Ameen Qudir

Published:
2020-03-16 20:18:34 BdST

“খাবার” এবং “কিটো খাবার”


ডা. তৌফিক আহমেদ
________________________

প্রায় আড়াই বছর প্রাণরসায়ন (বায়োকেমিস্ট্রি) বিভাগে প্রভাষক ছিলাম। সেই আলোকে “খাবার” এবং “কিটো খাবার” নিয়ে লেখার চেষ্টাঃ-

খাবার:- সংজ্ঞা কি?
শুরুতেই বাদ।

--------------------

খাবারের মৌলিক উপদানগুলো কি কি?

১. কার্বোহাইড্রেট (ভাত, গম, আলু, চিনি ইত্যাদি)
২. প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, শিমের বিচি ইত্যাদি)
৩. ফ্যাট (ডিম, দুধ, মাছ, মংস, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি)
৪. ভিটামিন (বিভিন্ন রকমের খাদ্য উৎসে বিভিন্ন পরিমান)
৫. মিনারেল (বিভিন্ন রকমের খাদ্য উৎসে বিভিন্ন পরিমান)
৬. ওয়াটার (পানি)
৭. ডায়েটরি ফাইবার (শাক-সবজি,শষ্যদানা, ফল-মূল ইত্যাদি)

------------------------------------

কোন খাদ্যে কোন ধরনের খাদ্য উপাদান আছে?
১. কার্বোহাইড্রেট (ভাত, গম, আলু, চিনি ইত্যাদি)
২. প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, শিমের বিচি, সয়াবিন ইত্যাদি)
৩. ফ্যাট (ডিম, দুধ, মাছ, মংস, সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি)
৪. ভিটামিন (বিভিন্ন রকমের খাদ্য উৎসে বিভিন্ন পরিমান)
৫. মিনারেল (বিভিন্ন রকমের খাদ্য উৎসে বিভিন্ন পরিমান)
৬. ওয়াটার (পানি)
৭. ডায়েটরি ফাইবার (শাক-সবজি,শষ্যদানা, ফল-মূল ইত্যাদি)

------------------------------------

পেট ভরানো ছাড়াও খাবারের আর কি কাজ?
১। শরীর গঠন করে। (আমিষ জাতীয় খাবার)
২। শক্তি যোগায়। (কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার)
৩। সুরক্ষা প্রদান করে। (ভিটামিন, মিনারেল)

------------------------------------

উপরের ২। নম্বর পয়েন্টে আসি। কোন খাবার থেকে কত শতাংশ শক্তি সরবরাহ করা আবশ্যক?
১. কার্বোহাইড্রেটঃ ৬০ ভাগ।
২. প্রোটিনঃ ১০ ভাগ।
৩. ফ্যাটঃ ৩০ ভাগ।

(ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের ডায়েটের মূল সমস্যাই হলো, ভাত/আলু/রুটি ইত্যাদির পরিমান থাকে প্রায় ৮০ শতাংশ। যার ফলে প্রোটিন ও ফ্যাট জাতীয় খাবারের আনুপাতিক রেশিও কমে যায়। অধিক ভাত ভুড়ি তৈরী করে যা সেন্ট্রাল ওবেসিটি নামে পরিচিত। এই ধরনের মোটা হওয়া ডায়েবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদির জন্য দায়ী। আরেক ধরনের মোটা হওয়া আছে, যার নাম পেরিফেরাল ওবেসিটি। ইউরোপিয়ান টাইপ, হাত, পা, শরীর সবকিছু সমান তালে মোটা হয়। ভুড়ির চর্বি সহজে যায় না।)

--------------------------------
শরীরে কোন খাবার কতটুকু প্রয়োজন হয়?
১. কার্বোহাইড্রেট = ৩০০-৫০০ গ্রাম প্রতিদিন।
সর্বনিম্নঃ ১০০ গ্রাম।
২. প্রোটিন = বড়দের জন্য শরীরের ওজন যত কেজি, তত গ্রাম, প্রতিদিন। বাচ্চাদের জন্য শরীরের ওজনের দ্বিগুন, প্রতিদিন।
সর্বনিম্নঃ ৪০ গ্রাম। (উদাহরনঃ যদি ওজন ৭০ কেজি হয় তাহলে প্রতিদিন ৭০ গ্রাম। সর্বনিম্ন ৪০ গ্রাম )
৩. ফ্যাট = ৫০-১০০ গ্রাম প্রতিদিন।
সর্বনিম্নঃ ৫০-১০০ গ্রাম।
৪. ভিটামিনমঃ- বিভিন্ন ভিটামিন বিভিন্ন পরিমান।
৫. মিনারেলঃ- বিভিন্ন মিনারেল বিভিন্ন পরিমান।
৬. ওয়াটারঃ বড়দের ক্ষেত্রে প্রতি কেজির জন্য ২৫-৪০ মিলি। ছোটদের ক্ষেত্রে প্রতি কেজির জন্য ১০০-১৫০ মিলি। (উদাহরনঃ কারো ওজন ৭০ কেজি হলে এবং কিডনী রোগ না থাকলে পানির দৈনিক চাহিদা= ১৭৫০ মিলি থেকে ২৮০০ মিলি প্রতিদিন)
--------------------------------

সর্বনিম্ন মাত্রার চেয়ে কম খেলে কি হয়?

