Ameen Qudir

Published:
2020-02-04 18:05:09 BdST

ক্যানসারের ওষুধে বাংলাদেশে বীকন এখন সেরা


 

এবাদুল করিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বীকন ফার্মা। ছবি প্রথম আলো।
ডেস্ক
____________

ক্যানসারের ওষুধে বাংলাদেশে বীকন এখন সেরা। বাংলাদেশের শীর্ষ জনপ্রিয় দৈনিক প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ হয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০ প্রথম আলো প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এখানে পাঠকদের জন্য পুরো প্রতিবেদন প্রকাশ হল।


মোহাম্মদ এবাদুল করিম ওষুধবিজ্ঞানী নন। কিন্তু বাংলাদেশের ওষুধে তিনি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্যানসারের ওষুধের মান ভালো, দাম কম। ১৩৪টি দেশের রোগীরা ব্যবহার করছেন। এবাদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করে—এমন উদ্যোগই নিয়েছি।’

দেশে নিবন্ধিত ওষুধ কোম্পানি ২৫৭টি। এর মধ্যে চালু আছে ১৯০টির মতো। বীকন তার একটি। বীকনের যাত্রা শুরু ২০০৭ সালে। তারা ক্যানসারের ওষুধ প্রথমে বাজারে আনে ২০০৯ সালে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করে পুরোনো অনেক কোম্পানিকে পেছনে ফেলে বীকন সামনে চলে এসেছে। ১০ বছরে ক্যানসারের ওষুধে তারা এখন দেশের সেরা। তাদের অবস্থান আরও সংহত হচ্ছে। কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি ক্যানসারের ওষুধের বাজার দখল করে ছিল। এখন তাদের ব্যবসা সংকুচিত হয়েছে।


নেপালের নাগরিক জয়া শ্রেষ্ঠা ও সাভিনা শ্রেষ্ঠা স্বামী ও স্ত্রী। পেশায় দুজনই চিকিৎসক। স্ত্রী সাভিনা শ্রেষ্ঠা ফুসফুস ক্যানসারে ভুগছেন। সাভিনা নিয়মিত বীকনের ওষুধ সেবন করেন। টেলিফোনে জয়া শ্রেষ্ঠা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইউরোপের কোম্পানির ওষুধের দাম অনেক বেশি। কিন্তু বীকনের ওষুধের দাম কম, মান ভালো। আমরা সন্তুষ্ট।’


ইউরোপ বা আমেরিকার ক্যানসারের ওষুধের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এবাদুল করিম বলেন, ‘আমরা সেই কথা মনে রেখে ক্যানসারের ওষুধ তৈরিতে মনোযোগ দিয়েছিলাম।’ তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ক্যানসার ওষুধের বাজারের প্রায় অর্ধেক বীকনের দখলে।

গত সপ্তাহে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় বীকনের প্রধান কার্যালয়ে প্রথম আলোর প্রতিনিধির সঙ্গে বীকনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবাদুল করিমের কথা হয়। একসময় ঠিকাদারির ব্যবসা করেছেন। এখন জাতীয় সংসদের সদস্য। ওষুধের ব্যবসার সঙ্গে পারিবারিক যোগসূত্রের উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘অন্য কোনো পণ্য তৈরির সঙ্গে ওষুধ তৈরির পার্থক্য আছে। আবার ওষুধের মধ্যে ক্যানসারের ওষুধ তৈরি করার ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতাও আছে। কিন্তু দেশের অগণিত রোগীর কথা মাথায় রেখে ক্যানসারের ওষুধ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাস্ট্রা জেনেকা কোম্পানির ‘টেগ্রিসো’ নামের ফুসফুস ক্যানসারের ৮০ মিলিগ্রামের ৩০টি ওষুধের দাম ১০ হাজার মার্কিন ডলার। ওই একই ট্যাবলেটের বীকনের ব্র্যান্ডের নাম ‘ট্যাগরিক্স’। ৩০টির দাম ৪৫০ মার্কিন ডলার।

নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইনে পণ্য উৎপাদনে কিছু ছাড় পায়। সেই আইনের আওতায় উন্নত বিশ্বের পেটেন্ট করা ওষুধ বাংলাদেশের কোনো কোম্পানি উৎপাদন করতে পারে। বিভিন্ন ওষুধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো তা–ই
করছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে বীকন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, বীকনের ওষুধের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। দরিদ্র ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় বীকনের অবদান অনস্বীকার্য।

কিছু দেশে বীকন ওষুধ রপ্তানি করে। আবার কিছু দেশের রোগীদের কাছে ওষুধ পাঠানোর জন্য ‘গ্লোবাল পেশেন্ট কেয়ার সার্ভিসেস’ নামে পৃথক বিভাগ আছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে রোগীরা ওষুধের চাহিদা পাঠান। বীকন কুরিয়ার সার্ভিসে ওষুধ পাঠিয়ে দেয়।

এই বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মনজুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ইউরোপের বেশ কিছু দেশ যেমন ইতালি, রোমানিয়া থেকে রোগীরা বাংলাদেশে এসে তিন থেকে ছয় মাসের ওষুধ নিয়ে যান। খরচে তাঁদের পুষিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এখন পাকিস্তানের বহু রোগী কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ওষুধ নিচ্ছেন।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের অনকোলজি দেশীয় বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মাহবুবুল হক বলেন, বীকনের কর্মকর্তারা ক্যানসারের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। বীকনের ওষুধকে পরিচিত করাই থাকে মূল উদ্দেশ্য। বিদেশিদের অনেকেই ওষুধের দাম জেনে বিস্মিত হন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অন্য দেশের অনেকে ওষুধের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বীকনের কর্মকর্তারা মনে করেন, দেশের ক্যানসারের রোগীদের একটি বড় অংশ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যায়। প্রতিবেশী দেশে চিকিৎসা নিয়ে ফেরত আসার সময় অনেকে ছয় মাস বা এক বছরের ওষুধ নিয়ে আসেন। প্রতিবেশী দেশের চিকিৎসকেরা রোগীকে সেভাবেই পরামর্শ দেন। এই প্রবণতা দেশের ক্যানসারের ওষুধের জন্য বড় বাধা।

ওষুধের মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন এবাদুল করিম। তিনি বলেন, ওষুধশিল্পের স্বার্থে ওষুধের মান ঠিক রাখা দরকার। এতে ব্যবসাও ভালো হয়। ওষুধের মানের ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উচিত নিজেদের জনবল বাড়িয়ে কারখানাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো।

এই সাংসদ মনে করেন, বাংলাদেশে ওষুধের দাম কম। দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া মান্ধাতার আমলের। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে নকল ওষুধ। ছাপা ও প্যাকেজিং শিল্পের বিকাশের কারণে অসাধু ব্যক্তিরা অন্যের মোড়ক তৈরি করে ওষুধের নামে ভেজাল ছড়াচ্ছে বাজারে। এতে রোগী ও চিকিৎসক প্রতারিত হচ্ছেন। বড় কোম্পানির সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

বাংলাদেশ ওষুধের ৯০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করে। বীকন নিজেরা কাঁচামাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন কারখানা তৈরি হবে শিগগিরই। এবাদুল করিম বলেন, আমেরিকা বা ইউরোপের মানের সমান্তরাল হবে বীকনের ওষুধের মান।

আপনার মতামত দিন:


ফার্মাসিউটিক্যালস এর জনপ্রিয়