Ameen Qudir

Published:
2016-11-13 08:01:10 BdST

এটা তাদের ট্রেড সিক্রেট !ডাক্তাররা ‌ ' ‌হিজিবিজি ' প্রেসক্রিপশন লেখেন কেন


 

         

 

আহির ফা হিয়ান বুবকা
অনেকেরই অভিযোগ, ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন দুর্বোধ্য অক্ষরে লিখে থাকেন। কেউ তা পাঠোদ্ধার করতে পারেন না। কেবল ডাক্তার সাহেব নিজে বোঝেন। আর বোঝেন ওষুধ দোকানের লোকজন।
এ নিয়ে রসিকতার শেষ নেই। অনেকে বলেন, মেডিকেল কলেজে গোপণে হিব্রু ভাষা শেখানো হয়। সেটা প্রেসক্রিপশন লেখার জন্য। ডাক্তাররা নাকি চান না, তাদের হাতের লেখা অন্য কেউ বুঝুক।
মেডিকেল স্টুডেন্টদের নিয়ে যারা ঠাট্টা করতে ভাল বাসেন, তাদের মতে, তেলাপোকার পায়ে কালি লাগিয়ে পেসক্রিপশন প্যাডের ওপর ছেড়ে দিলে যে আকিবুকি হয়, সেটাই নাকি ডাক্তারি প্রেসক্রিশন।
সিরিয়াস জোকসও কম নয়।

    


অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী খ্যাতিমান গবেষক , ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটির পোস্ট গ্রাজুয়েট রিসার্চ সহকারী ও লেখক আকবর দীপুর মন্তব্য তো ঝড় তুলেছে অনলাইনে।
তিনি বলছেন, "ডাক্তাররা তাদের প্রেসক্রিপশনে কি লেখেন , যা আমরা পড়তে পারি না। কিন্তু ফার্মেসীঅলা ঠিকই পড়তে পারেন ।
সেখানে লেখা থাকে, অামি লুটে নিছি, এবার তুইও লুটে নেরে পাগলা। "
বলাই বাহুল্য, এটা পুরানা বিদ্বেষাত্মক রটনা ও রসিকতা।

 

                

এ নিয়ে আমরা ডাক্তার প্রতিদিনের পক্ষ থেকে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। ডাক্তারদের বক্তব্য নিয়েছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রমিজ রাজু, সালমান, জুলহাস রতন ও প্রবীর দাশ বললেন, এই হিজিবিজি লেখা হল আসলে ডাক্তার ও ফার্মেসীর লোকজনের গোপন আন্ডারস্ট্যান্ডিং । এটা তাদের ট্রেড সিক্রেট। তারা চান, ডাক্তার আর ওষুধবিক্রেতা বাদে কেউ লেখা না বুঝুক। তাহলে সব জারি জুরি ফাঁস।

কি জারি জুরি , জানতে চাইলে আর ব্যখ্যা করতে পারলেন না এই আড্ডারতরা।
প্রবীর বললেন, এসব আসলে বলার জন্য বলা। ডাক্তাররা খুব কম সময় দেন তো, তাই তাদের হাতের লেখা ঠিক থাকে না। তাড়াহুড়া করে লেখেন । হাতের লেখা কেমনে ভাল হবে।

রতনের মতে, এর একটা ভাল দিকও আছে। তাদের প্রেসক্রিপশন যদি সবাই পড়তে পারত, তাহলে নিজেরাই সবাই ডাক্তারি করতো। বাঙালী তো সবাই ডাক্তারের জাত। এমনিতেই সাধারণ রোগব্যাধির ওষুধ তো আমরা নিজেরাই ডাক্তারদের না দেখিয়ে কিনে খাই।
রমিজেরও তাই মত, জ্বরজারি হলে ডাক্তার চিনি না। ফার্মেসিতে গিয়ে প্যারাসিটামল কিনে খাই। এটা কিন্তু অন্যায়। সভ্য কোন দেশে এভাবে বিনা প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রি হয় না। বাংলাদেশে হয়। পাশেই কলকাতায় সেটামল কিনতেও ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন লাগে। অন্য ওষুধ কেনা তো দূরের কথা।

