SAHA ANTAR

Published:
2022-05-18 10:11:02 BdST

হার্টের অসুখ কি শনাক্ত না হওয়া T2 ডায়বেটিস?


ডা. সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় ডায়াবেটিস এনডোক্রাইনোলজি কনসালটেন্ট

 


ডা. সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়
ডায়াবেটিস এনডোক্রাইনোলজি কনসালটেন্ট
___________________________

হার্টের অসুখ কি শনাক্ত না হওয়া T2 ডায়বেটিস?
চিকিৎসা বিজ্ঞানী রা বলছেন যে কার্ডিও মেটাবলিক সিন্ড্রোম অথবা মেটাবলিক সিন্ড্রোমের আসল কারণ হলো, ইনসুলিনের মাত্রা রক্তে থাকে অসম্ভব মাত্রায় বেশি। এক্ষেত্রে অনেক সময়েই খালিপেটে ইনসুলিনের মাত্রা অত্যধিক বেশি থাকে।
কখন বা কেন এই মাত্রা রক্তে বেশি থাকবে?
উত্তর সহজ। যখন ইনসুলিনের স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে পারবে না, তার নাম ইনসুলিন রেজিস্টেন্স। তখনি আমাদের শরীরের অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ গুলি বেশি বেশি করে ইনসুলিন তৈরী করে এই বাধা অতিক্রম করতে চাইবে।
স্বাভাবিক এবং সঙ্গত প্রশ্ন কেন এই ইনসুলিন রেজিস্টেন্স? কি এর কারণ?
চিকিৎসা বিজ্ঞানী রা বলছেন, এর কারণ অনেকপ্রকার, তবে প্রথম ও প্রধান কারণ হলো ইনসুলিন নিজেই।
গোলমেলে শোনাচ্ছে?
নাহ্। আমরা যদি সারাদিন বা দিনের অধিকাংশ সময় এমন খাদ্য খেতে থাকি যে তার জন্যে ইনসুলিনের ক্ষরণ বেশি হয়, তবে, কোষগুলিকে ইনসুলিনের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্যই ইনসুলিন রেজিস্টেন্স এর প্রয়োজন।
কারণ, অধিক ইনসুলিন কোষে কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করিয়ে দেবে এবং এই গ্লুকোজ ক্রেবস এর চক্রে এসে কোষের ব্যাটারি বা মিটোকন্ড্রিয়া কে উদ্দীপিত করবে আরো আরো শক্তি উৎপাদন করতে।
কিন্তু ঠিক ঐ বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন নেই শরীরের , তখন স্রেফ নিজ মিটোকন্ড্রিয়া কে অকারণ উদ্দীপ্ত না করার জন্যে, বা নিজেদের বাঁচানোর জন্যে ই এই ইনসুলিন রেজিস্টেন্স।
আমাদের শরীর এখনো এই বিপুল ইনসুলিনের অভিঘাত সামলাতে প্রকৃষ্টভাবে অভিযোজিত হয়নি বিবর্তনের ধারায়।
অস্যার্থ, হোমো স্যাপিয়েন্স প্রজাতি এইভাবে বার বার বিপুল পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট গ্রহণে নিজেকে অভিযোজিত করে উঠতে পারে নি এখনো।
আসলে কৃষির আবিষ্কার ৫০০০ থেকে ৮০০০ বছর আগে। লক্ষ্য করুন, আমাদের বিবর্তন চক্রে নিকটাত্মীয়, বাঁদর বা শিম্পাঞ্জি কেউ কৃষির ব্যবহার জানেনা।
কয়েক কোটি বছরের মানবেতিহাসে এ এক ক্ষুদ্র অনুপল বই কিছু নয় কিনা!
এবারে রক্তে অধিক ইনসুলিন এবং ইনসুলিন রেজিস্টেন্স একসঙ্গে থাকলে তাকেই বলা হয় মেটাবলিক সিন্ড্রোম।
তাতে কি হলো??
অনেক কিছু হলো।
