Ameen Qudir

Published:
2019-05-01 13:08:46 BdST

অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল না করলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হারাবেন বাংলাদেশী চিকিৎসকরা:প্রসঙ্গে


 

 

ডাঃ আজাদ হাসান


সিওমেক।
২১ তম ব্যাচ।
___________________________

সম্প্রতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি-র নিউজ হতে জানতে পারলাম মেডিক্যাল কলেজের মান উন্নয়ন এবং ২০২২ সালের মধ্যে অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল না করলে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হারাবেন বাংলাদেশ-এর চিকিৎসকরা। এই শর্তের কথা, World Federation of Medical Education. জানিয়েছে।বস্তুত এ বিষয়টি মোকাবেলা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে কিনা কিংবা কি করা যেতে পারে তা নিয়েই আমার আজ লেখা।
প্রথমেই বলি, এটি ঝড়ের পূর্বাভাস মনে হচ্ছে!

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে এই দূর্যোগ হতে উত্তরণের উপায় কি?
আমার মতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ সমূহ অনতি বিলম্বে গ্রহন করা উচিত।
১) সম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্য দেশের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে একটি জরিপ পরিচালনা করা উচিত।
২) উক্ত জরিপ পরিচালনাকালে যেসব বিষয় নজরে আনতে হবে তা হলোঃ
ক) ছাত্র সংখ্যার অনুপাতে ক্লিনিক্যাল এবং নন্-ক্লিনিক্যাল সাবজেক্টে পর্যাপ্ত শিক্ষক আছে কিনা?
খ) ছাত্রদের জন্য পর্যাপ্ত ক্লাসরুম অর্থাৎ ডেমোনেস্ট্রেশন রুম, ডিসেকশন হল, আধুনিক সুবিধা সম্বলিত অডিও ভিজুয়েল এইড ফ্যাসিলিটি সম্বলিত লেকচার গ্যালারী আছে কিনা? হিস্টোলজীর পর্যাপ্ত স্লাইড ও ল্যাব, মিউজিয়াম আছে কিনা।
গ) ওয়ার্ডে ক্লাস নেয়ার জন্য ক্লাস রুমের বা স্পেস ব্যবস্থা আছে কিনা?
ঘ) ওয়ার্ডের ক্লাস রুম গুলোতে টিচিং দেয়ার মতো শিক্ষা উপকরণ আছে কিনা?
৪) উক্ত প্রতিবেদন-এর ভিত্তিতে মূল্যায়ন পূর্বক আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এক্জিস্টিং শিক্ষকদের সংখ্যা, ভৌত অবকাঠামো, লজিস্টিক সাপোর্ট এর দ্বার আমরা প্রকৃত পক্ষে ক'টি মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা করতে সক্ষম।
৫) এর পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন কোন মেডিক্যাল কলেজ নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া পূরণ সাপেক্ষে মান সম্মত মেডিক্যাল শিক্ষা প্রদান করতে সক্ষম। যে সব মেডিক্যাল কলেজ নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া পূরণ সাপেক্ষে মান সম্মত মেডিক্যাল শিক্ষা প্রদান করতে সক্ষম তাদের ব্যাপারে কোনো কিছু বলার নেই।
৬) কিনন্তু যে সমস্ত স্থানে পর্যাপ্ত শিক্ষক কিংবা ভৌত অবকাঠামো নেই, যে সব মেডিক্যাল কলেজ নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে অসমর্থ হবে তাদের ক্ষেত্র কি করা যায়?
ক) আমার মতে ভৌত অবকাঠামো আছে কিন্তু শিক্ষক স্বল্পতা এবং লজিস্টিক স্বল্পতা আছে সে ক্ষেত্রে, যেখানে ভৌত অবকাঠামো আছে সেখানে শিক্ষক এবং লজিস্টিক সাপোর্ট মবিলাইজ করতে হবে।

খ) এভাবে ভৌত অবকাঠামোকে প্রাধিকার দেয়ার পর প্রয়োজন মাফিক শিক্ষক এবং লজিস্টিক সাপ্লাই মবিলাইজ করে আমরা কতটি মেডিক্যাল কলেজ চালাতে সক্ষম সেটার একটা হিসাব বের করতে হবে। এরপর, এই সব মান সম্মত মেডিক্যাল কলেজ গুলো রেখে আর সব মানহীন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া উচিত।

৭) এখন প্রশ্ন হলো, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা ইতিমধ্যে মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে?

ক) আমার মতে, যারা ইতিমধ্যে মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়েছে, তাদের শিক্ষা জীবন যাতে কোনো ভাবে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে যেটা করা যায় সেটা হলো, উপযুক্ত ক্রাইটেরিয়া মেইনটেইন করতঃ যে সব মেডিক্যাল কলেজ মান সম্মত শিক্ষা প্রদান করতে সমর্থ হবে, বন্ধ কৃত কলেজ সমূহ হতে ছাত্রদেরকে ঐ সব মেডিক্যাল কলেজে ট্রান্সফার করতে হবে।


৮) এতো গেলো, সরকারী মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে, এখন প্রশ্ন হলো, বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ সমূহের ক্ষেত্রে কি করা যায়? প্রথম কথা হলো, মেডিক্যাল শিক্ষার মান রক্ষার ক্ষেত্রে কোয়ালিটির ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। সুতরাং যেহেতু প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ মানে ভিন্ন ভিন্ন মালিকানা, ভিন্ন ভিন্ন ম্যানেজমেন্ট তাই সরকারী মেডিক্যাল কলেজের মতো মানব সম্পদ বা লজিস্টিক মবিলাইজ করার সহযোগ নেই। তবে এক্ষেত্রে যদি দুটি প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অথরিটি একীভূত হয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা করতে সম্মত হয়, এবং সে ক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে সমর্থ হবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হন, তা হলে তাদেরকে এ সুযোগটা দেয়া যেতে পারে।
৯) এখন প্রশ্ন হলো, বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে ইতিমধ্যে ভর্তিকৃত ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কি হবে?
ইতিমধ্যে ভর্তিকৃত ছাত্রদের যাতে শিক্ষা জীবন নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে তাদেরকে বিভিন্ন বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুবিধা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল এডুকেশন উইং-এর তত্বাবধানে মাইগ্রেশন করার অনুমতি দিতে হবে। এজন্য তাদের ভর্তির জন্য অতিরিক্ত ফি না নিয়ে বরং পূর্বে ভর্তিকৃত (মানহীনতার কারণে বন্ধ হওয়া) মেডিক্যাল কলেজ হতে আনুপাতিক হারে জমাকৃত অবশিষ্ট টাকা ট্রান্সফার করার মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে। এরপরও যদি কিছু টাকা বাদ থাকে সেক্ষেত্র মেডিক্যাল এডুকেশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি যথেষ্ট যৌক্তিক মনে করেন তা হলে অতিরিক্ত ভর্তি ফি নেয়া যেতে পারে। ছাত্রদের শিক্ষাজীবন যাতে কোনক্রমে ব্যাহত না হয় সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

 

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়