Ameen Qudir

Published:
2020-03-25 09:08:29 BdST

সোসাল ভ্যাকসিন: সোসাল ডিসটেন্সিংই এখন ভ্যাকসিন, আপাতত এটাই ভরসা



ডা. সজল আশফাক
বাংলাদেশ মিডিয়ায় স্বাস্থ্য
বিষয়ক সাপ্তাহিক পাতা পাইওনিয়ার
_______________________

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন কর্তৃপক্ষ বিশ্বকে জানায় যে, এক ধরনের ভাইরাস তাদের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী কয়েক মাস এই ভাইরাসটি আরো কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো এই ভাইরাসের সংক্রমণ দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে। ভাইরাসটির নাম দেয়া হয় সিভিআর একিউট রেস্পিরাটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রোম রিলেটেড করোনা ভাইরাস টু, সার্স কভ টু। তারপর রোগটির নাম দেয়া হয় কোভিড-১৯। যা সাধারণের কাছে করোনাভাইরাস নামে পরিচিত।
এখন আমাদের সবার জানা উচিত এই ভাইরাসটি আমাদের শরীরকে কিভাবে আক্রমণ করে এবং আমাদের কি করা উচিত।
ভাইরাস হলো জিনসম্পর্কিত উপাদান এবং আমিষের একটি গঠন, বলা হয়ে থাকে এটি জীবিত কোনকিছু নয়। এটি শুধু জীবিত দেহের কোষে প্রবেশ করার মাধ্যমে বংশ বিস্তার করতে পারে। তবে করোনাভাইরাস জড় বস্তুর সাহায্যে ছড়াতে পারে। তবে কেউই নিশ্চিত করে সুস্পষ্টভাবে বলতে পারছে না যে এটি জড় বস্তুর উপর কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। এ নিয়ে নানা রকম মত রয়েছে। এটি প্রধানত হাঁচি-কাশি এবং থুথুর সময় ছিটকে বেরোনো ক্ষুদ্র জলকণার ড্রপলেট মাধ্যমে ছড়ায় মাধ্যমে। অসুস্থ মানুষের হাত থেকে ভাইরাসটি করমর্দন এর মাধ্যমে সুস্থ মানুষের হাতে চলে আসতে পারে। তাছাড়া এই ভাইরাসে সংক্রমিত কোন ব্যক্তি যা কিছু স্পর্শ করেন সবকিছুতেই তিনি ভাইরাস রেখে আসতে পারেন। যার ফলে ভাইরাস আক্রান্ত মানুষটি যে জিনিসগুলো স্পর্শ করেছেন সেই জায়গা গুলো যখন সুস্থ মানুষ স্পর্শ করেন তিনি ও তাঁর হাতে করে সেই ভাইরাসটি বহন করে নিয়ে যান। এবারে এই সুস্থ মানুষটি যখন তার ভাইরাসযুক্ত হাত দিয়ে নাক মুখ চোখ স্পর্শ করেন তখন তিনিও এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়েন। এভাবেই করোনা ভাইরাস মানুষের শরীরে তার যাত্রা শুরু করে। শরীরে ঢোকার পর এর মূল লক্ষ্যস্থল হচ্ছে ফুসফুস প্লীহা এবং পরিপাকতন্ত্র, যেখানে সে তার কার্যক্রম বেশ ভালোভাবেই চালাতে সক্ষম হয়। মাত্র কয়েকটি ভাইরাস ফুসফুসকে মারাত্মক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। আমাদের ফুসফুসের ভেতরের দিকটা কোটি-কোটি আবরণী কোষ দ্বারা আবৃত থাকে। শরীরের আরো অনেক অঙ্গ আছে যেগুলো এই আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে এবং যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করা। করোনাভাইরাস এই আবরণী কোষ এর একটি বিশেষ রিসেপ্টর এর সাথে সংযোগ স্থাপন করে সেখানে তাদের জেনেটিক তথ্য ঢুকিয়ে দেয়। ‌ দেহের কোষ কিছু না বুঝে নতুন তথ্য অনুযায়ী কাজ করতে থাকে। কাজটি হচ্ছে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুনর্গঠন। কোষের