Ameen Qudir

Published:
2018-11-12 07:34:19 BdST

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় :বাংলা কথা সাহিত্যের এক ডালিমকুমার


 


মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ
_______________________

সেই শিউলি শৈশবে নানুদাদুর কোলে রাক্ষস -খোক্কসের গল্প শুনে গা ছমছম করে উঠত ।ডালিম কুমার পাষাণপুরীতে যেয়ে বীর বেশে দুষ্টুদের মুন্ডূ কেটে রাজকন্যাকে মুক্ত করে নিয়ে আসতো।সেই থেকে 'ডালিম কুমার'-এর বীরোচিত কল্পছবি এখনো চোখে ভাসে ।

২। বাংলা সাহিত্যের যখন খরা চলছে তখন শীর্ষেন্দুর প্রবেশ। না, ডালিম কুমারের মত দশ দিগন্ত কাঁপিয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে নয় ,বরং তাঁর প্রকাশিত প্রথম বই 'ঘুন পোকা ' পাঠকদের উপেক্ষাতেই থেকে যায় । কথা সাহিত্যিক -এর পরিচয় পেতে তাকে দীর্ঘ কাঁটা বিছানো পথে হাঁটতে হয়েছে । দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে ক্ষত -বিক্ষত হয়েও লেখালেখির সঙ্গে নিজেই নিজের প্রাণই বেঁধেছেন ।

৩।'দূরবীণ' দুবাংলা মিলিয়ে ছাপা হয়েছে কয়েক লক্ষ ।অপার্থিব ,মানব জমিন ,যাও পাখি বাংলা কথা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ ।শিশুদের জন্যও রচনা করেছেন অমিয় সব রচনাবলী ।তাঁর ভাষার পরতে পরতে জাদু ছড়ানো আছে ।লেখা পড়বার সময় মনে হয় স্বয়ং শীর্ষেন্দু পাশে বসে গল্পদাদুর মত গভীর তন্ময়তায় মনহরা ভাষায় অজানা সব গল্প শোনাচ্ছেন।

৪।সদ্য সমাপ্ত লিটফেস্ট -এ পাঠক -দর্শক 'তিল ঠাই আর নাইরে ' অডিটোরিয়ামে তাঁর কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনেছে ।তেহাত্তর বছর বয়সের এই তরুণ তাঁর লেখক হিসেবে বেড়ে উঠা ,জীবনের প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তির খোল-করতাল বাজিয়ে শোনান । ,তাঁর নিজের লেখারও নির্মোহ সমালোচনা করেন। দর্শক -স্রোতাদের শত প্রশ্নের তাৎক্ষনিক জবাব দেন ধীরোদাত্ত কণ্ঠে , অতল মেধাদীপ্তি আর তীক্ষ্ণ রসবোধ নিয়ে ।তিনি আর যাই হোক প্রিয়দর্শিনী রমণী নন ।কিন্তু ,ভক্তের বিশাল ভিড় ঠেলে গাড়ির কাছে যেতে আয়োজকদের বাড়তি নিরাপত্তা ফোর্সকে ডেকে আনতে হয়েছিল ।

এ যুগের ডালিমকুমার যুগ যুগ জিও ।

______________________________
লেখক মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ;
উপ অধিনায়ক ,
আর্মড ফোর্সেস ফুড এন্ড ড্রাগস ল্যাবরটরী ।


প্রিয় মুখ এর জনপ্রিয়