Dr. Aminul Islam

Published:
2021-02-15 11:15:10 BdST

বাংলাদেশে মেডিক্যাল সায়েন্সে রিসার্চ খুব কম :প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে ডা শুভাগত চৌধুরী


 

অধ্যাপক ডা শুভাগত চৌধুরী 

_____________________________

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী  রোববার  বললেন আমাদের দেশে মেডিক্যাল সায়েনসে রিসার্চ খুব কম । তিনি এর উপর খুব গুরুত্ব দেন তবে চিকিৎসক সবাই প্র্যাকটিসে এতো মনোযোগী না হয়ে গবেষণা করবেন , প্র্যাকটিস সীমিত হলে তা করেও গবেষণা সম্ভব। আমাদের তরুন চিকিৎসকরা গবেষণায় নিয়োজিত হতে পারে আর আমি মনে করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে যেহেতু খুব আগ্রহী তাই তারা এতে সফল হবে বলে আমার ধারনা। আগে এতো সুযোগ আর সরকারী আগ্রহ না থাকলেও এখন মনে হয় হবে । রেববার মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশের একটি ঐতিহ্য বাহি প্রতিষ্ঠান কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের আর একটি নতুন সংযো জন ক্যান্সার হাসপাতাল আর গবেষণা কেন্দ্র এর উদ্বোধন করলেন। মুক্তি যুদ্ধে শহীদ দান বীর রনদা প্রসাদ সাহার সবপ্নের এ স্থাপনা দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা সহ অনেক নতুন স্বাস্থ্য সেবা নারী শিক্ষা , নার্সিং , এসবের অগ্রদুত। তাঁর উত্তর সুরী শ্রী রাজিব প্রসাদ সাহা আর তার মাতা এই প্রতিস্থানকে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন , আছে এর সাথ মহিয়সি প্রতিভা মুৎসুদ্দির অবদান। আশা , তারা একে ক্যান্সার গবেষণার উচু মানের কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুল বেন।

দেশে মৌলিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে যারা আছে তাদের কে গবেষণাতে নিয়োজিত করা উচিৎ আর আগ্রহী সবাইকে পি এইচ ডি করার সুযোগ দেওয়া উচিত । পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এরকম মৌলিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এত চিকিৎসক নাই । তাই এদের শিক্ষকতা আর গবেষণা দুটোতেই বাধ্যতা মূলক করা উচিত, আর আমাদের চিকিৎসা বিশ্ব বিদ্যালয় হয়া উচিত ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল সেখানে গবেষণা হবে মুখ্য,। গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে আর গবেষণা আর আন্তর্জাতিক প্রকাশনা আর উপস্থাপনার উপর পদোন্নতি হওয়া উচিত অধ্যাপকদের ।
মৌলিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে আর প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্সে যারা তারা শিক্ষকতা , গবেষণা আর রোগ নির্ণয় কাজে নিয়জিত হতে পারে । যেমন ক্লিনিক্যাল বায় কেমিস্ট্রি , ল্যব মেডিসিন , ভাইরলজি, ইম্মুনলজি , প্যাথলজি , ট্রান্স ফিউশন মেডিসিন , মলিকুলা র বায়োলজি , জিনে টি ক্স
এসব বিষয়ে মৌলিক গবেষণার সুযোগ বেশি ।
আমাদের দেশে ইপে ডেমিও লজি , পাবলিক হেলথ , সংক্রামক রোগ বিষয়ে জোর দেওয়া উচিত আর এতে গবেষণার ক্ষেত্র বিশাল ।আর ফরেনসিক সায়েন্স আর মেডিসিনে জোর দেওয়া উচিত।
ক্লিনিকেল সায়েন্স ক্রমেই বাড়ছে নানা শাখা প্রশাখা নিয়ে । এসব দিকে আমাদের সমসাময়িক হওয়া জরুরি। দেশে এমন অনেক শাখা গড়ে উঠলেও আর ও সম্প্রসারণ দরকার ।
অসংক্রামক রোগের ব্যাপারে হচ্ছে গবেষণা আর ক্যান্সার সম্বন্ধে গবেষণার তাগিদ আজকে দিলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী । জরা বিজ্ঞান , মানসিক স্বাস্থ্য এসব বিষয়ে , নতুন উদ্ভূত রোগ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা অনেক।
বিশ্ব জুড়ে চিকিৎসা গবেষণার জন্য নানা উৎসে অর্থ বরাদ্দ আছে। আপনি সঠিক আর বিশ্বাস যোগ্য প্রকল্প প্রস্তাবনা লিখতে জানলে অনেক ফান্ড পাওয়া সম্ভব। আর গবেষণা করে বিশ্বাস যোগ্য হলে , আন্তর্জাতিক নাম করা জরনালে প্রকাশ করলে আর আন্তর্জাতিক অধিবেশনে উপস্থাপনা করলে আর নানা দেশে গবেষণা সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে অনেক ফান্ড পাওয়া যায় । ফান্ড আনা জানতে হয় আর নিজে বিশ্বাস যোগ্য গবেষক হতে হয়। আমার জানা মতে এদেশেও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন গবেষক আছেন যারা বাহিরের ফান্ড এনে গবেষণা করতে সমর্থ হচ্ছেন , এদের বেশির ভাগ ক্লিনিকেল সায়েন্স এর । তাই আশাহত হওয়ার কোন ও কারন নাই। আছেন কয়েকজন জন স্বাস্থ্য বিষয়ে ও ।

