Ameen Qudir

Published:
2020-03-21 20:07:12 BdST

করোনা পরিস্থিতি : চক্ষুরোগীদের যা করণীয়


ডা. তারিক রেজা আলী
সহযোগী অধ্যাপক, রেটিনা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
_______________________

আমি একজন চক্ষু চিকিৎসক। চোখের মাত্র কয়েকটি রোগ জরুরী। বেশীরভাগ রোগী যে সমস্ত অসুবিধা নিয়ে চোখের ডাক্তারের শরনাপন্ন হন, যেমন চোখ চুলকানো, চোখ লাল হওয়া, চোখের বর্তমান চশমায় দূরে বা কাছে ভাল না দেখা, চোখ দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি কিন্তু জরুরী রোগ নয়। এ সমস্ত কারণ নিয়ে আগামী একমাস যে কোন হাসপাতালে বা চক্ষু চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে না যাওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। মনে রাখতে হবে এ আহবান আমাকে বা আমাদেরকে নিরাপদে রাখবার জন্য নয়, আপনার এবং আপনার পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে। আপনি নিশ্চয়ই এত দিনে অবগত হয়েছেন চোখের যে স্বাভাবিক নিঃসরণ তা থেকে করোনা রোগ ছড়াতে পারে। যেহেতু চোখের এবং নাক-কান-গলা রোগের চিকিৎসকদের রোগীর বেশী কাছে যেতে হয়, রোগী থেকে তাদের এবং চিকিৎসক থেকে অন্য রোগী আর তাদের পরিবারের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা তাই অনেক বেশী থাকে।

চোখের কি কি রোগ জরুরী?

১. চোখে তীব্র ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, চোখে ময়লা বা পিঁচুটি হওয়াঃ এ সব রোগীর কনজাংটিভাইটিস রোগ হতে পারে, যা খুবই ছোঁয়াচে। আবার এমনও হতে পারে রোগটা একটি প্রদাহ যাকে আমরা বলি একিউট এন্টেরিওর ইউভাইটিস। (Acute anterior uveits)। এমনও হতে পারে এই রোগীর চোখের প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেছে, যাকে আমরা বলি একিউট কনজেস্টিভ গ্লকোমা (Acute Congestive Glaucoma)। তাই এই রোগী দেখতে হবে এবং চিকিৎসা দিতে হবে।

২. চোখে আঘাত, কোন ভারী জিনিসের আঘাত বা ধারালো জিনিসের আঘাত। যে কোন আঘাত, যত ছোট আঘাতই মনে হোক না কেন চোখের ভিতরের ক্ষতি করতে পারে। হঠাৎ একটি টেনিস বল এসে লাগলো কিংবা ব্যাডমিন্টনের কর্ক এসে লাগলো অথবা অসাবধানতাবশতঃ কারো হাত বা আঙুল এসে লাগলো এগুলো যেমন মারাত্মক, কোন ধারালো জিনিস দিয়ে আঘাত তেমনই মারাত্মক। এসব রোগী দেখতেই হবে।

৩. ইদানীং অপারেশন হয়েছে এমন রোগীঃ যেমন ক্যাটারেক্ট বা ছানি অপারেশন হয়েছে অথবা গ্লকোমা বা রেটিনার সার্জারী হয়েছে এমন রোগীর রুটিন ফলোআপও জরুরী। তাদের ওষুধ বাড়াতে-কমাতে হতে পারে।

৪. হঠাৎ দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পাওয়া বা লোপ পাওয়াঃ কোন রোগী যদি বলে আমি আজ থেকে হঠাৎ এ চোখে কম দেখছি অথবা একেবারেই দেখছি না, সে রোগটি নিরূপণ করাও জরুরী। যেমন এ রোগীর হতে পারে রেটিনা ছিড়ে যাওয়া বা রেটিনাল ডিটাচমেন্ট, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ জনিত চোখের ভিতরে রক্তক্ষরণ (Vitreous haemorrhage)। এ সব রোগীও আমাদের জরুরী ভাবে দেখতে হবে এবং চিকিৎসা দিতে হবে।

৫. অপরিণত শিশুর রেটিনার রোগ ( Retinopathy of prematurity ROP) আরেকটি জরুরী রোগ।
শিশু ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্ম নিলে বা ওজন ২০০০ গ্রামের কম হলে তাকে ৩০ দিনের দিন দেখতে হবে।
শিশু ২৮ সপ্তাহের আগে জন্ম নিলে বা ওজন ১৫০০ গ্রামের কম হলে তাকে ২০ দিনের দিন দেখতে হবে।

৬. কোন শিশুর জন্মের পর চোখ ঘোলা নানা কারণে হতে পারে। যেমন জন্মগত ছানি, জন্মগত চোখের উচ্চচাপ ইত্যাদি। এসব রোগীও অবশ্যই দেখতে হবে। শিশুর চোখে যদি সাদা আলোর প্রতিবিম্ব দেখা যায়, যা হতে পারে চোখের ভিতরের কোন ক্যন্সার রোগের পূর্বাভাস, তাও আমাদের দেখতে হবে।

উপরের লিষ্ট ছাড়া সাধারণ কোন কষ্টে আগামী একমাস চোখের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসবেন না।প্রয়োজনে টেলিচিকিৎসা বা ডিজিটাল চিকিৎসার সাহায্য নিন। সকল ধরণের রুটিন অপারেশন বন্ধ রাখা উচিত। আমরা বন্ধ রাখব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

বি.দ্র. রোগী দেখার সময় কি কি সতর্কতা নিতে হবে তা আমার জুনিয়র সিনিয়র চক্ষু চিকিৎসকরা জানেন। এখানে তা বলা বাহুল্য মাত্র। শুধু একটা অনুরোধ, পরিপূর্ণ সতর্কতা না নিয়ে কোন রোগী দেখবেন না। নিজের ও নিজের পরিবারের কোন ক্ষতির কারণ হবেন না। আমরা অনেকেই অন্যের চাকুরী করি। যদি কেউ বাধ্য করে পরিপূর্ণ সতর্কতা না নিয়ে রোগী দেখতে অথবা সাধারণ রোগ যেমন চশমা পরীক্ষা করতে, সে চাকুরী ছেড়ে দিন। বেঁচে থাকলে এরকম অনেক প্রতিষ্ঠানের মালিক আপনি হবেন। ধন্যবাদ।

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়