এই দুই অবস্থায় শরীরে এক পর্যায় শুরু করে, যার প্রভাবে Vascular endothelium বা সোজা বাংলায় রক্ত বহনকারী ধমনীর ভেতরের ছোট কোষকলা র প্রদাহ শুরু হয় এবং এই মূল্যবান কোষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এর প্রমাণ মেলে বিভিন্ন অপ্রত্যক্ষ্য বা Surrogate চিহ্ন গুলি বাড়তে থাকায়। TNF - Alpha বাড়ে, বাড়ে শরীরে র ফ্যাট কোষ গুলির আকার, এবং এই কোষ গুলিতে ইনসুলিন এর সিগন্যালিং ও ত্রুটিপূর্ণ হয়, কমতে থাকে Adiponectin, বাড়তে থাকে Leptin। এ ছাড়া অধিক ইনসুলিন ও ভাসকুলার এন্ডোথেলিয়াম এর জন্যে সুখপ্রদ নয় আদৌ, বেশি গ্লুকোজ ও গ্লাইকেশন ড্যামেজ করে বৈকি। IGF -1 বা ইনসুলিন লাইক গ্রোথ ফ্যাক্টর আরো বেশি বেশি ক্ষরণ হয়, যা ক্যান্সারের একটি কারণ বলে পরিচিত৷ এই অধিক ইনসুলিন ই অারো অনেক রোগের, অগ্রগামী।
দেখা গেছে যতো এই ইনসুলিন রেজিস্টেন্স বাড়ে , তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, প্রায় 40 X অনুপাতে বাড়ে অন্য অসুখ।
প্রায় এই সময়েই সম্ভব হলো LDL Cholesterol এর মাপ নির্ণয় করা। দেখা গেল, পরিবর্তিত LDL cholesterol পাওয়া গেল Vascular endothelium এ। একে দোষী বলে দাগিয়ে দেওয়া হলো, একগুচ্ছ ওষুধ বের হোলো একে কম করার এবং তা বিক্রি করে বিপুল বিশাল ব্যবসা করলো বহু ফার্মা কোম্পানি। কিন্তু রোগীর লাভের লাভ তেমন হলো না।
প্রসঙ্গতঃ সেরাম ইনসুলিন এর পরিমাপ করা এতো সহজ ছিল না, কিছু বছর আগেও।
LDL cholesterol এর মাত্রা দিয়ে প্রায় কিছুই বোঝা যায় না বললেও অত্যুক্তি হলো না। কারণ অধিকাংশ LDL ই ভালো এবং প্রয়োজনীয় ও বটে। খারাপ হলো তারা যারা এই প্রদাহের মধ্য পড়ে জারিত বা Oxidized হয়ে Vascular endothelium এর মধ্যে ঢুকে পড়লো। এইবার LDL cholesterol এরও অংশ গুলি জানা গেল। এদের নাম দেওয়া হলো যথাক্রমে L1,L2, L3, L4, L5, L6.। এর মধ্যে প্রথম তিনটি কে বলা হলো নেটিভ, এরা আদৌ ক্ষতিকর ই নয়। ক্ষতিকর হলো পরের তিনটি, যাদের সুস্থ মানবদেহে দেখা মেলে না কখনো।
দেখা গেছে যতো বেশি এই জারণ চলে ততো বেশি ক্ষতিকর হয়ে ওঠে এরা। এমনকি কম জারিত বা L4 যে বেশি জারিত L6 এর থেকে বেশি ক্ষতিকর, এমন টিও নয় কিন্তু।
নিরাময় -- মূল কারণের চিকিৎসা। কারণ গুলির চিকিৎসা না করলে রিস্ক ফ্যাক্টর বাড়তেই থাকবে।
ধূমপান, অপরিমিত বা নিয়মিত সুরাপান,ও স্থূলতা, মধ্যপ্রদেশের কমলকুসুমিত হওয়াই এর নিদর্শন।।

________________________

ডা. সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় ভারতবর্ষের একজন শীর্ষ
ডায়াবেটিস এনডোক্রাইনোলজি কনসালটেন্ট ;তিনি মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। এমডি করেছেন। কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও মাদ্রাজ মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
তিনি বাংলা, ফরাসী , ইংরাজী সহ বহুভাষায় পারদর্শী।

আপনার মতামত দিন:


মেডিক্যাল ক্যাম্প এর জনপ্রিয়