SAHA ANTAR

Published:
2022-06-01 20:20:06 BdST

প্রেমিকাকে বিয়ে করার জন্য ওষুধ সেলসে কাজ করেছেন কেকে




অন্তর সাহা
__________________________

বাংলাদেশসহ সারা ভারতবর্ষ জুড়ে কেকে-এর অনুরাগীর সংখ্যা প্রচুর। তাই তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ উপমহাদেশ । তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কথা শুনলেও মুগ্ধ হতে হয়। কখনও কঠিন সময়ে একে অপরকে ছেড়ে যাননি কেকে ও তাঁর স্ত্রী জ্যোতি কৃষ্ণা (KK and Jyothy Krishna)। পাশে ছিলেন। তাঁদের সম্পর্কের এই রসায়ন থেকে কী কী শিখতে পারি আমরা? এক সময় তিনি প্রেমের জন্য ওষুধ সেলসেও কাজ করেছেন। তাকে নিয়ে অনলাইন মিডিয়া এই সময়ের একটি অনন্য লেখা পাঠকদের জন্য।


একটা সকাল। যেখানে নেই কেকে(KK) ওরফে কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ। অথচ গত সন্ধ্যাতেও তিনি পারফরম্যান্স করেছেন। গান গেয়েছেন মঞ্চে। এক বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী, যার ভারত জোড়া খ্যাতি। কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কেকে। আজ সকালে তাঁর পরিবার এসে পৌঁছায় কলকাতায়। শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসেবেই নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনও খুবই সুন্দর ছিল তাঁর। স্ত্রী জ্যোতি কৃষ্ণার সঙ্গে আজ ৩০ বছরের বেশি দাম্পত্য জীবন। হঠাৎ সব ছেড়ে চলে গেলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই খুব ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী (KK Wife)। শুধুই ৩১ বছরের দাম্পত্য জীবন নয়, তার আগেও বেশ কয়েক বছরের সম্পর্ক ছিল তাঁদের। প্রেমিকা জ্যোতিকেই বিয়ে করেছিলেন কেকে। আজ তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক, তাঁদের অসাধারণ রসায়ন থেকে কী কী জানতে পারি আমরা… কী শেখায় তাঁদের এই সুন্দর সম্পর্ক…(ছবি- ইনস্টাগ্রাম @Jyothy Krishna, kk_live_now)
সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস

সময় এগোলেও সমাজের নিয়ম বদলে যায়নি। না এখন না আজ থেকে ৩০ বছর আগে। কিন্তু তখনও প্রেমের সম্পর্ক পূর্ণতা পেয়েছে। আর এখনও পায়। তার জন্যই সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। সঙ্গীর প্রতি ভরসা করতে পারলে ও সঙ্গীর উপর বিশ্বাস রাখলে হয়তো অনেক সম্পর্কই সহজ হয়ে যায়। মাঝ পথে হাত ছেড়ে যায় না তাঁদের। কেকে ও জ্যোতির ক্ষেত্রেও তার প্রমাণ পাই আমরা। শোনা যায়, কৈশোর জীবন থেকেই একে অপরের সঙ্গে পরিচয় ছিল তাঁদের। কৈশোরের প্রেম জ্যোতির হাত ছেড়ে যাননি কেকে। এদিকে কেকে যখনও প্রতিষ্ঠিত নয়, তখন তাঁর প্রতি বিশ্বাস রেখেছিলেন কেকের স্ত্রী জ্যোতি।

সঙ্গীর সুসময় যেমন আমরা পাশে থাকি। তেমনই দুঃসময়েও পাশে থাকা প্রয়োজন। কঠিন সময় হাত ছেড়ে যাওয়া কোনও কাজের কথা নয়। একে অপরের উপর বিশ্বাস থাকলে, ভরসা থাকলে এক সময় সুদিনের সাক্ষী থাকা যায় একসঙ্গে।

প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা

বিয়ের আগে পাত্রের চাকরি নিয়ে খোঁজখবর চালায় পাত্রীর পরিবার। এই নিয়ম না এখন বদলেছে না নয়ের দশকে তার কোনও অন্যথা হয়েছে। প্রেমিকের চাকরি না থাকায় কত মেয়েকে চোখের জল ফেলতে হয়েছে নীরবে। কারণ, বাড়ি থেকে সম্পর্কের বিষয়টি মানবে না। ‘বেকার’ ছেলের সঙ্গে কোনওভাবেই বিয়ে দেবে না। বিয়ে করার জন্য ছেলেটির চাকরি খুবই প্রয়োজন। এখনও তাই ছেলেটির চাকরির উপর খুব জোর দেওয়া হয়। কেকে-কেও এই পরিস্থিতির মধ্য়ে পড়তে হয়েছিল। প্রেমিকাকে বিয়ে করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সময় পাশে ছিলেন জ্যোতি।

