Dr. Aminul Islam

Published:
2020-11-19 13:40:58 BdST

কিডনির শত্রু ও বন্ধু যারা


 

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী 

_____________________

কিডনি বান্ধব খাদ্য , যাদের কিডনি ইস্যু তাদের জন্য উপকারি হতে পারে ।
কিডনি দ্বয় ছোট হলেও খুব শক্তিশালী যন্ত্র । অনেক কাজ করে এরা , অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কর্ম , দুর্ভাগ্য জনক যে নানা ভাবে নানা কারনে ক্ষতি হতে পারে কিডনির । দেখা গেছে কিডনি রোগ বিশ্বের জন গোষ্ঠির ১০ শতাংশ কে আক্রান্ত করে । কিডনি রোগ হলে অনেক সময় বিশেষ খাদ্য খেতে হয় আর খাবারে বাছ বিচার করতে হয় । কিডনি সুস্থ থাকলে রক্তে থাকে যে বর্জ্য , খাবার থেকে হয় যে বর্জ্য সেগুলো রোগ হলে বেরুতে সমস্যা হয় আর বেশির ভাগ কিডনি রোগ যখন অগ্রসর তখন খেতে হয় কিডনি বান্ধব ডা য়েট । এমন ডায়েট শরীরে এমন বর্জ্য জমা কমায় । একে অনেক সময় বলে রেনাল ডায়েট । এরা কিডনির কাজ কর্ম উজ্জিবনে সাহায্য করে আর আরও ক্ষতি নিবারণ করে । কিছু উপকরণ খাদ্যের করতে হয় সীমিত ।
১, । সোডিয়াম । আছে নানা খাদ্যে । টেবিল সল্টের বড় অংশ । তাই পাতে নুন নেবেন না। ক্ষতি গ্রস্ত কিডনি ফিল্টার করতে পারেনা বাড়তি লবন আর এতে বাড়ে রক্তে এর মান । তাই দিনে সর্বচ্চ হতে পারে ১৫০০ -২০০০ মিলিগ্রাম । নোনা খাবার বাদ দিন , আচার , ফাস্ট ফু ড , নিমকি , আলুর চিপস । নোনা ইলিশ । শুঁটকি ।
২। পটাশিয়ামের শরীরে অনেক কাজ । কিন্তু রোগে করতে হয় সীমিত যাতে রক্তে এর মাত্রা না বাড়ে । দিনে ২০০০ মিলিগ্রামের কম । কলাতে আছে বেশ পটাশিয়াম ।
৩। ক্ষতি গ্রস্ত কিডনি বাড়তি ফসফরাস ফিল্টার করতে পারে না । আছে নানা খাদ্যে । দিনে ৮০০ -১০০০ মিলিগ্রাম দিনে ।
৪। কিডনি রোগে সীমিত করতে হয় প্রোটিন । কারন প্রোটিন থেকে আসা বর্জ্য ফিল্টার করা কঠিন হয় । আছে প্রানিজ আর উদ্ভিজ্জ প্রোটিন । যাদের ক্ষেত্রে কিডনি রোগের শেষ পর্যায়ে পৌছায় , প্রয়োজন হয় ডাইয়ালিসিস যা কিডনির বর্জ্য পরিষ্কার করে তাদের প্রোটিন চাহিদা বেশি হতে পারে । তবা বিশেষজ্ঞ রা তা নির্ধারণ করবেন । প্রত্যেকের কিডনি রোগ ভিন্ন তাই ডায়েটিশিয়ান এর সাথে আলাপ করে রোগী তার জন্ উত্তম খাবার বেছে নেবেন ।
তবে সোডিয়াম পটাশিয়াম আর ফসফরাস কম এমন সবাদু খাবার ও আছে ।
১। প্রথম ফুলকপি । খুব পুষ্টিকর আর অনেক পুষ্টি উপকরনে সমৃদ্ধ । ভিটামিন সি , কে আর ফলেট । এক কাপ রান্না করা ফুলকপি বা ১২৪ গ্রামে আছে ১৯ মিলিগ্রাম সোডিয়াম , ১৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম , ৪০ মিলিগ্রাম ফসফরাস । ফুলকপি ভর্তা খাওয়া যায় আলু ভর্তার বদলে বা পটাশিয়াম কম সাইড ডিশের বদলে ।
২।রেড গ্রেপ । লাল আঙ্গুর। খুব স্বাদু । আছে প্রচুর ভিটামিন সি , আছে ফ্লাভি নয়ে ডস । আছে প্রচুর রেসভেরা ট্রল । এই ফ্লাভিনয়েড সুরক্ষা করে হার্ট আর উপকারি ডায়ে বে টি সে । আর বুদ্ধি বৃত্তিক অধোগতি ঠেকায় আর খুব কিডনি বান্ধব । অর্ধেক কাপে আছে ১.৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম ১৪৪ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম আর ১৫ মিলিগ্রাম ফসফরাস ।
৩। ব্লু বেরি । পুষ্টি উপকরন প্রচুর । এনটিঅক্সিডেনটস এর উত্তম উৎস । আছে আন্থ সাইসিন সুরক্ষা করে হার্ট , কিছু ক্যান্সার , ডায়ে বে টি স ।
৪। ডিমের সাদা অংশ ,। পুষ্টিকর । কুসুমে একটু বেশি ফসফরাস । আছে উচুমানের কিডনি বান্ধব প্রোটিন । ফসফরাস ডিমের সাদা অংশ কম ।
৫। মাকাদামা বাদাম । আমনড আর পিনাট ফসফরাস সমৃদ্ধ । রেনাল ডায়েটে দেওয়া যাবেনা ।
৬। কচি মোরগ । ছাল ছাড়ানো । উচ্চ মানের প্রোটিন । ৬০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম , ২০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম আর ফসফরাস ।
আছে রেড বেল পেপার । স্ত্রবেরি । বাধা কপি । পেয়াজ । রসুন ।
কিডনির শত্রু । কাচা লবন । ফাস্ট ফু ড । রেড মিট । চিপস । ব্যথা নাশক ওষুধ । কোমল পানীয় । ধুম পান । মদ্য পান ।
বন্ধু । পালং শাক । আদা। হলুদ । কাল জিরে । পারস্লে শাক । ব্রকলি । আমলকী । কাল জাম । আপেল।

আপনার মতামত দিন:


প্রেসক্রিপশন এর জনপ্রিয়