আমাদের দেশের চিকিৎসক বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আসা যাওয়া , সম্পর্ক স্থাপন কম। সরকার বিদেশে যাবার অর্থ গবেষণা সম্পর্ক ব্যাপারে বেশি বরাদ্দ দেয়া উচিত । মৌলিক গবেষণা যত প্রকাশ আর উপস্থাপন করবেন আপনার ফান্ড আনার ক্ষমতা তত বাড়বে । প্রাকটিস করার মত পরিশ্রমী আর স্ট্রেস ফুল কাজের বদলে গবেষণায় আত্ম নিয়োগ করুন আপনার মনে শান্তিও আসবে আর আর্থিক সবচ্ছলতা কম হবেনা , বিলাসী জীবন যাপন না করলেও খুব ভাল থাকতে পারবেন, আমি পৃথিবীর নানা দেশে দেখেছি , অধ্যাপক গবেষক এরা খুব সহজ সরল আর মোটামুটি সবচ্ছল জীবনে অভ্যস্ত ।
আমরা ডাক্তার হলেই মাথায় ধান্দা প্রাকটিসের ।এর শিকল থেকে মেধাবি প্রতিভাবান তরুন দের বেরিয়ে আসা উচিত। ডাক্তার মানে কাড়ি কাড়ি টাকা এই কনসেপ্ট ভুল , খুব কম ডাক্তার এত আয় করেন বাস্তবতা তাই।

যারা কন্সালটেনট অপশন দেবেন তারা প্র্যাকটিসে বেশি মনোযোগ দেবেন। দেশের কলেজ অফ ফিজিসিয়ান্স অ্যান্ড সারজন্স হবে গবেষণার আর এক্ টি কেন্দ্র। সেদিকে তরুন আগ্রহি চিকিৎসক দের উৎসাহ , সহায়তা আর প্রণোদনা দেওয়া জরুরি। তাদের ক্যারিয়ার প্লানিং হয়া উচিত জরুরী বিষয় ।তরুন যারা মেধাবি আর প্রতিভা বান এদের গবেষণার মুল স্রোতে আনতে হবে। এদেরকে বছরের র বছর প্রত্যন্ত গ্রামে ফেলে রাখার সিস্টেম বদলাতে হবে।