এই বিষয়টিই আমাদের শেখা প্রয়োজন। আমাদের জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কী, গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি কে? তাঁর জন্য আমাদের কখনও কখনও নিজের ইচ্ছের উর্ধ্বে উঠেও সঙ্গীর কথা ভাবতে হয়। একসঙ্গে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে হয়। এভাবেই তো পথ চলার শুরু, হাত ছেড়ে গেলে হবে?

প্রেমিকাকে বিয়ে করার জন্য ওষুধ-সেলসের চাকরি কেকে-এর

এই কথা শুনে অবাক হবেন না! সম্পর্কের সমীকরণগুলিই তো এমন। আমরা আমাদের সম্পর্ককে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য় কতটা চেষ্টা করতে পারি! ১৯৯১ সালে বিবাহ বন্ধনে বাঁধা পড়েন কেকে ও জ্যোতি। তবে এই বিয়ে পর্যন্ত পথ এত সুমসৃণ ছিল না। সেই সময় কোনও চাকরি করতেন না বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী। তাই তাঁর উপর চাকরির চাপ তো ছিলই। কারণ ‘বেকার’ ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু প্রেমিকার সঙ্গেই বিয়ে করবেন, এই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন তিনিও।

একটি চ্যাট শো-এ কেকে জানিয়েছিলেন, একপ্রকার বাধ্য হয়েই জ্যোতিকে বিয়ে করার জন্য ওষুধ-সেলসের চাকরি নিয়েছিলেন কেকে। সেই সময় সেভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছিল। তারপর থেকে ৩১ বছর পার হয়েছে। একে অপরের হাত ছেড়ে দেননি তাঁরা। যদিও সেই সেলসের চাকরি খুব বেশিদিন করতে পারেননি শিল্পী। বরং, তিন মাস পরেই তাঁকে সেই চাকরি ছাড়তে হয়েছিল।

 

কঠিন সময়ে পাশে থাকা

যেসময়ে কেকে ও জ্যোতির সম্পর্ক ছিল সেই সময় প্রতিষ্ঠিত শিল্পী ছিলেন না কেকে। ১৯৯১ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। কেকে-এর প্রথম অ্যালবাম মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। আজ দুই দশক পরেও তাঁর প্রত্যেকটি গান একইভাবে জনপ্রিয়, যেন চিরসবুজ।

একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষকে বিয়ে করলে হয়তো জীবন অনেক সহজ হতে পারে। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের স্বপ্নপূরণের পথচলার সঙ্গী হওয়ার আনন্দ অনেক বেশি। সেই পথচলায় বারবার বাধা আসতে পারে। কঠিন সময় আসতে পারে। কিন্তু সঙ্গীর স্বপ্নপূরণের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হয় কি? তাই আপনার সঙ্গীর পাশে থাকুন। কঠিন সময়ে তাঁকে সমর্থন করুন। একে অপরের পাশে থাকলে আপনাদের জীবন অনেক সহজ হবে। পথচলা সহজ হবে।

দুজনের পেশা আলাদা হলেও হবে…


জ্যোতি ও কেকে-এর পেশা একই নয়। পেশায় সঙ্গীতশিল্পী কেকে-এর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। এমনকী তাঁর স্টারডমের কোনও প্রভাবও পড়েনি সম্পর্কে। দুজনের দাম্পত্য জীবন সত্য়িই এক উদাহরণ হতে পারে আমাদের কাছে। কেকে ও জ্যোতির দুই সন্তান রয়েছে। নকুল ও তামারা।

অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর পেশা আলাদা হলেও তার প্রভাব পড়ে সম্পর্কে। সঙ্গীর খ্যাতির কারণে অনেক সময় দূরত্ব তৈরি হয় সম্পর্কে। তা হওয়া উচিত নয়। আপনার খ্যাতি আপনার পেশাগত জীবন ব্যক্তিগত জীবন থেকে আলাদা রাখা যেতে পারে। তাহলেও সম্পর্ক সুন্দর থাকে। সৌজন্য এই সময়

আপনার মতামত দিন:


ফার্মাসিউটিক্যালস এর জনপ্রিয়