ডেস্ক

Published:
2021-09-28 05:45:36 BdST

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিবস


 

ডা.সুকুমার সুর রায়
--------------------------------------------

পাকিস্তান জমানার শেষ দিকে আমাদের মাথা পিছু আয় ছিলো ৭০ ডলার মাত্র। আমাদের গড় আয়ু ছিলো ৩৪ বছর। স্বাক্ষরতার হার ছিলো ৩০% এর নীচে। মাতৃ মৃত্যুর হার ছিলো প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ৬০০এর বেশি।
ডায়রিয়া / কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যাওয়ার নজির ছিলো। গ্রামের কোন বাড়িতেই স্যানিটারি ল্যাট্রিন ছিলো না।
কোন বাড়িতে টিউবওয়েলও ছিলোনা।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর সুবর্নজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছরের বহু চড়াই উতড়াই পার হয়ে আমরা বর্তমান সময়ে পৌছেছি। এখন আমাদের মাথাপিছু আয় এখন দুই হাজার দুই শো ডলারের বেশি। বাংলাদেশের এক টাকা দিয়ে এখন পাকিস্তানের দুই টাকা কিনতে পাওয়া যায়।
আমাদের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছর। আমাদের মাতৃ মৃত্যুর হার নেমে এসেছে লাখে ১৭০। নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটারি ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। প্রাথমিক শিক্ষার হার ৯০% এর বেশিতে উন্নীত হয়েছে।

আমরা এমডিজি এওয়ার্ড অর্জন করেছি।

এখন দেখা যাক কী ছিল সেই এমডিজি তে।
MDG ( সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা)
জাতিসংঘ ঘোষিত ৮ টি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। লক্ষ্য পুরনের সময়কাল নির্ধারিত ছিল ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল।
লক্ষ্যমাত্রা গুলো ছিল নিম্নরুপ :

১। অতি দারিদ্র্যতা ও ক্ষুধা হ্রাসকরন।
২। সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা।
৩। লিঙ্গ সমতাকরন ও নারীর ক্ষমতায়ন।
৪। শিশু মৃত্যুর হার কমানো।
৫। মাতৃ স্বাস্থ্যের উন্নয়ন।
৬। এইচ আই ভি/এইডস, ম্যালারিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ।
৭। টেকসই পরিবেশ তথা নিরাপদ পানীয় জল ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা।
৮। উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

এই সব লক্ষ্যমাত্রার অধিকাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছিলো। আর তা সম্ভব হয়েছিলো জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার
রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের গুনে, আর সে কারনেই বাংলাদেশ এমডিজি এওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছিলো

এসব অর্জনে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
ক) চরম দারিদ্র্যতা ১৯৯০ সালের ২৩.৩%এর স্থলে ২০১৪তে মাত্র ১২.৯% য়ে
নামানো সম্ভব হয়েছিলো।

খ) সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ২০০০ সালের ৮৩% এর স্থলে ২০১৪ সালে ৯১ % য়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে।

গ) যুব সমাজের বেকারত্ব রয়ে গেছে।

ঘ) ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টিহীনতার নিরসন হয়নি।

ঙ) প্রজনন স্বাস্থ্যের যথাযথ অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এই সব চ্যালেঞ্জের মধ্যে ২০১৫ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ' দুনিয়াকে পরিবর্তনের' ডাক দিয়ে ঐতিহাসিক SDG ( sustainable development goal) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গৃহিত হয়েছে।

SDG - টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সময়কাল নির্ধারিত হয়েছে ২০১৬ সাল থেকে ২০৩০ সাল অবধি।
এতে মোট গোল ( goal) নির্ধারিত রয়েছে ১৭ টি।
লক্ষ্যমাত্রা মোট ১৬৯।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার গোল সমূহ :

১) দারিদ্রতার সম্পুর্ন বিলোপ।

২) ক্ষুধামুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পুষ্টি ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন।

৩) সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য ও সুখানুভূতি নিশ্চিতকরণ।

৪) সকলের জন্য সমতাভিত্তিক মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরন।

৫) লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন।

৬) সকলের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের প্রাপ্যতা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

৭) সহজলভ্য, গ্রহনযোগ্য, আধুনিক, পরিবেশ বান্ধব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৮) সকলের জন্য সন্তোষজনক কর্মসংস্থান ও আর্থিক বিকাশের ক্রমোন্নতি নিশ্চিত করা।

৯) শিল্প, উদ্ভাবন ও পরিকাঠামো বৃদ্ধি করন।

১০) দেশাভ্যন্তর ও আন্তঃ দেশীয় অসাম্য হ্রাস করা।

১১) নিরাপদ, টেকসই, পরিকল্পিত নগরায়ন ও মানব বসতি গড়ে তোলা।

১২) সমন্বিত উৎপাদন ও ভোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

১৩) জলবায়ু পরিবর্তন ও এর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার জরুরি মোকাবিলা করা।

১৪) সমুদ্র ও সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

১৫) পরিবেশ, বন ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ করা।
১৬) সর্বস্তরে জবাবদিহিমুলক, ন্যায়বিচার ও
সুশাসন ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও সুদৃঢ়
প্রাতিষ্ঠানিক রুপদান।

১৭) অভিষ্ট লক্ষ্য পুরনে বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্ব।

প্রশ্ন হল ২০৩০ সালের মধ্যে এই অভিষ্ট লক্ষ্য পুরন সম্ভব কিনা?

এমডিজি'র লক্ষ্যপুরন যতটা সহজ সাধ্য ছিলো, এসডিজি'র লক্ষ্যপুরন অতটা সহজ সাধ্য নয়।

আমরা ইতিমধ্যে 'নিম্ন মধ্যম আয়ের' দেশে রুপান্তরিত হয়েছি।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ২০২১ সালের মধ্যে
মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হওয়ার উচ্চাভিলাষ আমাদের ছিলো। স্বাধীনতার ৭১ বছরে ২০৪১ সালে আমরা 'উন্নত' দেশে পরিনত হতে চাই।

এর সবকিছুই SDG অর্জনের মধ্যে দিয়ে অর্জন করা সম্ভব।
সম্ভব এই কারনে যে, আমাদের রয়েছে দুরদৃষ্টি সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
এসডিজি অর্জনে এখন পর্যন্ত আমরা সঠিক পথেই আছি।
হতে পারে আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। তারপরেও ধীর গতিতে আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের
এসডিএসএন ( SDSN - sustainable development solutions network) কর্তৃক এসডিজি প্রগ্রেস এওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
এই সঠিক পথে লেগে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির সকল লক্ষ্য পুরন করা অসম্ভব কিছু নয়।
২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১। জাতির পিতার সুযোগ্যা কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিবসে জানাই প্রানঢালা অভিনন্দন ও শুভ কামনা।।

সুকুমার সুর রায়।

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়