DR. SULTANA ALGIN

Published:
2021-04-25 11:21:15 BdST

মানসিক রোগীদের অগ্রাধিকার দিয়ে কোভিড-১৯ টিকাদান জরুরী : ৫ পয়েন্ট


 


অধ্যাপক ডা. সুলতানা আলগিন
মনোরোগ বিদ্যা বিভাগ
কনসালটেন্ট , ওসিডি ক্লিনিক ও জেরিয়াট্রিক ক্লিনিক,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
_____________________________

 

মানসিকরোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা জরুরী কেন ? শুধু জরুরি নয়; অতি জরুরি।
পয়েন্ট ধরে কারণগুলো বলছি।
১.
ওয়ার্ল্ড মেন্টাল হেল্থ সার্ভে অনুযায়ী বিশ্বে সিরিয়াস মানসিক রোগীর প্রিভেলেন্স ০.৪%-৭.৭ %। আর বাংলাদেশে মানসিকরোগীর প্রিভেলেন্স ১৬.৮%। সিজোফ্রেনিয়া,বাইপোলার,ডিপ্রেশন রোগকে আমরা মানসিকরোগ হিসেবে জানি। বর্তমানে যে কোন মানসিক রোগ বা মানসিক সমস্যায় কারও যদি আর্থসামাজিক পেশাগত কাজে ইমপেয়ারমেন্ট/ প্রতিবন্ধকতার কারণ হয় ;তাকেই সিরিয়াস মানসিকরোগী হিসেবে ধরা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
২.
বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে মানসিকরোগীদের কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশী। এর কারণে হাসপাতালে ভর্তি, ভোগান্তি এবং মৃত্যুর আশঙ্কাও বেশী। রিপোর্টে জানা যায় যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ৩০% এরও বেশী মানুষ উদ্বিগ্নতা রোগ, বিষন্নতাবোধ, আত্মহত্যার প্রবণতা ,পিটিএসডি,কগনিটিভ ইমপেয়ারমেন্ট, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি নানারকম মানসিক রোগে ভুগছেন।
৩.
মানসিক রোগীদের ইমিউন সিস্টেম শুরু থেকেই ত্রুটিপূর্ণ থাকে। ফলে যে কোন রোগে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কাও বেশী থাকে। কোভিড-১৯ এত ছোঁয়াচে যে এদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়াটা জরুরী। কোভিড-১৯ ভাইরাস মানুষের হার্ট, শ্বাসতন্ত্র, কিডনী, ব্লাডার আক্রান্ত করে বেশী। সাধারণ মানুষের তুলনায় মানসিক রোগীদের মৃত্যুর হার ২-৩ গুণ বেশী। ধূমপানের হারও সাধারণ মানুষের তুলনায় ২-৩ গুণ বেশী। তাছাড়া এদের বিভিন্ন শারীরিক রোগ যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,শ্বাসতন্ত্রের রোগ, স্থুলতাও বেশী দেখা যায়।
৪.

প্রতিটি মানসিক রোগী মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। তাছাড়া সমাজে ক্রমশ একঘরে হয়ে যাওয়াটাও তাদের বড় একটা চাপের সম্মুখীন করে। এদের পুষ্টিহীনতাও বেশ প্রকট। এসব মিলিয়ে মানসিক রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। বর্তমানে কোভিড-১৯ এ সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা এদের মধ্যে অনেক বেশী । এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়াটা জরুরী।
৫.
রিপোর্টে জানা যায় যে এখন কোভিড-১৯ এর প্রথম ডোজ টীকা দিলেই সংক্রমণের হার ৬৫%কমে যায় । অন্যান্যদের মতই মানসিক রোগীরা নিজেদের অজান্তেই এই রোগ হয়তো আরও বেশী ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তাই যত দ্রুত সম্ভব মানসিক রোগদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টীকাদান কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

আপনার মতামত দিন:


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়