Ameen Qudir

Published:
2019-10-17 22:14:43 BdST

৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে ২০২৬ সালে ডাক্তার হলে: তখন দেশে চাকরীহীন ডাক্তার হবে ৭০/৮০ হাজার




অধ্যাপক ডা. একেএম রেজাউল করিম

_____________________________

প্রাইভেট মেডিকেল এ যে সকল মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা ডাক্তারী পড়তে চাও, এই লেখাটা শুধু তোমাদের জন্য::

১) প্রাইভেট মেডিকেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে ( অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া), যে কারনে যারা সরকারী মেডিকেল এ সুযোগ পায় নি তাদের আগ্রহকে পূঁজি করে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়।যে কারনে দেশের প্রয়োজন বিবেচনা না করে শতাধিক মেডিকেল কলেজ খোলা হয়েছে, যার অনেকগুলোর মান প্রশ্নবিদ্ধ।

২) যাদের বাবারা কোটিপতি তাদের জন্য কোন সমস্যা নেই, কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের এ পথে যাবার পূর্বে ভাবার প্রয়োজন আছে।

৩) ধরে নিলাম তুমি মোটামুটি ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে ৭ বছর পর ২০২৬ সালে ডাক্তার হলে। তখন বাংলাদেশে চাকরীবিহীন ডাক্তারের সংখ্যা হবে আনুমানিক ৭০/৮০ হাজার।

ক) তোমার সামনে তখন একটি সহজ পথই খোলা থাকবে সেটা হল নিজ উপজেলায়/ গ্রামে গিয়ে ধীরে ধীরে জিপি বা জেনারেল প্র্যাকটিস শুরু করা। হয়ত কালের পরিক্রমায় জিপি হিসাবে ৫/৭ বছর পর তোমার ব্যাপক সুনাম হবে এবং তুমি একজন সফল চিকিৎসক হতে পারবে।

খ) যদি তোমার গ্রামের সাথে পরিচয় না থাকে, তবে শহরের কোন ক্লিনিক বা হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসাবে চাকরীর চেষ্টা করতে হবে। বড় শহরে যেহেতু সবাই ভীড় করে তাই তোমাকে চাকরীর জন্য মফস্বল শহর বেচে নিতে হবে স্বাভাবিকভাবে।

গ) যদি প্রফেসার ‘জ’ বা ‘ গ’ এর মত ব্যস্ত কনসালটেন্ট/ প্রফেসার হতে ইচ্ছা করে, তবে পুনরায় বিনা বেতনে ৮-১০ বছর পড়াশুনা/ ট্রেনিং এর জন্য ঝাপিয়ে পরতে হবে। খেয়াল রেখ ২০২৬ সালে তোমার বয়স ২৬ বছর, প্রকৃতির নিয়মে পড়াশুনা ছাড়াও জীবনের কিছু অত্যাবশ্যকীয় অনুসঙ্গ তোমার সাথী হবে।

৪) যদি তুমি ভিন্ন কিছু চিন্তা কর তবে, প্রাইভেট এ যে টাকা খরচ হবে তা ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখলে ৭ বছর পর টা ৫০-৬০ লাখ টাকা হবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোন সাবজেক্টে ভালভাবে পড়ে তুমি ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে নিজের কর্মসংস্থান করার একটা সুযোগ তৈরী করতে পারবে।

৫) প্রতিবছর বিসিএস এর মাধ্যমে সরকারী চাকুরীর সীমিত সুযোগ তৈরী হয়। তুমি যদি মেধাবী হও তবে যে কোন বিষয়ে ভালভাবে পড়াশুনা করে তা পেতে পার। বর্তমানে জেনারেল ক্যাডারে চাকরী পেতে যে তীব্র প্রতিযোগিতা হয় ৫/৭ বছর পর স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রতিযোগীতা ও সে রকম হতে বাধ্য।

৬) প্রতি ক্ষেত্রে কিছু এক্সট্রা অর্ডিনারী মানুষ থাকে, তারা যে বিষয়ে যাক না কেন তাতে সফলতা ছিনিয়ে নিতে পারেন। সে রকম যারা তাদের জন্য সমস্যা নেই। যেমন প্রফেসার আনিসুজ্জামান স্যার বাংলায় লেখাপড়া করে ও একজন দেশ বরেন্য মানুষ। তাই অন্যের যশ বা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের মোহে না পরে, শুধু চিকিৎসক পেশার প্রতি যদি তোমার তীব্র ভালবাসা থাকে তবে এই চ্যালেন্জ তুমি হয়ত নিতে পারবে।

তাই সিদ্ধান্তে নেবার আগে সবকিছু চিন্তা কর। বর্তমানে যারা নবীন চিকিৎসক সম্ভব হলে তাদের সাথে মত বিনিময় কর। কথায় আছে-‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’।

______________________________
অধ্যাপক ডা. একেএম রেজাউল করিম
Professor of Pediatric Hematology & Oncology

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়