Dr. Aminul Islam

Published:
2020-07-05 11:45:00 BdST

দু'বার রিপোর্ট নেগেটিভ,  মাত্র ২৬ বছরে মৃত দিল্লীর ডাক্তার!




ডেস্ক

________________________
করোনায় কিছু কিছু মৃত্যু রেখে যাচ্ছে নানা প্রশ্ন।দিল্লির মৌলানা আজাদ ইনস্টিটিউট ফর ডেন্টাল সায়েন্সের জুনিয়র চিকিত্‍সকের মৃত্যু যেমন সবাইকে কাঁদাচ্ছে , তেমনি ভাবাচ্ছেও বিশেষজ্ঞদের।

'আমার শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা রয়েছে। করোনার সব উপসর্গই রয়েছে। আমি ১০০ শতাংশ পজিটিভ, নিশ্চিত।' মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা আগে দাদা আমনকে এমনই একটা মেসেজ করেছিলেন জুনিয়র ডাক্তার ড. অভিষেক ভায়ানা। মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ফুসফুসে সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট।

দুবার করোনার পরীক্ষা করা হলে, দুবারই রিপোর্টে নেগেটিভ আসে তাঁর। দিল্লির মৌলানা আজাদ ইনস্টিটিউট ফর ডেন্টাল সায়েন্সের জুনিয়র চিকিত্‍সকের পদে কাজ করতেন ২৬ বছর বয়সি ওই মেধবী ছাত্র। জানা গিয়েছে, ওই ডেন্টাল ইনস্টিটিউটের ওরাল সার্জারি বিভাগে যুক্ত ছিলেন তিনি। এইমস এমডিএস পরীক্ষার মেধা তালিকায় তাঁর নাম ছিল ২১ নম্বরে। কাউন্সিলিংয়ে যোগ দিতে রোহতকে গিয়েছিলেন ওই ডাক্তারির ছাত্র।

শুক্রবার দুপুরে ওই ছাত্রের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন তাঁর পরিবার। কিন্তু রেখে গেলেন বহু প্রশ্ন, বিতর্কও। তঁর বন্ধু ও সহকর্মীরা এখনও তাঁর স্মৃতিতে কাতর। এখনও ভুলতে পারছেন না ওই মেধাবী ছাত্রের অফুরন্ত প্রাণশক্তির দিকটি। চিকিত্‍সক হিসেবে তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা ছিল দেখার মতো।

ডেন্টাল ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ডাক্তারও এককথায় স্বীকার করেছেন, 'অভিষেক একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী ডাক্তার ছিলেন। করোনার উপসর্গ দেখা দিতেই তাঁর দুবার টেস্ট করানো হয়। কিন্তু কোনও বারেই রিপোর্ট পজিটিভ আসেনি। হার্ট অ্যাটাকের কারণে মৃত্যু হয় ওই তরুণ ডাক্তারের।'

অসুস্থ অবস্থায় সবসময় পাশে ছিলেন তাঁর দাদা আমান (৩১)। তাঁর কথায়, 'বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গায়ে জ্বর জ্বর ভাব ছিল। তার আগে পর্যন্ত একদম ঠিক ছিল ভাই। আমিই বরং আশ্বস্ত করছিলাম এই বলে যে, কিছু হয়নি তোর! আমরা এখনও বিশ্বাসই করতে পারছি না আমাদের মধ্যে আর নেই ভাই। আমার বাবা-মা এখনও কষ্টের মধ্যে আছে।'

আগামী ২২ জুলাই অভিষেক ২৭ বছরের পা দিত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ দিন আগে থেকেই ওই ছাত্রের মধ্যে করোনার উপসর্গ লক্ষ করা গিয়েছিল। মাঝে মাঝেই বলত গলায় ব্যাথা ও কাশি হচ্ছে।

তাঁর দাদা আরও জানিয়েছেন, 'আমরা তাঁকে চেস্ট স্পেশালিস্টের কাছে নিয়ে যাই। এক্স-রেও করানো হয়। তখন আমাদের বলা হয় অভিষেকের বুকে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। আমাদের সকলেরই ধারণা ছিল যে এটা একটা ভাইরাল ফিভার ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু ভাই ক্রমাগত বলে গিয়েছিল, এই ধরণের সংক্রমণ বুকে সংক্রমণের মতো নয়। সংক্রমণের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টেও ভুগছিল সে।'

'বৃহস্পতিবার অভিষেকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত বেশ ফিট ছিল সে। করোনা টেস্টে প্রতিবার নেগেটিভ আসে। বিভিন্ন কারণেই পরীক্ষার ফল নেতিবাক আসতে পারে। কিন্তু শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমার বলে গিয়েছিল যে সে করোনায় আক্রান্ত। করোনার সব উপসর্গ তাঁর মধ্যে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিত্‍সকরা অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেটা দেওয়া আর হয়ে ওঠেনি। কারণ, ততক্ষণ অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।'


সংবাদ সৌজন্য এই সময় কলকাতা

 

_____________________INFORMATION_______________

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়