Ameen Qudir

Published:
2018-02-19 16:20:33 BdST

বিএসএমএমইউ বিশ্বসেরা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে : উপাচার্য


 

 

ডাক্তার প্রতিদিন
____________________________

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার চলমান উন্নয়নের ধারার অন্যতম অবদান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। বর্তমানে দেশের মানুষের চিকিৎসা ও উচ্চ মেডিক্যাল শিক্ষার ভরসাস্থল।


তিনি বলেন, জাতির পিতার নামে এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বসেরা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। স্পেনের সিমাগো এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস এ দুটো বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা মান সম্মত চিকিৎসা এবং গবেষণার জন্য (অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান) দক্ষিণ এশিয়ার মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানের মর্যাদা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাকিং-এ গত তিন বছরে ৭২ থেকে ২৪-এ উন্নীত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৪২টি অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কোর্সের সংখ্যা ৯৫টি। এরমধ্যে রেসিডেন্সি ৬২টি, নন রেসিডেন্সী ৩০টি, বিএসসি নার্সিং ১টি এবং মাস্টার অফ সায়েন্স ইন নার্সিং ১টি এবং পিএইচডি ১টি। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর ২২৭৪ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। এরমধ্যে রেসিডেন্সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা হলো ১০৯৯ জন এবং নন রেসিডেন্সী ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা হলো ১১৭৫ জন।

তিনি বলেন,
জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সনে সরকারের দায়িত্ব গ্রহন করার পর ১৯৯৮ সনের ৩০ এপ্রিল এই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজকে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের মানুষের আকাঙ্খার জায়গায় পৌছেছে।

 

তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত চিত্তে বিশ^বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে এই আনন্দ মুখর দিনে একটি বেদনার সংবাদ পরিবেশন করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাকারিয়া গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর এ অকাল মৃত্যুতে বিশ^বিদ্যালয়ের সামগ্রিক আয়োজন নিষ্প্র্রভ হয়ে গেছে। তাঁর শোক সমাপ্ত পরিবারের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা। মহান সৃষ্টিকর্তা তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।

মাননীয় উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ১২১৬ জন উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনকারী চিকিৎসক সমাবর্তনে অংশ নিয়ে তাঁদের সনদ গ্রহণ করবেন। এরমধ্যে মেডিসিন অনুষদ থেকে ৩৪৪ জন, সার্জারি অনুষদ থেকে ৩৯৫ জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদে ২৪৩ জন, ডেন্টাল অনুষদে ৫১ জন, প্রিভেনটিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদে ১৪১ জন উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনকারী চিকিৎসক এবং নার্সিং অনুষদে ৪২ জন ডিগ্রিধারী নার্স সনদ গ্রহণ করবেন। ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০৭ জন ছাত্র এবং ৬০৯ জন ছাত্রী রয়েছে।

 

২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেসিডেন্সী প্রোগ্রামের অধীন ফেজ এ এবং ফেজ বি-তে ৪৯৭৯ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। ফেজ বি-তে পাশ করেছেন ৭৬৮ জন। নন রেসিডেন্সী প্রোগ্রামের অধীনে ভর্তি হয়েছেন ৮৬৯১ জন এবং পাশ করেছেন ৬৬৫১ জন। বর্তমানে এ বিশ^বিদ্যালয়ে ৬২৫১ জন ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষায় অধ্যায়নরত আছেন। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চালু হয়েছে এমএসসি নার্সিং কোর্স। বাংলাদেশের ছাত্রদের বাইরেও প্রায় ৩০০ বিদেশী ছাত্র বিভিন্ন কোর্সে লেখাপড়া করছেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০০ রোগী চিকিৎসা গ্রহন করে সন্তুষ্টি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে এখন বিভিন্ন ইউনিটসহ ৫২টি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ। আরো সুশৃঙ্খল এবং ডিজিটাল করা হয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে এখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি, মাননীয় মন্ত্রীমহোদয়গণ, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা গ্রহন করছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এখন দেশের সকল মানুষের কাছে পরিগণিত হয়েছে চিকিৎসার নির্ভরযোগ্য আস্থাস্থল। রোগীদেরকে আরো উন্নত চিকিৎসা প্রদান করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই চালু করা হয়েছে শিশু নিউরোলজি, শিশু কার্ডিওলজি, প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন, রেসপিরেটরি মেডিসিন, পেডোডনটিক্স বিভাগ এবং জেরিয়াট্রিক মেডিসিন ইউনিট। এছাড়া সার্জিক্যাল অনকোলজি, কলোরেক্টাল সার্জারি, হেপাটোবিলিয়ারী এন্ড প্যানক্রিয়েটিক সার্জারি, গাইনোকলোজিক্যাল অনকোলজি, রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড ইনফার্টিলিটি এবং ফিটোম্যাটার্নাল মেডিসিন নামে আরো ৬টি বিভাগ খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুমোদিত হয়েছে নতুন শিশুরোগ অনুষদ। মেডিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণাকে জোরদার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা কেন্দ্র।

এদেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠাকে ত্বরান্বিত করার জন্য “ইন্সটিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম (ইপনা)” নামে ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়টিও অনুমোদিত হয়েছে। ইপনা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইনস্টিটিউট হিসেবে পরিগনিত। চালু হয়েছে ২৪ ঘন্টা ল্যাবরেটরী সার্ভিস। মুক্তিযোদ্ধা এবং একুশে গ্রেনেড হামলায় আহত রোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। বেসরকারী রেসিডেন্টদের জন্য সরকার থেকে মাসিক ২০,০০০ টাকা সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস। শিক্ষা, সেবাসহ সকল পর্যায়ের মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)।

সকল শিক্ষক, কনসালট্যান্ট, কর্মকর্তা, নার্সদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। গত তিন বছরে ১০৮ জন শিক্ষক এবং ৮০৭ জন ছাত্রকে গবেষণা অনুদান দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্বারক চুক্তি করা হয়েছে। সম্পন্ন হয়েছে অনকোলজি বিল্ডিং, ছাত্রাবাস এবং কনভেনশন সেন্টারের নির্মাণ কাজ। অচিরেই সেগুলো উদ্বোধন করা হবে। কোরিয়ান সরকারের সহযোগীতায় অচিরেই নির্মিত হতে যাচ্ছে ১০০০ বেডের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ৫১২টি কিডনী প্রতিস্থাপন। পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে আধুনিক হাসপাতাল ফার্মেসী। আগামী পঞ্চাশ বছরের পরিকল্পনা বিবেচনায় রেখে একটি মাস্টার প্লান নিয়ে চলছে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম। অচিরেই যুক্ত হতে চলেছে ইমার্জেন্সী সার্ভিস, ওয়ান পয়েন্ট চেকআপ সেন্টার, ডে কেয়ার সেন্টার, বোনমেরো ট্রান্সপ্লান্টেশন, ই-টিকেটিং, সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি।

উল্লেখ্য, এরআগে ২০১১ প্রথম ও ২০১৫ সালে দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


বিএসএমএমইউ এর জনপ্রিয়