১. কার্বোহাইড্রেট সর্বনিম্ন পরিমানের চেয়ে কম খেলে শরীর বিকল্প পদ্ধতিতে শরীরের প্রোটিন ও ফ্যাট ভেঙ্গে শরীর নামক যন্ত্রে শক্তি সরবরাহ বিকল্প করার রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু করে। কারন শরীর কোনো না কোনো বিকল্প উৎস থেকে হলেও শক্তি নিয়ে চলার চেস্টা করে শেষ পর্যন্ত। বাইপ্রোডাক্ট থেকে কিটোসিস নামক রোগ হয়। শরীর একসময় ভেঙ্গে যায়। বলা যেতে পারে, কারেন্ট নেই, তাই আইপিএস থেকে বিদ্যুৎ নেয়ার চেষ্টা।

২. প্রোটিন সর্বনিম্নমাত্রার চেয়ে কম খেলে শরীরে নেগেটিভ নাইট্রোজেন ব্যালান্স তৈরী হয়। শরীর গঠন হবে না, মাংসপেশী শুকিয়ে যাবে।

৩. ফ্যাট সর্বনিম্ন মাত্রার চেয়ে কম খেলে শরীরে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে ঢুকতে পারে না। যার ফলে এ, ডি, ই ও কে ভিটামেনর অভাবজনিত রোগ হয়। অন্যদিকে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এসেনসিয়াল ফ্যাটি এসিড তৈরী হয় না।

খেয়াল করলে দেখা যায়, ৩ টি প্রক্রিয়াতেই শরীরের ওজন কমে। ১নং এর দিকে দেখুন। শরীরের মূল জ্বালানী হলো গ্লুকোজ যা কাবোহাইড্রেট থকে আসে। যদি গ্লুকোজ না পাওয়া যায়, তাহলে বিকল্প জ্বালানী হলো, কিটোন বডি। শরীরকে তো চলতে হবে।

দীর্ঘদিন যাবত মাত্রাতিরিক্ত কম শর্করা খাওয়া, ডায়েবেটিস রোগী- এদের ক্ষেত্রে শরীরে ব্যবহার্য গ্লুকোজ এর মাত্রা কমে যায়, গ্লুকোজ এর মাত্রা কমে গেলে শরীরে ইনসুলিন এর মাত্রা কমে যায়, ইনসুলিন এর মাত্রা কমে গেলে শরীরের ফ্যাট ভাঙতে থাকে, ফ্যাট ভাংতে থাকলে শরীরে অতিরিক্ত ফ্রি ফ্যাটি এসিড তৈরী হতে থাকে, অতিরিক্ত ফ্রি ফ্যাটি এসিড বিটা-অক্সিডেশন নামক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গিয়ে অতিরিক্ত এসিটাইল-কোএ নামক রাসায়নিক তৈরী করতে থাকে, অতিরিক্ত এসিটাইল কোএ থেকে অতিরিক্ত কিটোন বডি তৈরী হতে থাকে। এই কিটোন বডি বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্রেইনে ব্যবহার হতে থাকে। একসময় এই কিটোন বডি রক্তে ও প্রসাবে চলে এসে কিটোসিস নামক রোগ তৈরী হয়। কিটোসিস থেকে কিটোএসিডোসিস নামক রোগ তৈরী হয়।

------------

কিটো ডায়েট নামে কোনো ডায়েট আমার প্রভাষক জীবনে পাইনি। যতটুকু ফেসবুকে দেখলাম, তাতে কিটো ডায়েট মানে ডায়েট প্লানিং এমন ভাবে সাজানো যাতে কিটোন বডি থেকে শরীর শক্তি গ্রহন করে। যেহেতু, ইহা সৃষ্টিকর্তার দ্বারা সৃষ্ট মানবশরীরে শক্তি সরবরাহের স্বাভাবিক কোনো প্রক্রিয়া নয়, সুতরাং, কিটো ডায়েটও কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়।

প্রভাষক জীবন থেকে এতটুকু বুঝেছি, মহান সৃষ্টিকর্তার তৈরী শরীরে অত্যাচার করতে নেই। তিনি যা স্বাভাবিক করে দিয়েছেন, সেই পথে চলুন। এশিয়ান বা ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের আবহমান কালের খাদ্যাভাসের অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট, ভাত, রুটি, আলু অংশটুকু বাদ দিয়ে পরিমিত পরিমান শর্করা, আমিষ, স্নেহ সহ অন্যান্য খাদ্য উপাদান গ্রহন করুন। সুস্থ থাকুন।

___________________

ডা. তৌফিক আহমেদ

আপনার মতামত দিন:


প্রেসক্রিপশন এর জনপ্রিয়