|

ডাঃ অরুনাচল দত্ত চৌধুরী এবং আমরা


Published: 2017-11-12 09:37:44 BdST, Updated: 2017-12-18 20:50:30 BdST

 


ডাঃ অরুনাচল দত্ত চৌধুরী একজন অদ্ভুত মানুষ।দারুন ডাক্তার,দুর্দান্ত কবি-নিবন্ধকার,স্যাটায়ার প্রিয়। এই তথ্য অল্প বিস্তর আমরা সবাই জানি।কিন্তু মানুষ হিসাবে উনি আমাদের কল্পনার বাইরে ! লিখেছেন
অধ্যাপক ডা. অনির্বান বিশ্বাস

 

অধ্যাপক ডা. অনির্বান বিশ্বাস

___________________________________


.ডাঃ অরুনাচল দত্ত চৌধুরী একজন অদ্ভুত মানুষ।দারুন ডাক্তার,দুর্দান্ত কবি-নিবন্ধকার,স্যাটায়ার প্রিয়। এই তথ্য অল্প বিস্তর আমরা সবাই জানি।কিন্তু মানুষ হিসাবে উনি আমাদের কল্পনার বাইরে ! সাহসী,সোজা কথা সোজা ভাবে বলেন,আবার অদ্ভুত নরম মনের মানুষ।আমি MD করার সময়,অরুনাচলদাকে সিনিয়র PGT,দাদা গাইড হিসাবে পেয়েছিলাম।আমি সৌভাগ্যবান।

 


কলজের জোর না থাকলে,বর্তমানের দমবন্ধ পরিবেশে স্রোতের বিরুদ্ধে গিয়ে,’ডেঙ্গু’ নিয়ে অমন সত্য-নিবন্ধ লেখা যায় না। ঝর্ণার মত লেখাটি। এইভাবে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কাল বের করায় উপরআলা দাঁত নখ বের করে তাদের ‘হৃৎকম্প’ প্রকাশ করল ! হাসিও পায় !এত সিনিয়র,ডেডিকেটেড ফিজিশিয়নকে ‘সাসপেন্ড’ করার যোগ্যতা ওদের আছে !পচা জিনিস সব, খাঁটি জিনিসের বিচার করছে ! বুঝলে অরুনাচলদা,তুমি সময়ের অনেক আগে চলে আসা মানুষ !তোমার লেখাটি অনুধাবন করলে নিজেদের পরিশোধনের অনেক সুযোগ ছিল। মাথায় কিছু থাকলে তো বুঝবে।তাই এটিকে ‘বিরুদ্ধাচরনের’ ভাষা বিবেচনায়,সাসপেনশন !তুমি উপলক্ষ্য।এর মাধ্যমে ‘ভয় দেখানোর’ মেসেজ দাওয়া হল ! কিন্তু একটা কথা আছে না ..”তুমি ভয় দেখাচ্ছ ঠিক আছে ; কিন্তু এত ভয় দেখিওনা,যাতে আমি ভয় পাওয়াই ভুলে যাই”
কি, আমার সতীর্থ ডাক্তারবাবুরা ! বিশেষত সরকারী চাকুরীরত/রতারা !আপনারা ভয় পাচ্ছেন নাকি ? সবাই ভয় পাচ্ছেন না,সেটা আমি জানি।কিন্তু যারা পাচ্ছেন,অথবা ক্ষমতাসীনের পদলেহন করে বাঁচার চেষ্টা করছেন,মনে রাখবেন এভাবে বাঁচা যায় না। নিজেকে কেঁচোতে পরিনত

করলে আয়নায় নিজের শিড়দাঁড়া দেখতে পাবেন না। নিজেদের সন্তান-সন্ততির চোখের দিকে তাকাতেই পারবেন না।ওদের চোখের দৃষ্টি কিন্তু ভয়ঙ্কর নিষ্পাপ,ওতে অনেক প্রশ্নও আছে,যার উত্তর আপনারা জানেন না।
উল্টোদিকে ঐদিকে দেখুন ! ৫’৪” মাপের একমাথা পাকাচুল, একটু নুব্জ কিন্তু আত্মশক্তিতে ঋজু একটি ৬২ বছর বয়সি মানুষ কেমন সারাক্ষন এক নাগারে রোগী দেখে চলেছেন !মুখে সেই হাসি,যেখানে অনেক নির্ভরতা।মানুষটি প্রায় ২৪ ঘন্টা হয়ে গেল,কিছু খান নি।এই ওয়ার্ড থেকে ঐ ওয়ার্ডে ঘুরছেন।একদিন নয়,দিনের পরদিন। জীবনের এই প্রান্তে এসে,কদর্য পশ্বাচারে এই মানুষটির এই সব কিছু নষ্ট করা যাবে না।অরুনাচলদা, আমি আর তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারব না।নিজেকে খুব ক্লীব,হীন মনে হচ্ছে।
আমার যারা নন-মেডিক্যাল বন্ধু-আপনজনেরা আছেন,আপনাদের একটি কথা বলতে চাই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিককে রক্ষা করা।কিন্তু নাগরিকেরা যদি উৎপীড়িত হয়, ইতিহাস সাক্ষী, নাগরিক স্বভূমি ত্যাগ করে। যাদের উপায় আছে,অন্তত পরবর্তী প্রজন্ম কে বাইরে পাঠান। ঐ প্রজন্মকে রক্ষা করার দায়িত্বও আপনাদের।এই রাজ্যে সুনাগরিক তৈরীর পরিবেশ নেই।নতুবা ওরা যখন,অম্বিকেশ,শিলাদিত্য,জয়রামন,অরুনাচলদের কথা জানতে চাইবে,এবং এটাও জানতে চাইবে তোমরা কি করছিলে ঐ সময়..টাচ উড্..আপনারা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকবেন।

____________________________________

  •  
  • Image may contain: 1 person, eyeglasses and closeup
  •  
  •  

  • অধ্যাপক ডা. অনির্বান বিশ্বাস; লেখক , কবি ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।