Ameen Qudir

Published:
2019-10-30 20:17:38 BdST

সাকিবের সাময়িক নির্বাসন : নেপথ্যে থেকে যে জুয়াড়ি পেতেছিল ফাঁদ: জানুন তার পরিচয়


ডা. শামসুদ্দিন আহমেদ সুজন
________________________

কে এই দীপক অগ্রবাল!! যার জন্য আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার কাছে তথ্য গোপন করায় বিশ্বের একনম্বর ওডিআই অলরাউন্ডারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তবে দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় এক বছরের শাস্তি আপাতত স্থগিত থাকবে। ২০২০ সালে আবার মাঠে ফিরতে পারবেন সাকিব। সাকিবের এই বিরাট শাস্তির নেপথ্যে জড়িয়ে এক বুকি।নাম দীপক অগ্রবাল। সে একজন ভারতীয়। যাতায়ত ও হাত সারা দুনিয়ায় মানে ক্রিকেট বিশ্বে। ভারতীয় মিডিয়ায় তাকে নিয়ে লেখা হচ্ছে। সেসব লেখার নির্বাচিত অংশ প্রকাশ হল।
দীপক অগ্রবাল একজন ধুরন্ধর জুয়াড়ি হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত।

এই জুয়াড়ি আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) কালো তালিকাভুক্ত। তাই তার টেলিফোন কল রেকর্ড থেকে শুরু করে চালচলন, তার থাকা-খাওয়া সবকিছুর খোঁজখবরও রয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার কাছে।

এই জুয়াড়ি তার অপকর্মের জন্য আটকও হয়েছেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারতের রায়গড় শহর থেকে আরও দুই জুয়াড়িসহ আটক হয়েছিলেন তিনি। ওই সময়ে আটককৃতদের কাছ থেকে জুয়ার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়।

তখন ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ছত্তিসগড়ের পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে জুয়াড়ি চক্রের প্রধান দীপক অগ্রবাল ও তার দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।

ওই সময়ে তাদের কাছ থেকে জুয়ার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ল্যাপটপ, বেশ কয়েকটি মোবাইল ও ৮০ হাজার রূপি জব্দ করে পুলিশ। তবে জেল থেকে বেরিয়ে থেমে থাকেননি তিনি। চালিয়ে যান জুয়া।


জানা গেছে, ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে সাকিবের সঙ্গে দীপকের কথা হয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ চলাকালীন সাকিবের এক পরিচিতই দীপককে তার নম্বর দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে আবার নতুন করে দীপকের সঙ্গে কথা শুরু হয় সাকিবের।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় সাকিবকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন ভারতীয় বুকি। সাকিবকে হোয়াটসঅ্যাপ করে দীপক বলে, "আমরা এখনই কাজটা কবর, নাকি আমি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব!"

এই 'কাজ' শব্দ নিয়েই যত বিপত্তি। কী 'কাজ'? এই নিয়েই উঠেছে যাবতীয় প্রশ্ন। এরপর আইপিএল চলাকালীন হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে বেশ কিছু তথ্য সাকিবের কাছে চায় দীপক।

আগে দেখা করতে চাই, জুয়াড়িকে বলেছিলেন সাকিব__________

সাকিব আল হাসানের সাথে কী আলাপ হয়েছিল জুয়াড়ির? কি প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল সাকিবকে? এ নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট(আকসু) তাদের তদন্তে এ বিষয়গুলো খুঁজে পেয়েছে। তার কিছু অংশ প্রকাশ করেছে আইসিসি। তারা জানিয়েছে ওই জুয়াড়ির নাম দীপক অগ্রবাল । তার সাথে হোয়টসঅ্যাপে সাকিবের আলাপ হয়েছে।

দীপক আইসিসির সন্দেহভাজনদের একজন। আইসিসি জানিয়েছে, সাকিব তার সঙ্গে নিয়মিত কথা চালিয়ে গেছেন, কিছু মেসেজ মুছে ফেলেছেন ফোন থেকে, এমনকি ওই ব্যক্তির সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছেন।

 

২০১৭ (বিপিএল)
আইসিসির প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের বিপিএলের সময় সাকিবের পরিচিত এক লোকের কাছ থেকে তার ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন ভারতীয় জুয়াড়ি দীপক অগ্রবাল । ওই ব্যক্তির কাছে বিপিএলে খেলা আরও ক্রিকেটারদের ফোন নম্বরও চেয়েছিলেন আগারওয়াল।
নভেম্বরের মাঝামাঝিতে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে সাকিবের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চায় আগরওয়াল।


জানুয়ারি ২০১৮
সাকিবের সাথে তার দ্বিতীয় দফা যোগযোগ হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়। ওই টুর্নামেন্টের সময় আবার আগারওয়ালের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকবার আলোচনা হয় সাকিবের।



১৯ জানুয়ারির শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে সাকিব ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। সেদিন সাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান অগ্রবাল । সেখানে তিনি জানতে চান, ‘আমরা কি এখানে কাজ করব নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?’

এখানে ‘কাজ’ বলতে এখানে দলের ভেতরের খবর আগরওয়ালকে সরবরাহ করার কথা বোঝানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিসি। এই যোগাযোগের কথা সাকিব আইসিসি বা বিসিবি বা কোনো ধরনের দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষকে জানাননি।

চার দিন পর আবার অগ্রবাল মেসেজ পাঠান, ‘ব্রো, এই সিরিজে কিছু হবে?’

যথারীতি এই ঘটনাও সাকিব সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে জানাননি।

এপ্রিল ২০১৮

২৬ এপ্রিল আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলেন সাকিব। ম্যাচের দিন অগ্রবাল সাকিবের কাছে একজন ক্রিকেটারের ব্যাপারে জানতে চান যে সে ওই ম্যাচে খেলবে কিনা। আবারও জানতে চান দলের ভেতরের খবর।

এছাড়া সাকিবের সাথে বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট নিয়ে কথা বলেন আগরওয়াল। জানতে চান সাকিবের ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত। এই আলোচনার সময়ই সাকিব বলেন, যে তিনি আগে দেখা করতে চান অগ্রবাল র সাথে।

সেদিনের বেশ কিছু বার্তা সাকিব মুছে ফেলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানান, সেগুলো ছিল দলের ভেতরে খবর জানতে চাওয়ার
কথা।

আইসিসি জানিয়েছে, ওই আলোচনার পরই অগ্রবাল কে নিয়ে সাকিবের ভাবনা হতে থাকে। অগ্রবাল একজন জুয়াড়ি হতে পারেন ভেবেও সাকিবের ধারণা হয়। তবে সেদিনের কথাও সাকিব সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে জানায়নি।

তদন্তের জন্য এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ অগাস্ট সাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা। নিয়ম অনুযায়ী আকুস কোন ক্রিকেটারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে ওই দেশের বোর্ডকে না জানিয়েই। জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব জানান যে, অগ্রবাল র কাছ থেকে কয়েকবার প্রস্তাব পেয়েও তিনি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাননি। এটাও বলেন যে, তিনি জানতেন প্রস্তাব পেয়েও না জানানো মানে আইসিসির বিধি ভঙ্গ করা।

সাকিব দাবি করেছেন, অগ্রবাল র অনুরোধে সাড়া দিয়ে কোনো তথ্য তাকে দেননি। আগরওয়ালের কাছ থেকে অর্থ বা উপহারও নেননিও।

তিনবার প্রস্তাব পেয়েও কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কথা যেহেতু প্রমাণিত হয়েছে, তাই সে আইনে শাস্তি পেয়েছেন সাকিব।

আপনার মতামত দিন:


খেলা এর জনপ্রিয়