আমাদের অভিভাবকদের অনেকের এমন ধারনা ডাক্তার হলেই বিশাল প্রাকটিস আর কাড়ি কাড়ি টাকা , পরিবার তাই মনে করে । সেজন্য অনেকে বাধ্য হয়ে এই স্রোতে ঢুকে । তবে ব্যতিক্রম আছে। এজন্য মেডিক্যাল কলেজে যেরকম মেডিক্যাল কলেজ ই ভর্তি করার জন্য এত আগ্রহ। কারন মেডিক্যাল কলেজের মান যাই হোক ডিগ্রি দেয় বিশ্ব বিদ্যালয় তা একটা কলেজ হলেই হল , পরে যা শিখেনি ঠেকে ঠেকে শিখবে ।

দেশে এমন প্রাক টি সিং ফিজিশিয়ান আছেন যারা ভাল গবেষণাও করছেন , পরিমিত প্র্যাকটিস করলে বা কম করলে গবেষণা করা যায় । গবেষণা একটি টিম ওয়ার্ক । আমি আজ অস্তাচল গামি কিন্তু আমাদের চিকিৎসক রা গবেষণায় উন্নতি করছে দেখে যেতে পারলেও সুখ।

একটি সূক্ষ্ম ফোকর অনেকে লক্ষ্য করেন না , এমন সময় গেছে দেশে অনেক প্রতিভাবান চিকিৎসক গবেষক হতে চেয়েছেন তাকে ঢাকার বাইরে এমন স্থানে বদলি করা হয়েছে তার জীবনে গবেষণা করার আশা ফুতকারে নিভে গেছে, অনেক বিদেশি উচ্চ ডিগ্রি ধারি , অনেক মেধাবী চিকিৎসককে গ্রামে দীর্ঘ দিন রেখে দেওয়া হয়েছে ।অনেকে বাধ্য হয়ে
প্র্যাকটিসে মন দিয়েছেন। অনেক সময় , পরিবেশ , ব্যবস্থা পেশার অনেক বাঁক বদল করেছে ।

এমন অনেক দুখের দিনের কথা বলা যাবেনা , দীর্ঘ হবে তাই গবেষণার অগ্রগতি না হওয়ার জন্য ডাক্তার যতটা দায়ি এর চেয়ে বেশি দায়ী অন্যরা। ইচ্ছা করলেও ইচ্ছার দাম মেলেনি। আশা করি এসব এখন বদল হবে। কারন আমাদের মাননিয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে আমাদের অনেক আশা । তিনি অনেক অসম্ভব কে সম্ভব করে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বাড়িয়ে ছেন। তিনি ইচ্ছা করলে সম্ভব।

একটা কথা আমি বহুদিন থেকে বল্লেও কাজ হলনা আমি মনে করি বিলেতের মত ন্যাশনাল হেলথ সারভিস এর মত জি পি । কনসালটেন্ট সিস্টেম করলে ভাল । আর প্রোফেসররা কিভাবে প্র্যাকটিস করবেন সে রকম একটি নির্দেশনা আছে। আর ডাক্তারের কাছে সরাসরি রোগী অর্থ দিলে সমস্যা তাই হেলথ ইন্সুরেন্স আর রোগী ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে পরোক্ষ ভাবে অর্থ এলে বাদানুবাদ আর অপ্রীতি কর ঘটনা কম ঘটত ।

আর কনসালটেন্ট আর প্রোফেসর হওয়া উচিত পছন্দ। যোগ্যতা , অভিজ্ঞতা , প্রকাশনা, গবেষণা র আর আগ্রহের ভিত্তিতে। দেশের বয়স্ক অভিজ্ঞ চিকিৎসক , গবেষক অধ্যা[পকদের এই কর্ম কাণ্ডে সম্পৃক্ত করা যায় ।

আমাদের গরীব মানুষের শ্রমের দামে আমাদের যে মুল অর্থনীতি তা আমাদেরকে এনেছে মধ্য আয়ের দেশে , এখন আরও উন্নত হতে হলে চাই জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ তৈরি করে , জ্ঞান বিজ্ঞান আর গবেষণায় উন্নতি করা । আমাদের দৃষ্টি ভঙ্গীর পরিবর্তন চাই আর আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশের সঠিক বাস্তবতা সম্যক উপলব্ধি করে দিক নির্দেশনা দিলেন।

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়