মধ্যে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে করতে একটি ভাইরাস যখন চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছায় তখন সে কোষকে আত্মহত্যার নির্দেশ দেয়। নির্দেশনা পেয়ে কোষটি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে, ফলে ইতোমধ্যে তার ভিতরে বেড়ে ওঠা অসংখ্য করোনা ভাইরাসগুলো মুক্ত হয়ে অন্য কোষকে একইভাবে আক্রমণ করতে থাকে। এভাবেই দেহে সংক্রমিত কোষের সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। মোটামুটি ১০ দিনের মধ্যে শরীরের লক্ষ লক্ষ কোষ কোটি কোটি ভাইরাস দ্বারা ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ভাইরাস শরীরের খুব একটা ক্ষতি করেছে বলা যাবে না। তবে এই অবস্থায় আসার পর ভাইরাস শরীরকে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্থ করার অস্ত্র প্রয়োগ শুরু করে। ভাইরাস আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করার কাজে লিপ্ত হয়। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনার বিপদের কারণ হতে পারে সে কারণে এটিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দরকার রয়েছে। রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো যখন ভাইরাসকে মেরে ফেলতে ফুসফুসে আসে তখন ভাইরাস তাদেরকে মেরে ফেলে এবং তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। কোষের তো আর চোখ কান থাকে না, তাই দেহের কোষগুলো নিজেদের মধ্যে সাইটোকাইনিন নামক প্রোটিন উপাদানের মাধ্যমে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে করে। প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায করে থাকে এই সাইটোকাইনিন। করোনাভাইরাস শরীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো বিচলিত করে দেয়। সে সঙ্গে আরো বেশি সক্রিয় হতে উৎসাহ যোগায়। মোটকথা এটি প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে বাধ্য করে। ফলে শরীর প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক সৈন্যকোষকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠায়। আরে ভাবেই শরীর অকারণে সৈন্যকোষ হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই ধরনের প্রতিরোধী কোষ এ সময় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। যাদের একজন দল হল, নিউট্রোফিল। যারা জীবাণু মারতে দক্ষ, এবং আমাদের শরীরের কোষকেও। এসে শরীরে জৈবরস নিঃসরণ করে যা শত্রুর সাথে বন্ধুকেও ধ্বংস করে দেয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কোষ হলো টি-সেল বা প্রতিরোধীকোষ, এরা সংক্রমিত কোষকে আদেশ দেয় আত্মহত্যা করার জন্য। কিন্তু টি-সেল বিভ্রান্ত হয়ে শরীরের সুস্থ কোষকেও আত্মহত্যার নির্দেশ দেয়। এভাবে প্রতিরোধকারী কোষের উপস্থিতি যত বাড়তে থাকে, তারা ততো বেশি শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফুসফুসের ততবেশি সুস্থকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি এতটাই ভয়াবহ হতে পারে যে, যা জীবনে পূরণ করা আর সম্ভব নাও

হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। তখন এটি সংক্রমিত কোষগুলোকে ধ্বংস করে এবং সুস্থ কোষকে আক্রমণ করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ভাইরাসকেও মেরে ফেলে। এভাবেই শরীরের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধক্ষেত্র ভাইরাস মুক্ত হয়ে ক্রমশ শান্ত হতে থাকে এবং পর্যুদস্ত শরীরটা সুস্থতার দিকে এগিয়ে যায়।
কারণে আক্রান্ত অধিকাংশরাই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়। প্রথমদিকে এদের হয়তো জ্বর এবং সামান্য কাশির উপসর্গ থাকে। তবে কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে অবস্থা জটিল এবং সংকটাপন্ন হয়ে থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী এ রোগে মৃত্যুর হার ৩.৪ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে এটিকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান বলে ধরে নেয়া যাবে না। কারণ প্রকৃত অর্থে এ রোগে আক্রান্ত সকলকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে এটা সহজেই বলা যায় যে ফ্লু এর তুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার অনেক বেশি। সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে, রোগীর ফুসফুসের আবরণী কোষ ব্যাপক অংশজুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ হতে আবরণী কোষ এর বাইরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার জন্য ব্যবহৃত ফুসফুসের মধ্যকার অতিক্ষুদ্র বায়ুকুঠুরি, বহুবচনে যাকে আমরা বলি অ্যালভিওলাই। সেই আলোভেলাইতে সুযোগসন্ধানী ব্যাকটেরিয়ার অনুপ্রবেশ ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়তো বড় কোন সমস্যা হয়না। কিন্তু এক্ষেত্রে খুব সহজে ফুসফুসের প্রদাহ বা নিউমোনিয়া হয়ে যায়, রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। যার জন্য কোন এক পর্যায়ে রোগীর কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস এর ব্যবস্থা করতে হয়। এদিকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে এন্টিভাইরাল উপাদান প্রস্তুত করে। এদিকে ব্যাকটেরিয়া দ্রুতগতিতে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে, আর শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও ক্লান্ত হয়ে দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে পড়ে। ফলে ব্যাকটেরিয়া রক্তের মধ্যে প্রবেশ করে। এই অবস্থায় মৃত্যু অনেকটা নিশ্চিতই বলা যায়।
করোনাভাইরাস কে অনেকেই ফ্লু এর সাথে সাথে তুলনা করে থাকেন, করোনাভাইরাস ফ্লু এর চেয়ে অনেক বেশি বিপদজনক।
চলমান মহামারীতে প্রকৃতপক্ষে মৃতের হার নিশ্চিতভাবে এখনই নির্ধারণ করা কঠিন। তবে আমরা এটুকু বুঝতে পারছি যে, এটি ফ্লু এর চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক এবং দ্রুত ছড়ায়।


