RAHANUMA NURAIN AONTY
Published:2026-01-28 20:52:45 BdST
১০টি মিনিটে ইউরিক অ্যাসিডের যন্ত্রণার উপশম , কী সেই পদ্ধতি, জেনে নিন
সংবাদ সংস্থা
_________________________
এ ব্যথা কী যে ব্যথা, আনজনে নয়, বোঝেন যাঁর হয়, একমাত্র তিনিই। ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে ব্যথা হয় হাড়ে, অস্থিসন্ধিতে। আর সে ব্যথা কখনও কখনও এতটাই মারাত্মক হয় যে রোগী পা-ও ফেলতে পারেন না।
শরীরের একটি স্বাভাবিক বর্জ্য হল ইউরিক অ্যাসিড। গৃহীত খাবারের মধ্যে থাকে পিউরিন। এই পিউরিন ভেঙেই তৈরি হয় ইউরিক অ্যাসিড। কিডনি অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের মতো এটিও রক্তে থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বার করে দেয়। কিন্তু যখন সেই কাজটি আর কিডনির পক্ষে করা সম্ভব হয় না বা ইউরিক অ্যাসিড মাত্রাতিরিক্ত তৈরি হয়, সমস্যা হয় তখনই। ইউরিক অ্যাসিড অস্থিসন্ধিতে ক্রিস্টালের আকারে জমতে শুরু করে। শুরু হয় প্রচণ্ড ব্যথা। একে বলা হয় ‘হাইপারইউরোসেমিয়া’।
ব্যথা কমানোর উপায় ওষুধ। তবে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন যাপন, খাদ্যাভ্যাসও এই সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত প্রোটিন, ডাল, কন্দজাতীয় খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ চলে আসে। তবে হাঁটাহাটি এবং শরীরচর্চার দৌলতেই কমতে পারে এমন সমস্যা। ওষুধ-নির্ভরতা কমাতে কোন ধরনের শরীরচর্চা কাজে আসবে?
হাঁটাহাটি: শুধু ওজন কমানোর জন্য বা খোলা হাওয়ায় হাঁটলে মন তরতাজা লাগে— এইটুকু দিয়ে হাঁটাহাটির উপকারিতা বিচার করা যায় না। ১০ মিনিট জোরে হাঁটা শরীরে অনেক ধরনের বদল ঘটাতে পারে। হাঁটলে ইনসুলিনের হরমোনের কার্যকারিতাও ঠিক আছে। কমে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও (ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ না করতে পারার প্রবণতা)। নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি বিপাকজাত ক্রিয়ায় তৈরি হওয়া শরীরের অপ্রয়োজনীয় প দ্রুত বার করে দিতে সাহায্য করে, বিপাক হার ভাল রাখে, ফলে কমে যায় প্রদাহ।
১০ মিনিটের কোন ব্যায়াম সমস্যা কমাতে পারে
১-২মিনিট: প্রথম দু’মিনিট রাখতে হবে ওয়ার্ম আপের জন্য। ওয়ার্ম আপ শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে পেশি নমনীয় হয়ে ওঠে, রক্ত সঞ্চালনও ভাল হয়। এটি অস্থিসন্ধিতে নির্দিষ্ট তরলের মাত্রা (লুব্রিকেশন) বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে নড়াচড়া করা সহজ হয়। ব্যথার ঝুঁকি কমে।
৩-৫ মিনিট জোরে হাঁটা: জোরে হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। শরীরের পেশি, প্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়ে ওঠে। মেরুদণ্ড সোজা রেখে হাঁটলে এবং দুই বাহু প্রসারিত করে হালকা শরীরচর্চা করলে কিডনির মতো প্রত্যঙ্গ ভাল থাকে, সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে। বাড়তি ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বার করে দেওয়ার জন্য কিডনির কার্যক্ষমতা ঠিক থাকা জরুরি।
৫-৭মিনিট স্ট্রেচ: কমিয়ে দিতে হবে হাঁটার গতি, হাঁটতে হাঁটতেই দুই বাহু প্রসারিত করে হালকা ব্যায়াম সেরে নিতে পারে। কোমর মোচড়ানোর কায়দায় বার কয়েক ঘুরিয়ে নিন। এতে পিঠের নিম্নাংশের পেশিগুলি শিথিল হয় এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। ফলে অস্থিসন্ধির ব্যথা কমতে পারে।
৮-৯ স্কোয়াট: মিনি স্কোয়াট খুব সহজ, কিন্তু তা হাঁটুর স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। তা ছাড়া, এই ধরনের ব্যায়াম শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করতেও সহায়ক। দুই পায়ের উপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। শিরদাঁড়া টানটান থাকবে। এই অবস্থায় হাঁটু সামান্য ভাঁজ করতে হবে, আবার পূর্বাববস্থায় ফিরতে হবে। ১ মিনিটে ৫টি স্কোয়াটই যথেষ্ট।
১০ মিনিট: শেষ মিনিটে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে গভীর ভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিতে হবে, ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে তা ছাড়তে হবে। এতে শরীরে অক্সিজেন চলাচল ভাল হয়, ফলে প্রদাহ এবং কষ্ট কমে।
দৈনন্দিন যাপন থেকে মদ্যপান, ধূমপান বাদ দিয়ে বা নিয়ন্ত্রণে রেখে এই ধরনের ব্যায়াম নিয়মিত করলে, শরীর ভাল থাকবে। ইউরিক অ্যাসিডের যন্ত্রণা ঠিক ততটাও ভোগাবে না।
সৌজন্যে আনন্দবাজার পত্রিকা
আপনার মতামত দিন:
