|

নাটক দেখতে বসলে যে কারণে খেই হারায় দর্শক


Published: 2016-12-10 20:07:36 BdST, Updated: 2017-08-20 11:51:36 BdST


নাটকের মডেল ছবি।

 

 

রিমানা সেতু
______________________

সত্যি কথা বলতে এখনকার নির্মাতাদের নাটক দেখতে বসলে অল্পতেই খেই হারিয়ে যায়। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির মিউজিক লাভার টাটকা হেয়ার কাটের হালের ফ্যাশন অনুষঙ্গধারী নায়ক, টেডি বেয়ার জড়িয়ে ঘুম থেকে ওঠা গোলাপি রঙের প্লাস্টিক চামড়ার নায়িকা......দুইজনের দুইটা আইফোন থাকবে, নির্দিষ্ট একটা ক্যাম্পাস, ব্যাস।। হয়ে গেল।
কিউরিয়াস মাইন্ডস ওয়ান্টস টু নো "প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছেলে মেয়ে মানেই কি বিশাল বিশাল অংকের টাকাওয়ালা বাপের ছেলে মেয়ে?? বিশাল খাটে বিশাল টেডি বিয়ার জড়িয়ে ঘুমানো প্রিন্সেস???
আই থিংক বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে মেয়ে বলতে যা বোঝে তার জন্য অনেকটা দায়ী এই সময়ের নাট্যনির্মাতারা।
এই ব্রান্ড নিউ কার হাঁকানো ছেলেটার পাশের সীটেই যে ছেলেটা বসে আছে তার এই সেমিস্টারের টাকা টা মায়ের গয়না বন্ধক রেখে দেয়া হয়েছে। ছেলেটা এখন ভাবছে পরের সেমিস্টারের টাকা টা কি করে যোগাড় করা যায়। মাত্র পার্লার থেকে বের হওয়া মেয়েটাকে পাশ কাটানো মেয়েটা চিন্তায় আছে এই মাসে হোস্টেলের টাকা টা এখনো তো আব্বু পাঠালো না(!!)
অথচ আমাদের নির্মাতারা এসব গল্প চোখেই দেখে না। আমাদের নির্মাতাদের নাটক শুরু হয় বিশাল খোলা বারান্দায় কফির মগ হাতে হাটুর নিচে লেগিংস পরা মেয়েটাকে দিয়ে যে বাংলা কিংবা ইংলিশ কোনটায় ঠিক করে বলতে পারে না, আর শেষ হয় সোডিয়ামের নিচে নায়কের সাথে বিশাল সাইজের একটা হাগ দিয়ে। মাঝখানে দিয়াবাড়ি,হাতির ঝিল আর ইদানীং পুরান ঢাকা,টিএসসি,শাহবাগের ফুলের দোকান আসে মাঝেসাজে । ব্যাস।
অথচ এই শহরেই আরো কত অসংখ্য গল্প ছড়িয়ে আছে। প্রেমিকার জন্মদিনের উপহার কেনার জন্য রোজ সকালে ছেলেটার না খেয়ে থাকার গল্প ,জোর করে জোড়া লাগানো জুতার পিন ফুটে মেয়েটার পায়ে রক্তপাতের গল্প,রোজ বাসে সাদা ইউনিফর্ম পরা মেয়েটার গায়ে পৌঢ় সহযাত্রীর নোংরা স্পর্শের গল্প, বাবার ভেঙ্গে যাওয়া ঘড়ির কাচ কিংবা বোনের বেনী ধরে হ্যাচকা টানের গল্প। সেমিস্টার ফি না দিতে পারায় ছেলেটার িয়ার ড্রপের গল্প, রোজ ক্লাসের পর হাজার টা ছেলেমেয়ের খেটে খাওয়ার গল্প।
টিউশনি তে ছাত্রের মা যখন শেষ বিকেলে নাস্তা নিয়ে আসে তখন তাকেও অন্নপূর্ণা মনে হয়, ওখানেও গল্প থাকে।
গল্প থাকে রাস্তার ধারে বিবস্ত্র যুবতীর স্ফিত উদরে বেড়ে ওঠা অবৈধ শিশুর বৈধ হৃদস্পন্দনে। অথচ আমাদের নির্মাতা রা স্পাইক করা চুল আর মেকাপে ঢাকা মুখ, কফির মগ অথবা রেস্তোরার টুংটাং, ডিএসলারের ক্লিক ক্লিক কিংবা আইফোনের রিংটোন ছাড়া কোথাও কোনো গল্প খুজে পায় না।
নির্মাতা রা কেন বোঝে না যে নাটক হতে হয় একদম জীবন্ত , আটপৌরে জীবনের প্রতিচ্ছবি। সমাজের শুধু একটা ক্লাস নয়,প্রত্যেকটা ক্লাস উঠে আসবে সেই গল্পে, ওই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির টেডিবিয়ার জড়িয়ে ঘুমানো মেয়েটার পাশাপাশি ৩৫০ টাকার স্যালোয়ার কামিজ পরা মেয়েটার গল্পটা যতদিন নির্মাতা খুজে না পাবে ততদিন তার কাজটা ৪৫/৫০ মিনিটের বিনোদন মাত্র,শিল্প নয়।


_________________________

 

লেখক রিমানা সেতু
। শিক্ষক সাতরং স্কুল অব আর্ট

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।