করছিলেন না। পরে সাইদুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কিছু জানাননি।

এদিকে লাশ উদ্ধারের পরদিন বুধবার বিকালে সাংবাদিক শবনম শারমিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন দ্য রিপোর্টের সম্পাদক লুৎফর রহমান হিমেল।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘গ্রামের বাড়ি ছুটি কাটিয়ে ঢাকা ফিরেছি। বছর শেষ হতে চলেছে। ঘটনা-দুর্ঘটনার সদ্য অতীত বছরটি নিয়ে সালতামামীর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মিটিং করবো। শবনম নেই। এটা একটু অস্বাভাবিকই। কারণ শবনম এসব মিটিংয়ে সবার আগে আগে থাকে। অফিসের কাজের প্রতি সে ষোলোআনা মনোযোগী। তার দক্ষতা হয়তো কম, কিন্তু যেটি বেশি করে দরকার, সেই আগ্রহটা ওর বেশি। এ কারণেই সে আমাদের দ্য রিপোর্টের এসাইনমেন্ট এডিটরের মতো বিরাট দায়িত্ব সামলাচ্ছিল।

শবনম মানে শবনম শারমিন (৩০)। দ্য রিপোর্ট ডট লাইভের সংবাদকর্মী। গতকাল হাতিরঝিলের ভাড়া বাসা থেকে ওর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাতে এ খবরটি যখন শুনলাম, থ হয়ে গেলাম। কাজ বাদ দিয়ে ঝিম মেরে বসে থাকলাম। শবনম এতটা বিনয়ী যে, আমার রুমে ঢুকলে বাক্যের শুরুতে ভাইয়া, শেষে আরেকবার ভাইয়া বলে কথা বলতো। মাথা নিচু করে থাকতো। শুনতো বেশি, বলতো কম। মিটিংয়ে হয়তো সহকর্মীদের ব্যাপারে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সেগুলো বলতো; কিন্তু আমার রুমে এসে কারো বিরুদ্ধে কোনো নালিশ সে করতো না। অথচ মিডিয়াতে এরকম ঘটনা প্রচুর। সেই শবনম যে নেই, বিশ্বাস করতে পারছি না এখনো।

ধীরস্থির আর ঠাণ্ডা মাথার দায়িত্বশীল কর্মী বলেই সে দ্রুত প্রমোশন পেয়ে এসাইনমেন্ট এডিটর হয়েছিল। কাজগুলো নিয়ে চাপে পড়লে বলতাম, চাপ নিও না, পদটি বড় হলেও পেছনে তো আমি আছিই। সে সহজ করে নিয়েছিল তার কাজ। এরই মধ্যে গত মাসে শুনলাম সে বিয়ে করছে। শুভকামনা জানালাম। দাওয়াত পাইনি যদিও, এ যুগের ছেলেমেয়েরা বিয়ের পরও অনুষ্ঠান করে। ভাবলাম- পরে দাওয়াত করবে হয়তো। কিন্তু এরই মধ্যে এই মর্মান্তিক খবর।

যতদূর জানা যাচ্ছে, শবনম তার বিয়েটার কথা ওর বড় বোন আর দুলাভাই ছাড়া তেমন কাউকে জানায়নি! একটি বেসরকারি টিভির সাবেক এক সাংবাদিক নাকি তার হাজব্যান্ড। তার নাম সাইদুল ইসলাম। সাইদুলকে আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে শবনমের বড় বোন।

দ্য রিপোর্টের অ্যাডমিন জানালো, কয়েক দিন ধরে অফিস থেকে কল করে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অথচ ফোনে রিং হচ্ছিল। পুলিশ কর্তৃক লাশ উদ্ধারের রাতে তার মোবাইল ফোনটি চার্জে যুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ছুটি শেষে তার অফিস শুরুর কথা ছিল। যেহেতু বিয়েপরবর্তী ছুটি, তাই অফিস থেকে রিজয়েন করার চাপও ছিল না। অফিস তাকে ছুটি দিয়েছিল। যেহেতু নতুন বিয়ে করেছে, একটু অবকাশ তার কাটানোর অধিকার আছে। ছুটি থেকে তার ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এবারের এই ছুটিই যে তার চিরছুটি হয়ে যাবে, ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারিনি আমরা! শবনমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। শবনমের এই অকাল প্রয়াণের পেছনে যে কারণই থাকুক, সেটি উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। পুলিশ এরই মধ্যে শবনমের বোনের লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নিয়েছে। শবনমের স্বামী সাইদুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।’

আপনার মতামত দিন:


ক্লিনিক-হাসপাতাল এর জনপ্রিয়