করোনা ভাইরাসের মত মহামারীর সামনে এখন দুটি পথ।
দ্রুত এবং ধীর।
কোন ভবিষ্যত আমাদের জন্য অপেক্ষায় আছে? এটা নির্ভর করছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার শুরুর দিকে আমরা কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি তার ওপর।
দ্রুতগতির মহামারীর পরিণাম হবে ভয়াবহ, দুর্গতিপূর্ণ এবং এতে অনেক মানুষ মারা যাবে।
আর ধীর গতির মহামারী হলে হয়তো তার নাম আর ইতিহাসের পাতায় বিশেষভাবে লেখা হবে না।
যেহেতু দ্রুতগতির মহামারীর বিস্তার ধীর করতে তেমন কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেই, তাই এটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তাহলে কেন এটি এত বেশি ভয়াবহ?
কারণ দ্রুতগতির মহামারীতে একই সঙ্গে অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই সংখ্যা যদি খুব বেড়ে যায় তখন কোন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাই সেটিকে আর সামলাতে পারে না। হঠাৎ এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কারো কাছেই থাকে না। থাকে না প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেন্টিলেটর, স্বাস্থ্যকর্মী, ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক উপকরণ। ফলে মানুষকে যথাযথ চিকিৎসা ছাড়াই মৃত্যুবরণ করতে হয়। পাশাপাশি চিকিৎসক-নার্স অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা যত অসুস্থ হয়ে পড়বে, স্বাস্থ্যব্যবস্থাও তত ভেঙে পড়বে। এই অবস্থায় কে চিকিৎসা পাবে আর কে পাবে না, এমন নির্মম সিদ্ধান্তও নিতে হয়। এই প্রেক্ষাপটে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক। এটি এড়াতে বিশ্বকে মানে আমাদেরকে এমন কিছু করতে হবে যাতে করে কোভিড ১৯ একটি ধীর গতির মহামারীতে পরিণত হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে তাহলে যেকোনো মহামারীর গতি কমানো সম্ভব বিশেষ করে প্রথম অবস্থায়। তাই প্রথম দিকে যিনি অসুস্থ হবেন, চিকিৎসা নিবেন। আর রোগীর সংখ্যা কম থাকায় হাসপাতালও তার চিকিৎসা দিতে পারে।
যেহেতু আমাদের মাঝে এখনো করোনাভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন নেই তাই আমাদের সামাজিক আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। বলা যেতে পারে এটি এক ধরনের সামাজিক ভ্যাকসিন। এর মানে হচ্ছে দুটি। প্রথমতঃ নিজে সংক্রমিত না হওয়া, দ্বিতীয়তঃ অন্যকে সংক্রমিত না করা।
যদিও মনে হতে পারে এটি খুবই সামান্য কাজ। তবে এই মুহূর্তে এটি একটি শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত। সেটি হচ্ছে হাত ধোয়া। এ হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে কারণ সাবান হচ্ছে এক্ষেত্রে একটি মোক্ষম অস্ত্র। কারণ করোনাভাইরাস চর্বির একটি আস্তরণ দ্বারা আবৃত থাকে। সাবান সহজেই চর্বির আস্তরণকে ভেঙে দিতে পারে। চর্বির অস্ত্রহীন ভাইরাস অন্যকে সংক্রমিত করার শক্তি রাখে না। তাছাড়া সাবান হাতকে পিচ্ছিল করে ফলে হাত ধোয়ার সময় ভাইরাসও ধুয়ে চলে যায়। এটি যথাযথভাবে করতে, এমন ভাবে হাত ধুতে হবে যেন, আপনি মরিচ কাটার পর হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করবেন। সাধারণভাবে সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুলেই তা যথেষ্ট।
পরবর্তী কাজ হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আমরা জানি এটি কোন ভালো অভিজ্ঞতা নয়। তবে এই সময়ে এটি খুব দরকারি। তার মানে হচ্ছে কোন করমর্দন নয়, কোন কোলাকুলি নয়। আর আপনি যদি ঘরে থাকতে পারেন, থাকুন। অন্তত যারা সমাজটাকে চালু রাখার জন্য কাজ করছেন তাদের স্বার্থে একটি ভালো হবে। যেমন ডাক্তার, ক্যাশিয়ার থেকে শুরু করে পুলিশ, সবাই। আপনারা সবাই এদের উপর নির্ভরশীল। তারাও আপনার ওপর নির্ভরশীল তাদের সুস্থতার জন্য।
রাষ্ট্রীয়ভাবে কোয়ারেন্টাইন এর অন্য মানে হতে পারে যেমন, ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ঘরে আটকে থাকার আদেশ। কোয়ারেন্টাইনে থাকাটা কোন ভাল অভিজ্ঞতা নয়, জনপ্রিয় তো নয়ই। কিন্তু যারা রোগ নিয়ে গবেষণা করেন তারা এই সময়টাতে গবেষণায় মনোনিবেশ করার সুযোগ পান। এই সময়টাতে তারা ভ্যাকসিন আবিষ্কার এবং ওষুধ নিয়ে গবেষণা করে থাকেন। কাজেই আপনাকে যদি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় তাহলে বুঝতে হবে এটা আপনার এবং সকলের ভালোর জন্যই করা হয়েছে। তাই এ সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।
এসবের কোনোটাই মজার বিষয় নয়। কিন্তু বৃহৎ উদ্দেশ্যে এটা খুবই সামান্য কষ্ট। পৃথিবীতে এই মহামারী কিভাবে শেষ হবে সেটা নির্ভর করে কিভাবে এটা শুরু হয়েছিল তার ওপর। যদি এর সংক্রমণের হার দ্রুত উপরের দিকে বাড়তে থাকে তাহলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। আর যদি তা খুব ধীরগতিতে শুরু হয়ে থাকে তখন সেটা খুব খারাপভাবে শেষ হবে না।
যেহেতু করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন ভ্যাকসিন নেই, তাই এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবনযাপনই হতে পারে আমাদের ভ্যাকসিন। প্রকৃত ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত সামাজিক বা সোসাল ভ্যাকসিনই একমাত্র ভরসা।
আশার কথা হচ্ছে আধুনিক এই যুগে সবকিছুই আপনার আমার হাতের মুঠোয় কথার কথাই ভাবুন আর আক্ষরিক অর্থেই ভাবুন। দেখবেন, শেষ সুযোগটা যেন হাত ফসকে বেরিয়ে না যায়।

socialdistancing #socialvaccine #coronavirus

 

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়