  

 

                                                   

 

 

প্রখ্যাত ডাক্তারদের মত - ________________
দেশের প্রখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী ও সুলেখক অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, আমার হাতের লেখা খুব সুন্দর নয় । কিন্তু আমার চেনা জানা বেশীর ভাগ ডাক্তারের হাতের লেখা ভাল। সাধারন মানুষের হয়তো ডাক্তারদের লেখা বুঝতে সমস্যা হয়। কিন্তু ফার্মেসীর কাছে গেলে কোন সমস্যা হয় না। তারা ওষুধ নিয়েই কাজ করে। সব ওষুধের নাম তাদের জানতে হয়। নতুন কি ওষুধ এলো, তা তারা জানে।
কিন্তু পাবলিকের তা জানার কথা নয়। যে কারণে তারা বুঝে উঠতে পারে না।
অধ্যাপক তাজুল বলেন, এখানে মানুষের একটা সাইকলজি কাজ করে। ডাক্তার যখন প্রচলিত ওষুধ লেখেন, যেমন প্যারাসিটামল, সেটা কিন্তু কোন রোগী বা রোগীর লোকজনের বুঝতে সমস্যা হয় না।
যে ওষুধের নাম তারা জানেন না, জেনেরিক জানেন না , সেটা তারা কেমন করে বুঝবেন।


তিনি বলেন, ডাক্তারদেরও কিছু গাফিলতি থাকতে পারে। অনেকসময় তাড়াহুড়ায় হাতের লেখা খারাপ হতে পারে। যাদের তিনচা্রটা চেম্বার, তারা দ্রুত লিখতে গিয়ে সমস্যা করেন। হয়তো তার হাতের লেখা সুন্দর, কিন্তু তাড়া হুড়ায় ইমেজ যে খারাপ হল, সেটা ধরতে পারেন না।
তিনি বলেন, সুন্দর ভাবে লেখাই উত্তম। তাতে আমাদের ইমেজ ভাল হবে।

 

                                        


প্রখ্যাত চিকিৎসক , জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. নীলুফার আখতার বলেন, ডাক্তারদের লেখা সবসময় কিন্তু খারাপ হয় না। আগে এরকম অভিযোগ শুনতাম। এখন এই অভিযোগ নেই বললেই চলে। ওষুধের নাম জানার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। হাতের লেখা দুর্বোধ্য হলে কেবল রোগীদের নয়, ফার্মেসীর লোকজনেরও অসুবিধা হয় বলে শুনেছি।
কিছু ফার্মেসির লোক আছে, তাদেরও ওষুধের নাম জানা থাকে না।স্টক থাকে না। তখন তারা সেই কথা হয়তো গোপন করে বলেন, ডাক্তার সাহেব কি লিখছেন, সেটা বুঝতেছি না।
রোগীর নানা ওষুধের নাম জানার কথা নয়। ওষুধের নাম ডালভাতের মত হলে ঠিকই তারা বুঝতেন। উন্নত দেশে ফার্মেসীর লোকজনও ওষুধ বিষয়ে সুশিক্ষিত হন। আমাদের শিক্ষার মান উন্নত নয়।এখন যদিও এ বিষয়ে নানা ট্রেনিং শুরু হয়েছে। একটা পরীক্ষা দেয়ারও নিয়ম চালু হয়েছে। এসব আরও উন্নত ও শিক্ষাসম্পন্ন হলে এইসমস্যা আর থাকবে না। তখন এসব অভিযোগ শোনা যাবে না।

 

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক , ডাক্তার প্রতিদিন.কম ।

আপনার মতামত দিন:


প্রেসক্রিপশন এর জনপ্রিয়