Ameen Qudir

Published:
2016-11-12 06:41:28 BdST

ওসিডির নানা গেরো ১৩ শুচি বাই


 

 

ওসিডির  ১৩ গেরো

ডা. মারুফ রায়হান খান


একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের প্রফেসর হিসেবে আছেন বদরুদ্দিন আহমেদ। তাকে ক্লাস নিতে যেতে হয় ৬ তলায়। যখনই তিনি বারান্দার সামনে দিয়ে যান প্রতিবারই তার বারান্দা থেকে লাফ দিতে ইচ্ছে করে।

২। রতন অনেকদিন হয় ভার্সিটিতে যায় না, ঘর থেকেও বেরুতে পারে না এখন। ক্লাসে গেলে যখনই সে তার নারী সহপাঠী কিংবা শিক্ষিকা দেখে তখনই তাদের পুরোপুরি নগ্ন একটা চিত্র তার চোখে ভেসে ওঠে। তীব্র অস্বস্তিতে ভোগে সে।

৩। শিরিনের প্রতিদিনই ক্লাসে যেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তার মা অনেক তাগাদা দিয়ে তাকে বাথরুমে পাঠায়, সে ঢুকতে চায় না দেরি করতে থাকে, আর একবার ঢুকলে বেরই হয় না। খেতে বসেই না, বসলে উঠতেই চায় না। বারবার সে হাত ধোয়, ধোয়া হাতই আবার ধোয়।

৪। হাসনা বেগম রাতে ঠিক ঘুমোতে পারেন না। একটু পরপর জেগে ওঠেন দরজাটা ঠিকমতো লাগানো হলো কিনা তা চেক করতে। প্রতিবারই উঠে দেখেন দরজা লাগানোই আছে, তবুও তার মনে সন্দেহ থেকেই যায় দরজা লাগানো আছে তো?

 

 

৫। সাব্বির কিছুতেই বুঝতে পারছে না তার এ কী হলো। মাসজিদ দেখলেই সেখানে প্রস্রাব করে দিতে ইচ্ছে করে তার।

৬। আইনের ছাত্র গৌরাঙ্গ চন্দ্রের মতে, মা কালী নাকি আগে দূরে ছিলেন। কিন্তু এখন তার এতটাই কাছে যে তিনি যখন খান-পান করেন সেগুলোর সাথে, তিনি যখন নিঃশ্বাস নেন তার সাথে মা কালী তার ভেতরে ঢুকে যায়।

৭। কর্পোরেট লেডি মুনমুন নাহার তার গৃহপরিচারিকাকে বলে রেখেছেন তার সামনে থেকে বটি-ছুরি এসব যেন দূরে সরিয়ে রাখা হয়। কারণ এসব ধারালো বস্তু দেখলেই তার ছেলের গলায় বসিয়ে দিতে ইচ্ছে করে।

 

৮. আনিস সাহেব বাজারে যেতে পারেন না। তার ধারণা, হঠাত কারও মোবাইল ফোনটা চুরি হয়ে যাবে। আর মানুষ তাকে চোর মনে করে মার দেবে।

৯. শোয়েবের অফিসে যেতে প্রতিদিনই দেরি হয়। কারণ কী? রাস্তা দিয়ে যাবার সময় তার প্রতিটা সাইনবোর্ড পড়তে হয়। একটু সামনে গেলে মনে হয় পেছনে একটা বাদ পড়েছে। আবার পেছনে যায়।

১০. নিগার বানু যখন টেবিল পরিষ্কার করতে যান, তার মনে হয় তিনি মাসিকের রক্ত পরিষ্কার করছেন।

১১. শারমিনের কী এক দুর্ঘটনা ঘটেছিল যেন মঙ্গলবার। এরপর থেকে মঙ্গলবার এলেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সে অত্যন্ত আতঙ্কে থাকে এই বুঝি আবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটলো।

১২. সুস্মিতা গর্ভবতী হবার পর থেকে তার মনে একটা অদ্ভুত ধারণা জন্মেছে। তার পেটে মানুষ না হয়ে যদি সাপ জন্মে! তাহলে কী হবে? এই চিন্তায় সে আর রাতে ঘুমোতে পারে না।

১৩. নরেশ ক্লাস ফোরে পড়ে। তার বইয়ে সাপের ছবি ছিল। যখনই সে ছবিতে হাত দিলো তার মনে হলো সেই সাপের বিষ তার ভেতর ঢুকে গিয়েছে।

 

  

 

নামগুলো ছাড়া উপরের সবগুলো ঘটনাই মোটামুটি সত্যি। উপরের ১৩ জন মানুষই যে মানসিক রোগটিতে ভুগছেন তার নাম অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD)। যতোগুলো মানসিক রোগ আছে তার মধ্যে এ রোগটি অন্যতম কষ্টদায়ক একটি রোগ। এটি যে কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা দেয় তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ বোঝে না। আমাদের আশেপাশেই হয়তো এমন মানুষ আমরা পাব। আশার কথা হচ্ছে এ রোগটির ভালো চিকিৎসা আছে। বর্তমানে বিএসএমএমইউতে একটি আলাদা ওসিডি ক্লিনিকই আছে যেটা প্রতি মঙ্গলবার আয়োজিত হয়। এখানে ওষুধের পাশাপাশি রোগীকে এক্সপোজার এন্ড রেসপন্স প্রিভেনশান থেরাপিও সফলভাবে দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওসিডি নিয়ে আরও কিছু লেখার আশা রাখি।


লেখক : চিকিৎসক। গবেষক। Intern Doctor at Enam Medical College & Hospital
Chief Editor Of Publications Department at Asian Medical Students' Association-Bangladesh

আপনার মতামত দিন:


প্রেসক্রিপশন এর জনপ্রিয়