RAHANUMA NURAIN AONTY
Published:2026-01-17 20:10:50 BdST
থামছেই না হেঁচকি? কি করবেন
ডেস্ক
________________________
হঠাৎ শুরু হল হেঁচকি। এক গ্লাস জল খেলেন, একটু দম চেপে থাকলেন— ব্যাস, থেমে গেল। আমরা সাধারণত এভাবেই হেঁচকিতে অভ্যস্ত। কিন্তু সমস্যা বাড়ে তখনই, যখন এই হেঁচকি দীর্ঘক্ষণ বা কয়েক দিন যাবৎ চলতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘হেঁচকি’ (Hiccups), তা অনেক সময় সাধারণ শারীরিক অস্বস্তি ছাড়িয়ে বড় কোনও রোগের বিপদসংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কেন ওঠে হেঁচকি?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় আমাদের ফুসফুসের নিচে থাকা শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রধান পেশিটির নাম ডায়াফ্রাম। এই পেশিটি যখন হঠাৎ অনৈচ্ছিক ভাবে সংকুচিত হয় এবং সেই সঙ্গে ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী আচমকা বন্ধ হয়ে যায়, তখনই একটি অদ্ভুত শব্দ তৈরি হয়। একেই আমরা হেঁচকি বলি। সাধারণত দ্রুত খাবার খাওয়া, অতি মশলাদার খাবার, কার্বোনেটেড পানীয় বা অতিরিক্ত উত্তেজনার ফলে এটি হতে পারে।
কখন এটি আশঙ্কার কারণ?
চিকিৎসকদের মতে, হেঁচকি যদি ৪৮ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়, তবে তাকে অবহেলা করা উচিত নয়। দীর্ঘমেয়াদী হেঁচকি শরীরের গভীর কোনও সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
কী কী লক্ষণ?
স্নায়বিক সমস্যা: স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার বা মেনিনজাইটিসের মতো রোগের কারণে ডায়াফ্রামের নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবিরাম হেঁচকি উঠতে পারে।
পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা: ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’ (GERD) বা খাদ্যনালীর প্রদাহ থাকলে এমনটা হয়। এমনকী পেটের টিউমারও এর কারণ হতে পারে।
শ্বাসযন্ত্র ও মেটাবলিক সমস্যা: নিউমোনিয়া, কিডনি ফেইলিওর, রক্তে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা কিংবা থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তাও দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকির জন্য দায়ী।
সতর্কতা ও প্রতিকার
সাধারণ হেঁচকি কমাতে ঠান্ডা জল খাওয়া বা চিনি খাওয়ার মতো ঘরোয়া টোটকা কাজে লাগে। কিন্তু হেঁচকির সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি বা দ্রুত ওজন হ্রাসের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মনে রাখবেন, সময়মতো রোগ নির্ণয় বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করে।
আপনার মতামত দিন:
